ছোট্ট একটা স্বপ্ন পূরণ
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আবারো একটা ছোট্ট স্বপ্ন পূরণে গল্প আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। আমি সব সময় ছোট ছোট স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি ।আমাদের মত মধ্যবিত্তদের ঘরে বড় বড় স্বপ্ন পূরণ করা সাধ্যের মধ্যে পড়ে না।সব সময় ছোট খাটো জিনিস নিয়ে স্বপ্ন গুলো পূরণ করার চেষ্টা করি। প্রত্যেক টা মেয়েদের বিয়ের পর থেকে শাড়ি গয়নার প্রতি লোভ জন্মায়। কিন্তু দিনে দিনে সোনার দাম এত পরিমানে বেড়ে গেছে মধ্যবিত্তদের কেনার সাধ্যের মধ্যে পড়ে না।কিনতে চাইলে ও দশ বার ভাবতে হয়। ছোট কোনো জিনিস নিয়ে মন ভরে না।আমি মাঝে মাঝেই নিজের জন্য কোন না কোন গয়না বানাতাম। এমনকি আমার শাশুড়ি মা আমার জন্য প্রত্যেক বছরে গয়না বানিয়ে দিতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই দামটা এত পরিমানে বেড়ে গেল যে আর নিজে থেকেই কিনতে ইচ্ছে করে। কিছুদিন আগে সোনার মতো রুপোর দামও অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। সোনার দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য অনেকে আবার রুপোর জিনিস বানাতে শুরু করেছিল।
নিত্যনতুন বেশ সুন্দর সুন্দর রুপোর জিনিসও উঠেছিল। সেগুলো চোখে লাগার মতো ।তবে আমার সচরাচর রুপোর জিনিসটা খুব একটা পছন্দ হয় না। রুপোর পায়ের তোড়া ছাড়া আমি আর কোন জিনিসই খুব একটা ব্যবহার করি না। আসলে সোনার জিনিসের সৌন্দর্য একরকম।আর রুপোর সৌন্দর্য আরেক রকম।তবে কিছুদিন ধরে দেখছিলাম সকলে কোমরে একটা কোমর ঝাঁপি পরছে। আমারও দেখে ভালো লেগেছিল ।ইচ্ছে করলো বানানোর জন্য। শাশুড়ি মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। উনি ও বানাতে বলল। আসলে আমার কোনো কাজে শাশুড়ি মা বাঁধা দেন না।আসলে পুরোনো দিনের মানুষরা যেসব জিনিস পড়তো সেগুলোই আবারো নতুন করে ফিরে আসছে। আগেকার দিনে নতুন বউদের কোমরে চাবি ঝোলা হিসেবে একটা কোমর ঝাপি দেওয়া হতো। চাবি গুলোই রাখার সুবিধার্থে কোমরের পড়ে থাকত। কিন্তু এখন ওটা ফ্যাশান হয়ে গেছে। সকলকে দেখে আমারও ভীষণ নিতে ইচ্ছে হয়েছিল। রুপোর দাম বেড়ে যাওয়ায় দামটা অনেকটাই পড়ে যাচ্ছিল।
রুপোর জিনিস বেশি দাম দিয়ে কিনতে একেবারে ইচ্ছে করেনা। একদিন হঠাৎ করেই চলে গিয়েছিলাম দোকানে বানাতে দেওয়ার জন্য। যাই হোক একটা ডিজাইন পছন্দ করে সেই ডিজাইনটা আমি বানাতে দিয়ে এসেছিলাম। বেশ কিছুদিন হয়ে গিয়েছিল সেটা আর দোকান থেকে নিয়ে আসা হয় না। তাই সেদিনকে বোনের সাথে কেনাকাটা করে আসার পর মামার সাথে চলে গিয়েছিলাম সোনার দোকানে। সেখানে জিনিসটা দেওয়ার জন্য বললাম। রেডি অবস্থায় জিনিসটা দেখাতেই আমার তো ভীষণ পছন্দ হয়ে গেল। পুরো রেডি করা ছিল না। উনি খানিকটা আমাদের বসিয়ে রেখে রেডি করে দিল। দেখতে অপূর্ব লাগছিল ।যাই হোক ওটার মোটামুটি দাম পরল নয় হাজার পাঁচশ টাকা।
প্রায় 35 গ্রাম মত রূপও রয়েছে। আর রুপোর দাম এখন অনেকটাই। বাড়ির সকলেরই ভীষণ পছন্দ হয়েছে। আমিও ছোট্ট একটা স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে বেশ ভীষণ খুশি হয়েছি। আসলে কথাই বলে শখের দাম লাখ টাকা। সঠিক বয়সই যদি সবটা পূরণ করতে না পারি তাহলে আর ৬০ বছর বয়সে গিয়ে এইসব জিনিসগুলো কোনটাই ব্যবহার করতে পারব না। বয়সের সাথে সাথে সবকিছুই বদলে যাবে। নিজের ইনকামের টাকায় যখন ছোট ছোট স্বপ্নগুলো পূরণ করি নিজেই ভীষণ ভালো লাগে। সবসময় শাশুড়ি বা বরের কাছে বায়না করতে ইচ্ছে করে না। তাই এখন থেকেই ছোটখাটো স্বপ্নগুলি আমি নিজেই মেটানোর চেষ্টা করি। এই ছিল আমার ছোট্ট একটা স্বপ্ন পূরণ।
আজ এইখানে শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।




Thank you 🙏