ভারসাম্য ও সাত্ত্বিক আহার

in #health23 hours ago

ব্যক্তি যে আহার গ্রহণ করে তার প্রভাব তার শরীরের সর্বাঙ্গে পড়ে। আমজনতার ধারণা আছে যে শক্তি প্রদানকারী আহার অনেকখানি করে খেতে হয়। ইহা একটি বন্ধুল ভুল ধারণা। বাস্তবে অতিরিক্ত ভোজনে শরীরে অতিরিক্ত স্নেহপদার্থ (ঋধঃ) এর আধিক্য ঘটে। ইহা অপুষ্টির নামান্তর। শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমলে বহুরোগের সূচনা হয়ে যায়। প্রকৃত পক্ষে সুসাস্থ্যের জন্য সবুজ শাকসবজি গ্রহণ করা আবশ্যক।

মাংসে প্রচুর শক্তি ও প্রচুর প্রোটিন আছে সত্যি কিন্তু ইহার মধ্যে রক্তে কোস্ট্রেলের মাত্রা অধিক থাকার জন্য হৃদরোগ হবার সম্ভাবনা বহুলাংশে থেকে যায়। মাংসাহারে শরীরে ইউরিয়া এবং ইউরিক এ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে পেশী ও হাড়জনিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। যখন ককোন প্রাণীকে হত্যা করা হয় তখন তার শরীরের ভয়জনিত কারণে প্রচুর পানি এড্রিনালিন (অফৎবহধষরহব) নোর এড্রিনালিন (ঘড়ৎধফৎবহধষরহব) রক্তে মিশে যায়। এসব দ্রব্য ব্যক্তির সাস্থ্যের পক্ষে হানিকারক। সুতরাং পশুকে হত্যা করলে তার মাংস ইসব হানিকারক নিঃসরণ মিশে যায় বলে ঐ মাংস মানুষের পক্ষে স¦াস্থ্যপ্রদ হয় না বরং বহুলাংশেই ক্ষতিকারক।

কিছু মানুষ ভাবেন নিরামিষ খাদ্যে প্রয়োজনীয় প্রোটিন নেই। এই ধারণা ও ভুল। আর এই মান্যতার ভিত্তিতে সত্যতা নেই, কারণ আমারে শরীরের প্রকৃতিগত কারণে এমন কিছু সুবিধা আছে যে কম আবশ্যক অ্যামাইনো এ্যাসিড (অসরহড় অপরফ) থেকে শরীর আবশ্যক এ্যামাইনো এ্যাসিড নির্মাণ করে নিতে পারে। সাথে সাথে এটি বিষয়ের প্রতি আমাদের মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন যে মানব শরীরের সংরচনা শাকাহারী ভোজনের উপযুক্ত। মানুষের দাঁত, নখ মাংসাশী হবার অনুকূল হয় উপরন্তু মানুষের পাচনতন্ত্রও মাংস হজম করার অনুকূল নয়। মাংসাশী প্রাণীর লালাগ্রন্থির লালা মানষের লালার চাইতে অনেক বেশি অমযুক্ত। এছাড়া জিহবা এবং গলব্লাডারের গঠন মাংসাশী প্রািেণদর থেকে মানুষের অনেক আলাদা। এ ধরনের অনেক প্রমাণ আছে যে মানুষের শরীরের গঠন শাকাহারী হবার অনুকূল মাংসাহারী হবার নয়। আজকাল তাই প্রচুর মানুষ মাংসাহারী থেকে শাকাহারী হচ্ছেন। ইউরোপ মহাদেশে বর্তমানে কমবেশি ৫ লক্ষ মানুষ প্রতিবছর শাকাহারী হচ্ছেন। মাংসাহারে বেশ কয়েটি ক্ষতির কথা উল্লখ করা যাক- মাংসাহারে কোষ্ঠবদ্ধতা বাড়ায়, ডায়াবেটিস বাড়তে সাহায্য করে, স্নায়বিক বিশৃঙ্খলা হতে পারে, অধিক মাংসাহারে শরীরে টক্সিন বা অধিবিষ বেড়ে গিয়ে লিভার, প্যানক্রিয়াস, কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রক্তের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে শরীরের সাভাবিক গতিকে বিঘিœত করে। এমনকী ক্যানসারের উদ্ভব ও হতে পারে।

মনে রাখার মত বিষয় যে, ব্যক্তি যখন আহার গ্রহন করে তখন শুধুমাত্র সে আহার গ্রহণ করে না তার সাথে সাথে আর প্রস্তুকারকের মনে প্রকম্পনও (ঠরনৎধঃরড়হং) গ্রহণ করে থাকে। যদি কোন হতাশাগ্রস্থ অশান্ত, ক্রোধী ব্যক্তি ভোজন বানান তাহলে তার ঐ মানসিক প্রভাব ভোজনকারীকে অবশ্যই প্রভাবিত করবে। এটা আবেগ বা মনগড়া কথা নয়। আধুনিক বিজ্ঞান তা প্রমাণ করে দিয়েছে। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা দ্বারা দেখা গেছে একটি গাছও এই প্রকম্পন অনুভব করতে সক্ষম। যদি কোন ব্যক্তি একটি গাছের কাছে গিয়ে শুধুমাত্র পাতা ছেঁড়ার সংকল্প করে তাহলে সেই গাছও প্রকম্পিত হতে থাকে। বিষয়টিকে ভালোভাবে অনুধাবন করার জন্য তিনটি প্রায় সমান মাপের গাছ নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ঐ তিনটি গাছে জলদানের ন্য তিন ব্যক্তিকে নিযুক্ত করা হয়েছে। প্রথমজন সাধারণ ব্যক্তি, দ্বিতীয় জন অপরাধী, তৃতীয় জন মানসিক রোগী। কিছুদিন বাদে দেখা গেল সাধারণ ব্যক্তিটির গাছটির সবচেয়ে ভাল বিশিত হয়েছে অন্য দুটির তুলনায়। ঠিক এভাবে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে যে আহার প্রস্তুতকারকের তআহারের উপর তার মানসিক প্রভাবের গুরুত্ব আছে। এজন্য শান্তমনে স্নেহপূর্বক তৈরি আহার ভোজন গ্রহনকারীর মনে শান্তি প্রদান করে এবং তা সাস্থ্যবর্ধকও বটে।

বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে খুব কম সংখ্যক ব্যক্তির মন সদা শান্ত ও স্নেহপূর্ণ থাকে। এই মুহুর্তে মনের অনুশীলনের জন্য সারা বিশ্বে 'রাজরোগ মেডিটেশন” দারুণ ইতিবাচক সাড়ে ফেলেছে। অনুন্নত, উন্নয়শীল ও উন্নতদেশ মিলে প্রায় ১৩৩ টি দেশ "রাযোেগ মেডিটেশন” সাদরে গৃহীত হচ্ছে। গৌরবের বিষয় রাজযোগ মেডিটেশন শিক্ষার পীঠস্থান এই ভারত এবং তার মূলকেন্দ্র রাজস্থানের মাউন্ট আবু। পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষ রাজযোগ মেডিটেশনের ছত্রছায়ায় এসে ভীষণভাবে উপকৃত। তাই মনের সাস্থ্যের জনা এই মুহূর্তে রাজযোগ মেডিটেশন সুধীজনের কাছে বিকল্পহীন সর্বাধুনিক বৈজ্ঞানিক পন্থা হিসেবে সাীকৃতি আদায় করে নিয়েছে। আবাবর আসা যাক আহার সন্ধে। ভারসাম্য ও সাত্ত্বিক আহার করতে হলে বিশেষভামে মনোযোগ দিতে হবে খাদ্যের গুণগত মান (ছরধষরঃ) ও পরিমাণের (ছঁধহঃরঃ) দিকে। গুণগত মান নির্ধারণ করতে গিয়ে স¥রণে রাখতে হবে দৈনন্দিন মোট ভোজনে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, মিনারেল ও ওয়াটারের পরিামণ যেন ঠিক ঠিক থাকে। শাকসবজি ও ফলের দ্বারা কীভাবেপ্রয়োজনয়ি পুষ্টিকর খাদ্য আহৃত হতে পারে তা নির্বাচনের জন্য কোন পুষ্টিবিদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

খাদ্যের পরিমাণ কতটুকু হবে তা নির্ধারণের ব্যক্তির শারীরিক গঠন, মানসিক অবস্থা, কাজের প্রকৃতি, বয়স, পরিবেশে ইত্যাদির উপর নির্ভর করবে। তবে মোটামুটি পুষ্টি বিজ্ঞানীগন এরকম পরামশই দেন পাকস্থলীর মাপ অনুযায়ী গৃহীত ভোজনের অর্ধেক হবে সলিড ফুড, এক চতুর্থাংশ হবে লিক্যুইড ফুড বাকি অংশ শূন্য থাকবে।

তাহলে খাদ্য নির্বাচনে ব্যক্তিকে অবশ্যই খাদ্যের গুণগত মান ও পরিমাণের দিকে নজর দিয়ে স্থির করতে হবে যাকে এককথায় বলা যায় পরিমিত আহার (গড়ফবৎধঃব উরবঃ)। দেখা গেছে সারা জীবনে একটি মানুষ পরিমিত আহারের জন্য সুস্থ্য রোগমুক্ত বেঁচে থাকার আশ্বাস সাতঃই লাভ করে থাকে।

সুর্বোপরি প্রবাদ বাক্যগুলি স¥রণে রাখলে ভাল হয় 'বাসনার বাসা রসনায়' এবং 'যে কম খায় আসলে সে বেশি খায়' তাহলে অনুভব হবে আমার সাস্থ্য আমার হাতেই।
IMG_20260218_212224.jpg

IMG_20260218_212224.jpg

Sort:  
Loading...