দার্জিলিঙে বেড়াতে গিয়ে মহাকাল মন্দির কাটানো সুন্দর মুহূর্ত

in Incredible India4 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG-20250923-WA0022.jpg

গতকালকের পোস্টে আপনাদের মাঝে দার্জিলিং এর মহাকাল মন্দির দর্শনের কিছুটা পর্ব শেয়ার করে নিয়েছিলাম । আজকে এরপরের মুহূর্ত টুকু আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। সেদিন বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর ঠাকুর মশাইদের কাছে গিয়ে মহাদেবের কাছে নিজেদের নামে পুজো দিয়ে নিয়েছিলাম । তবে ওদের ভাষা কিছুই বুঝতে পারিনি।যে মন্ত্র পাঠ করেছিল। শুধু মাত্র কানে শুনে দুই হাত জোড় করে ভগবান কে নিজের মনোস্কামনা পূরণ করবার জন্য ভক্তি ভরে ডাক ছিলাম। আমাদের তো ভগবান কে দেখলে এর বেশি কাজ থাকে বলে আমার মনে হয় না। যেখানেই ভগবান কে দেখি সেখানেই জোড় করে হলে মনের ইচ্ছে জানিয়ে দিয়।এরপর সকলে দেখছিলাম পুজো দেওয়ার পর মোমবাতি ,ধুপকাঠি, প্রদীপ জ্বালিয়ে নিয়ে মন্দিরের চারিধারে ঘুরছিল । ওখানকার পুজো দেওয়ার নিয়ম কানুন কিছুই জানিনা। অন্যের দেখে আমরাও খানিকক্ষণ মহাদেবের মন্দিরের চারপাশে ঘুরেছিলাম। তবে ওখানকার মহাদেবের মূর্তিটা একেবারে অন্যরকম। নিজে পুজো দেওয়ার পর বাড়ির সকলকে ভিডিও কল করে মহাদেব কে দর্শন করিয়েছিলাম। জানিনা আবার কখনো যেতে পারবো কিনা।

IMG-20250923-WA0020.jpg
মহাদেব 🙏

এরপর ওখানেই বিভিন্ন মন্দির রয়েছে প্রত্যেক মন্দিরে মন্দিরে দর্শন করে প্রণামী হিসেবে টাকা দেওয়া হয়েছিল। ওখানে দেশমাতার মূর্তি থেকে শুরু করে সমস্ত দেব-দেবীর আলাদা আলাদা করে ঘর রয়েছে। এছাড়াও সকালবেলায় তখন সমস্ত মন্দিরগুলোতেই ঠাকুর মশাই পুজো করতে ব্যস্ত । আমার মনে হয় ঠাকুর মশাই সারাদিন ধরে বসে থাকে। কারণ প্রত্যেক দিন পর্যটকেরা মহাকাল মন্দিরে ঘুরতে যাই এবং পুজো দেয়।সেদিন আমরা গিয়েছিলাম তখন খুব সকালবেলা ছিল চারিদিকে ঘুরতে ঘুরতে একটা পাহাড়ের নিচে গভীরে মহাদেবের মন্দির দেখেছিলাম। একেবারে অন্ধকারের ভিতর মহাদেব রয়েছে। ওখান থেকেই নাকি আসল মহাদেবের উৎপত্তি হয়েছে। তারপরেই সমস্ত মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছে। প্রত্যেকটি মন্দির নিয়ে কোনো না কোনো রহস্য লুকিয়ে থাকে। ওখানে বেশ খানিকক্ষণ সময় কাটিয়েছিলাম।

IMG_20260206_214324.jpg
ভিডিও থেকে স্কিন শর্ট নেওয়া ছবি

সকালবেলায় ঠান্ডা ঠান্ডা শান্ত মনোরম পরিবেশে সময় কাটাতে বেশ ভালোই লাগছিল। এদিকে পাখির কোলাহল শুনতে খুব ভালো লাগছিল। তবে দেব দেবীর মূর্তিগুলো ছিল একটু অন্যরকম আসলে সব জায়গাকার দেব-দেবীর মূর্তি একই রকম হয় না। আমাদের কৃষ্ণনগরে যেমন বেশিরভাগ মূর্তি মাটি দিয়ে তৈরি করা হয়। কিন্তু ওখানে বেশিরভাগ পাথরে খোদাই করেই মূর্তি গুলো বানানো হয়েছে। কোন মন্দির রয়েছে গাছের নিচে পাথর কেটে মন্দির তৈরি করা হয়েছে। আবারও এক একটা মন্দির এমনি তৈরি করা হয়েছে। সেদিন মন্দিরে বেশ খানিকক্ষণ সময় কাটিয়েছিলাম। চারিপাশটা ঘুরে দেখতে খুবই ভালো লেগেছিল এ যেন এক অন্যরকম পরিবেশের মুখোমুখি হয়েছিলাম। ইচ্ছে ছিল আরো সময় কাটাবার। কিন্তু হোটেলে ফিরবার তারা ছিল। সেখানে এসে আবার সকালের খাবার খেয়ে অন্য কয়েক জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল। সেই মুহূর্ত গুলো সম্পর্কে অন্য পোস্টে শেয়ার করে নেব।

তবে সেদিন মন্দিরে ওঠার জন্য যতটা কষ্ট হয়েছিল নামার সময় কিছুই মনে হয়নি। এরপর আবারো তিনজনে মিলে মহাদেবের দর্শন সেরে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম । চারিদিক ঘুরতে ঘুরতে খুব তাড়াতাড়ি হোটেলে পৌঁছে গিয়েছিলাম। আসলে অজানা জায়গায় চারিদিক বারবার ঘুরে ফিরে দেখতে বেশ ভালো লাগে।সেদিন সুন্দর সকাল কাটিয়ে আমাদের খুব ভালো লেগেছিল ।সেই মুহূর্তই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।


আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।