Better Life with Steem||The Diary Game|| 15 May 2026||
প্রতিদিনের মতো সকাল সকাল ঘুম থেকে জেগে উঠি। আর আজকে একটু আগেই ঘুম থেকে জেগে উঠেছিলাম। কারণ আমি মহাস্থানগড়ে ছিলাম। এজন্য রাত ৪টার সময় ঘুম থেকে উঠে সরাসরি অজুখানায় গিয়ে অজু করি।
অজু করে ফ্রেশ হয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা দিই।মসজিদে গিয়ে প্রথমে দুই রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করি।এরপর পোনে পাঁচটার সময় ফজরের নামাজ শুরু হলে ইমাম সাহেবের সাথে জামাতে ফজরের নামাজ আদায় করি।নামাজ শেষে আবার রুমের দিকে ফিরে আসতে থাকি।
তবে যেহেতু সকালে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে, তাই ফজরের নামাজ পড়েই কিছু কেনাকাটা করে নিই। প্রথমে মহাস্থানগড়ের বিখ্যাত কটকটি বাড়ির জন্য কিনলাম।এরপর মা আমাকে বলেছিল মহাস্থানগড় থেকে একটি বটি নিয়ে যেতে,তাই ১৭০ টাকা দিয়ে একটি বটি কিনলাম।পাশাপাশি বাড়ির জন্য ৯০ টাকার ৫০ টি লিচুও কিনে নিলাম।সবকিছু কেনাকাটা শেষ করে আবার আমাদের গন্তব্যস্থলে ফিরে যাই।
ফিরে গিয়ে দেখি সবাই রেডি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারণ আর কিছুক্ষণ পরেই সবাই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। সকালে কিছু মাংস রাখা ছিল, সেই মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করা হয়েছিল। তাই সবাই মিলে খিচুড়ি খেলাম। খিচুড়ি খেয়ে কিছু সময় বিশ্রাম নিলাম।
বিশ্রাম নেওয়ার এক পর্যায়ে দেখি এক বড় ভাই তার ছোট বেবির জন্য মহাস্থানগড় থেকে একটি খেলনা ময়ূর কিনে এনেছেন।ছোট বাচ্চাটি খেলাধুলা করবে বলেই এই খেলনাটি কেনা হয়েছে।আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম খেলনা ময়ূরটির দাম কত। তিনি বললেন, ২০০ টাকা।এসব কথা বলতে বলতেই সবাই পুরোপুরি রেডি হয়ে গেল।যার যা কেনাকাটা করার ছিল,সব শেষ করে আমরা মহাস্থানগড় ত্যাগ করলাম।
এরপর সবাই যার যার মতো রাস্তা দিয়ে হেঁটে বাসস্ট্যান্ডের দিকে যেতে লাগলাম। হাঁটার সময় একটি ছবিও তুলে রেখেছিলাম,যা আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি। ছবিতে দেখলে বুঝতে পারবেন মহাস্থানগড় থেকে অনেক মানুষ একসাথে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।
বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও ঠিকমতো বাস পেলাম না।একটি বাস পেলেও তারা বলল যাত্রী পূর্ণ না হলে বাস ছাড়বে না। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম সিএনজি ভাড়া করে চলে আসব। প্রথমে সিএনজি চালক ১ হাজার টাকা ভাড়া চেয়েছিল মেঘাই পর্যন্ত যাওয়ার জন্য।পরে আমরা ৬০০ টাকা বললে তিনি ৭০০ টাকায় রাজি হন। যেহেতু আজ শুক্রবার ছিল এবং বাড়িতে গিয়ে জুমার নামাজ পড়ার ইচ্ছা ছিল, তাই দেরি না করে সিএনজিতে রওনা দিলাম।
সিএনজিতে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো সময় লেগেছিল। দুই ঘণ্টা পর আমরা মেঘাই এসে পৌঁছাই। সেখানে রাস্তার পাশের বিভিন্ন দৃশ্যের ছবি তুললাম। ছবিতে দেখতে পারবেন কিছু মানুষ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। পাশাপাশি সেখানে একটি নাগরদোলাও দেখতে পেলাম। নাগরদোলাটির একটি ছবিও তুলে রাখলাম।
কারণ বিকেলের সময় এখানে অনেক মানুষ এসে আনন্দ করে এবং নাগরদোলায় চড়ে ঘুরে বেড়ায়।
আমি নাগরদোলা চালানো লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলাম কতজন হলে নাগরদোলা চালানো হয়।
তিনি বললেন, চার-পাঁচজন হলেই চালানো হয়। এরপর জানতে চাইলাম জনপ্রতি কত টাকা নেয়। তিনি বললেন, পাঁচ মিনিট ঘোরানোর জন্য জনপ্রতি ২০ টাকা করে নেয়। এসব জিজ্ঞাসা করে আমরা মেঘাই নৌকা ঘাটের দিকে চলে আসলাম।
নৌকা ঘাটে এসে আমি এবং আমার ভাতিজার জন্য দুইটি টিকিট কাটলাম। দুইটি টিকিটের জন্য মোট ১২০ টাকা দিতে হয়েছিল। টিকিট কেটে নৌকায় উঠে পড়লাম।প্রায় ১০ মিনিট পর নৌকা ছেড়ে দেয়। নৌকা চলার সময় নদীর মাঝপথের বিভিন্ন সুন্দর দৃশ্যের ছবি তুলেছিলাম।
নৌকা ভ্রমণটা সত্যিই অনেক ভালো লেগেছিল। নদীর মাঝখানে খোলামেলা পরিবেশ, ঠান্ডা বাতাস আর চারপাশের সুন্দর দৃশ্য সব মিলিয়ে অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করছিল।
প্রায় এক ঘণ্টা পর নৌকাটি নাটুয়ার পাড়া ঘাটে এসে পৌঁছে। এরপর নৌকা থেকে নেমে প্রায় ১০ মিনিট হাঁটার পর একটি অটো ভাড়া করি। অটোতে করে বাড়িতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ঘড়িতে তখন প্রায় ১২টা বাজে। আলহামদুলিল্লাহ, আজ শুক্রবার হওয়ায় আগেভাগেই বাড়িতে পৌঁছাতে পেরেছিলাম।
বাড়িতে এসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে গোসল করলাম। এরপর আজানের কিছুক্ষণ পর ওযু করে মসজিদে চলে যাই। মসজিদে গিয়ে হুজুরের বয়ান শুনলাম। বয়ান শেষে হুজুর চার রাকাত কাবলা জুমার সুন্নত নামাজ পড়তে বললেন। সুন্নত নামাজ আদায় করার পর খুতবা শুরু হয়। খুতবা শেষে ফরজ নামাজ আদায় করা হয়।
ফরজ নামাজ শেষে মোনাজাতের মাধ্যমে নামাজ শেষ করি। এরপর আবার চার রাকাত বাদ জুমার সুন্নত নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ দোয়া-মোনাজাত করি। সবশেষে বাড়িতে ফিরে আসি।
আজ বিকেলে কোথাও আর যাওয়া হয়নি। কারণ সারাদিনের ভ্রমণ আর গাড়ি জার্নির কারণে শরীর অনেক ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল।তাই দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতেই ছিলাম এবং বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে কাটিয়েছি। সন্ধ্যার পর ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হই। এরপর রাত আটটা পর্যন্ত পরিবারের সাথেই সময় কাটাই।
রাত আটটার পরে পরিবারের সবাইকে নিয়ে রাতের খাবার খাই।খাবার শেষে কিছু সময় অনলাইনে সময় কাটাই।এরপর রাত হলে সবাই ঘুমিয়ে যায়।
যাইহোক,এটাই ছিল আমার ওই দিনের সম্পূর্ণ কার্যক্রম।আশা করি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন।সবাই ভালো থাকবেন।আল্লাহ হাফেজ।






Thank you so much for your support dear.❤️❤️