নারকেলের ভাজা নাড়ু রেসিপি
নমস্কার বন্ধুরা ,সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই খুব ভালো আছেন ।আজকে আবারো নতুন একটা রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব নারকেল এর ভাজা নাড়ু রেসিপি। নারকেল দিয়ে বিভিন্ন রকমের রেসিপি তৈরি করা যায়। নারকেলের নাড়ু খেতে আমি ভীষণ পছন্দ করি। তবে নারকেলের নাড়ুর মধ্যে চিনির নাড়ু আর ভাজা নাড়ু আমার সব থেকে পছন্দের। ছোটবেলায় আমার মা লক্ষ্মী পূজার ঠিক আগে সমস্ত ধরনের নাড়ু তৈরি করে নিয়ে দিদার বাড়িতে বেড়াতে আসতো। আসলে তখন দিদা সমস্ত কাজকর্ম সেরে একদমই সময় পেতেন না। তাই মাকে দেখতাম প্রত্যেক বছর একই সময়ে সমস্ত কিছু তৈরি করে নিয়ে আসতে। তবে এখনকার দিনে এই সমস্ত জিনিস আর কাউকে বানাতে দেখি না। আমার মা সেই রীতি এখনো ধরে রেখেছেন ।এখন সব মেয়েদের বাড়িতে সমস্ত রকমের নাড়ু তৈরি করে পাঠায়। তবে এই বছর খেয়ে ভেবেছিলাম আমি এবার নিজের হাতে তৈরি করব নারকেলের ভাজা নাড়ু।
ভিডিও লিংক
সমস্ত রেসিপির উপকরণ মায়ের কাছ থেকে শুনে তৈরি করেছিলাম। তবে তখন আমি বাপের বাড়িতেই ছিলাম। নিত্যনতুন রেসিপি তৈরি করতে আমার বেশ ভালোই লাগে। তবে ভাজা নাড়ু তৈরি করতে বিশেষ কিছু উপকরণ লাগে না। খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু হয়। শুধু নাড়ু খেতেও খুব ভালো লাগে। এছাড়া চায়ের সাথে ভাজা নাড়ু খেতে দারুন লাগে। বাড়িতে তৈরি করে রাখলে যখন তখন হঠাৎ করে বাড়িতে মানুষ আসলে তাদের ও দেওয়া যায়। চলুন তাহলে শুরু করি নারকেলের ভাজা নাড়ু রেসিপি।
| নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | নারকেল | ১ টা |
| ২ | চিনি | ১ কাপ |
| ৩ | সুজি | ১ কাপ |
| ৪ | আতপ চালের গুঁড়ো | ১ কাপ |
| ৫ | সাদা তেল | পরিমাণ মতো |
প্রথম ধাপ
প্রথমেই একটা নারকেল নিয়ে নারকেল টাকে ভালো করে কুঁড়ে নিতে হবে। এরপর পরিমাণ মতো চিনি আর পরিমাণ মতো সুজি নিয়ে নিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ
এরপরে সমস্ত উপকরণ একসাথে চটকে মেখে নিতে হবে। আমি এখানে কোন জল ব্যবহার করিনি। কারণ নারকেল থেকেই জল বের হয়।
তৃতীয় ধাপ
সমস্ত উপকরণ মাখার পর একটা পাত্র দিয়ে খানিকক্ষণ ঢেকে রাখতে হবে। কারণ তিনি গলে গিয়ে জল বের হবে ।আপনারা চাইলে গুঁড়ো চিনি ব্যবহার করতে পারেন।
চতুর্থ ধাপ
প্রায় ৩০ মিনিট পর ঢাকনা খুলে দেখা যাবে সমস্ত চিনি গলে গেছে ।এমনকি মেখে রাখা উপকরণটা একটু পাতলা হয়ে গেছে। তখন পরিবার মত আতপ চালের গুঁড়ো দিয়ে আরো ভালো করে ময়দা মাখার মত মেখে নিতে হবে। তবে কোন জল ব্যবহার করলে চলবে না। মাখা টা একটু শক্ত করে মাখতে হবে।
পঞ্চম ধাপ
এরপর নাড়ু সাইজ করে দুই হাতের সাহায্যে বানিয়ে ফেলতে হবে। আপনারা আপনাদের সাইজ অনুযায়ী বানিয়ে নেবেন।
ষষ্ঠ ধাপ
সমস্ত নাড়ু বানানো হয়ে গেলে গ্যাস অন করে একটা কড়াই বসিয়ে দিয়েছি। কড়াই গরম হলে তাতে পরিমাণ মতো সাদা তেল দিয়ে দিতে হবে। এরপর তেল গরম হলে তেলের মধ্যে একটা একটা করে নাড়ু ছেড়ে দিতে হবে। দিয়ে খুব ভালো করে দুই পিঠ লাল লাল করে ভেজে নিতে হবে।
সপ্তম ধাপ
খুব ভালো করে ভাজা হয়ে গেলে তেল ঝরিয়ে তুলে নিতে হবে একটা পাত্রে।
তৈরি
তেল ঝরিয়ে তুলে নিলেই খুব সহজেই তৈরি হয়ে যাবে নারকেলের ভাজা নাড়ু রেসিপি।
খুব সহজেই আমি নারকেলের ভাজা নাড়ু তৈরি করেছিলাম ।আপনারাও চাইলে ঠিক একই পদ্ধতিতে নারকেলের ভাজা নাড়ু তৈরি করতে পারেন। এইরকম নাড়ু বানিয়ে অনেক দিন ঘরে রাখা যায় বাড়িতে লোকজন আসলে তাদেরকে খাওয়াতে পারবেন। অনেক সময় এইরকম নাড়ু বানিয়ে পুজোর কাজেও ব্যবহার করা হয়। আমরা ও অনেক সময় বাড়িতে লক্ষ্মী পূজার সময় এই রকম নাড়ু বানিয়ে থাকি। ছোট থেকে বড় সকলেই এই ধরনের নাড়ু খেতে পছন্দ করে। আমাদের বাড়িতে তৈরি করার সাথে সাথে এক নিমিষেই সব শেষ হয়ে যায়। সহজ পদ্ধতিতে রেসিপিটি তৈরি করেছিলাম। আমি আমার পরিমাণ মতো সমস্ত উপকরণ ব্যবহার করেছি। আপনারা চাইলে আপনাদের পরিমান মত সমস্ত কিছু ব্যবহার করতে পারেন। ভিডিওর লিংক দেওয়া থাকলে আপনারা চাইলে অবশ্যই দেখতে পারেন।
আজ এইখানেই শেষ করছি ।আবার নতুন কোন রেসিপি নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে।











ছোটবেলা থেকেই আমি নারিকেলের নাড়ু অনেক বেশি পছন্দ করতাম তবে আমার মা যতবার তৈরি করতে গেছে সঠিকভাবে হয়নি তারপর আমাকে বাজার থেকে কিনে নিয়ে খাওয়াতো এখনো যখন আমার ইচ্ছে হয় তখন বাজার থেকে নারিকেলের নাড়ু খেতে আমার অনেক বেশি ইচ্ছা করে আজকে আপনি চমৎকারভাবে নারিকেলের ভাজান আরও কিভাবে তৈরি করা হয় সেটা আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন ধন্যবাদ ভাল থাকবেন।