সারপ্রাইজ বার্থডে
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন।গত পোস্টে যেখানে থেমেছিলাম। তারপর থেকে শুরু করছি।
সেদিন সকালবেলায় পিংকি দিদি পড়াতে আসতে চাইছিল না । কিন্তু তার সত্বেও ওকে জোর করে সেদিনকেই আমি ডেকেছিলাম ।ফোন করে বলেছিলাম ঈশানকে তুমি যদি আজকে পড়াতে না আসো ,ঈশান দুষ্টুমি করে বেড়াবে। তাই আজকেই তুমি পড়াতে এসো । এদিকে ঈশানের সাথে বেরিয়ে আমি ওর জন্য কেক কিনে নিয়ে এসেছিলাম। মেয়েদের পার্স ব্যাগ প্রচন্ড প্রয়োজনীয় একটা বস্তু। ডেলি লাইফে এটা লাগবেই লাগবে। ওর জন্য একটা ছোট্ট কিউট দেখে সেটা কিনেছিলাম।
মাথার মধ্যে সবকিছু রেডি ছিল। ভেবেছিলাম ঈশান এর পড়া হয়ে গেলে বাকি সবকিছু করব। পিংকি দি বিকেল এ পড়াতে চলে আসলেও ,আমার ভাই হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ও ঘুমিয়ে পড়ে। ওর মাথা যন্ত্রণা করছিল বলে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ওই দেখে আমি ভাবলাম এবার প্ল্যান খারাপ হয়ে গেল। পিংকি দিও হয়ত চলে যাবে। পরে পিংকি দিদি নিজের প্রোজেক্টের কাজে আমাদের নিচের ঘরে ব্যস্ত ছিল। ততক্ষণ আমি উপরে সাজানোর সময় পেয়েছি।
অল্প কয়েকটা বেলুন ফোলানোর টাইম পেয়েছি। যখন ওর চলে যাওয়ার সময় হচ্ছে, মোটামুটি পৌনে সাতটা বাজে ।তখন আসল একটিং শুরু করলাম। এদিকে তো ঈশান ঘুমোচ্ছে। পিংকি দিকে গিয়ে সোজা বললাম ,দেখো পিংকি দি , ঈশানটা কেমন বদমাইশ, কি করেছে চলো উপরে এসে দেখবে? মাকে আগে থেকেই বলা ছিল মা যেন কিছুতেই কোন রকম ভাবে পিংকি দিকে কোনো কিছু বুঝতে না দেয়।
তাই মাও আমার সাথে এক্টিং করে ওর সাথেই আস্তে আস্তে উপরে চলে আসলো ।এদিকে আমি তো লাইট অফ রেখে কেকটা আমাদের বারান্দায় সাজিয়ে চারিদিকে বেলুন রেখে, মোমবাতি জ্বালিয়ে রেডি করে রেখেছি ।আর মোমবাতির আলোতে জায়গাটা ভীষণ সুন্দর দেখতে লাগছিল।
ও আসলে আর একটা বাড়িতে পড়াতে যাবে বলে বেরিয়ে যাচ্ছিল ।তখনই ওকে উপরে ধরে আনা। ও ভাবতে পারেনি এমন কিছু একটা দেখবে। ও উপরে এসে ভাবছে ঈশান বোধ হয় এতক্ষণ জেগে জেগে নাটক করছিল ।কিন্তু অন্ধকারে এসে তখনো চোখে পড়েনি, ওখানে কি রাখা আছে, তারপর হঠাৎ করে চোখে পড়তেই হাসতে শুরু করল ।ভীষণ খুশি হয়ে গেল।
রীতিমতো সারপ্রাইজ হয়ে গেছিল। বুঝতেই পারিনি আমি এরম কিছু প্ল্যান করেছি।। তারপর তো কেক কাটা হলে অনেক অনেক ছবি তোলা হলো। বিভিন্ন পোজ দিয়ে ছবি তোলা হলো। কেক কাটা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমার ভাই অর্থাৎ ছাত্রের ঘুম ভেঙেছে। তাই ছাত্রের সাথেও একটা ছবি তোলা হল।
আমি পিংকি দিদির জন্য ভেজ চাওমিন অর্ডার করেছিলাম। সেটাও চলে এসেছিল ততক্ষণে। সবমিলিয়ে কেক কাটা হয়ে যাওয়ার পর চাউমিন আর কেক ওকে সাজিয়ে গুছিয়ে দিলাম। সব মিলিয়ে ওই সময়টুকু ভীষণ সুন্দরভাবে কেটেছে।। ওকে অল্প সময়ের জন্য হলেও আনন্দ দিতে পেরে আমিও অনেক খুশি হয়েছি। আর আমি মনে করি , ও এরকম আনন্দ ডিজার্ভ করে।
আশা করছি আমার আজকের পোস্ট আপনাদের সকলের ভালো লেগেছে ।আপনারা ওকে আশীর্বাদ করবেন ও যেন আগামী জীবনে অনেক ভালো থাকে। আজ এখানেই শেষ করছি।








এই মুহূর্তে আপনি পাওয়ার ডাউন দিয়েছেন, তাই আপনার পোস্টের সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হলো না। ভালো থাকবেন।