শীতের আগমন
আসসালামু আলাইকুম
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এসে যখন দুপুরের রোদ এখনো তীব্র, তখন হয়তো শীতের কথা একটু অদ্ভুতই মনে হয়। কিন্তু ঋতু তার নিজের নিয়মে এগিয়ে চলছে। বর্ষার শেষ, শরতের নীল আকাশ, তারপর ধীরে ধীরে হেমন্ত, আর তার পরেই আমাদের বহু প্রতীক্ষিত শীত। বাংলাদেশে আবহাওয়ার হিসেবে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিকে শীতকাল ধরা হয়। অক্টোবর ও নভেম্বর মূলত বর্ষা থেকে শীতের দিকে যাওয়ার পরিবর্তনের সময়। এই সময়ে বৃষ্টিপাত কমতে থাকে, আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করে এবং তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে কমে আসে।
তবে উত্তরের জেলাগুলোতে শীতের অনুভূতি দেশের অনেক জায়গার আগেই পাওয়া যায়। নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর কিংবা রাজশাহীর মতো উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এলাকায় নভেম্বরের শেষ দিক থেকেই ভোর ও রাতে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হতে শুরু করতে পারে। আর ডিসেম্বর আসার পর সেই ঠান্ডা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঠিক কোন দিন থেকে শীত শুরু হবে, সেটা অবশ্য প্রতি বছর আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে বদলে যায়।
শীতের সকালটা আমার কাছে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলোর একটি। ভোরে ঘুম থেকে উঠে জানালার বাইরে তাকালে চারপাশ কেমন যেন বদলে যায়। ঘাসের ওপর শিশির, দূরের গাছগুলো কুয়াশার মধ্যে অর্ধেক দেখা যাচ্ছে, মাঠের ওপর সাদা চাদরের মতো কুয়াশা, আর সূর্যটাও যেন একটু দেরি করে উঠতে চায়। শীতের সকালে গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাঁটার অনুভূতিটাই আলাদা।
কোথাও ধোঁয়া উঠছে চায়ের কাপ থেকে, কোথাও মানুষ আগুন পোহাচ্ছে, কেউ খেজুরের রস সংগ্রহ করতে বের হয়েছে, আবার কোথাও কৃষক ভোরের কুয়াশা ভেদ করে মাঠের দিকে যাচ্ছে। শীত মানেই শুধু ঠান্ডা নয়। শীত মানেই পিঠা-পুলি, খেজুরের রস, গরম চা, ভাপা পিঠার গন্ধ, আগুনের পাশে বসে গল্প করা আর পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে সময় কাটানো।
শীতের দুপুরও অদ্ভুত সুন্দর। তীব্র গরম নেই, আবার কনকনে ঠান্ডাও নেই। নরম রোদে বসে থাকার মধ্যে একটা আলাদা শান্তি আছে। বাড়ির ছাদে কিংবা উঠানে বসে সেই রোদ পোহাতে পোহাতে মনে হয়, জীবন আসলে এতটাও খারাপ নয়। আর উত্তরাঞ্চলের শীতের সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্যগুলোর একটি হলো কুয়াশা। কখনো কুয়াশা এত ঘন হয় যে কয়েক হাত দূরের জিনিসও অস্পষ্ট হয়ে যায়। আবার কোনো কোনো সকালে সূর্যের আলো কুয়াশার ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে দৃশ্যটা যেন প্রকৃতির নিজের হাতে আঁকা কোনো ছবি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জলবায়ু তথ্য অনুযায়ী, শীতকালে দেশের গড় তাপমাত্রা সাধারণত প্রায় ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে এবং উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে মাঝে মাঝে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচেও নেমে যেতে পারে। তখন শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
তবে এখনো শীত আসতে কিছুটা সময় আছে। সেপ্টেম্বরের এই গরমের পর অক্টোবর হবে পরিবর্তনের সময়, নভেম্বর থেকে ভোর-রাতে ঠান্ডার অনুভূতি বাড়তে পারে, আর ডিসেম্বরের দিকে শীত তার আসল রূপ নিয়ে হাজির হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ভাবতেই ভালো লাগে, আর কিছুদিন পর হয়তো ভোরে ঘুম থেকে উঠে গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে বাইরে তাকাব। চারপাশে কুয়াশা থাকবে। গাছের পাতায় শিশির থাকবে। দূর থেকে ভেসে আসবে পাখির ডাক।
আর মনে হবে, শীত আসছে। আবারও সেই সুন্দর দিনগুলো ফিরে আসছে। ❄️🌿
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: শীতের আগমন
কমিউনিটি : সাহিত্য ক্যানভাস
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ...




Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟
High-Yield Curation by @steem-seven
Your content has been supported!
Maximize your passive income!
Delegate your SP to us and earn high rewards
Click here to see our Tiered Reward System
We are the hope!