বোনের বিয়ের বেনারসি কিনতে যাওয়া
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব বোনের বিয়ের কেনাকাটার দ্বিতীয় দিনের সুন্দর মুহূর্ত। সেদিন বোনের আইবুড়ো ভাত খাওয়ানোর পর আবার ও বেরোতে হয়েছিল কেনাকাটা করবার জন্য। বিয়ের কেনাকাটা কোনদিনই একদিনে শেষ করা যায় না। বিয়ের জন্য প্রচুর কিছু কিনতে হয়। তবে দ্বিতীয় দিনের কেনাকাটার সময় মা বাড়ি চলে গিয়েছিল। কারণ বাড়িতে কেউ ছিল না ।ঝড়, বৃষ্টির সময় বাড়ি ফাঁকা রেখে আসা সম্ভব নয়। বাড়ির পিছনে ফাঁকা মাঠ।তাই তাড়াহুড়ো করে বাধ্য হয়ে মাকে বাড়ি যেতে হয়েছিল। এদিকে আমি আর বোন বিকেল বেলায় বেরিয়ে পড়েছিলাম আসল জিনিস কেনার জন্য ।মানে বিয়েতে যেটা পড়ে কনের বিয়ে হবে সেটা না কিনলে তো বিয়ে অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। আমাদের বাঙালি বিয়েতে বেনারসি ছাড়া বিয়ে হয় না।আর এই বিয়ের বেনারসি টা দিয়েছে আমার দিদার। প্রত্যেক নাতনি কে বিয়েতে একটা করে বেনারসি দিয়েছেন। প্রথমে গিয়েই বেশ কিছু দোকান ঘোরাঘুরি করে বেনারসি পছন্দ হয়নি।
ছোটখাটো দোকানগুলোতে খুব বেশি কালেকশন থাকে না ।ছোট দোকানে কতই বা কালেকশন রাখবে। তাই চলে গিয়েছিলাম আমাদের কৃষ্ণনগরেই যশোরেশ্বরী বস্ত্রালয়। ওখানে শাড়ির প্রচুর চোখ ধাঁধানো কালেকশন রয়েছে। কৃষ্ণনগরের একমাত্র শাড়ির ঠিকানা ছিল যশোরেশ্বরী বস্ত্রালয়। ওখানে বহু ধরনের শাড়ি পাওয়া যায় । এখন আরেক টা দোকান রয়েছে আগমনী বাসন্তী।যাই হোক ওখানে যাওয়ার পর বেনারসি কালেকশন দেখাতে বলেছিলাম।পাশে আর একজন ও বেনারসী শাড়ির কালেকশন দেখছিল।আমাদের বাজেট খুব একটা বেশি ছিল না। কারণ বিয়ের বেনারসি নাম মাত্র ওই একদিনে পড়া হয় ।তারপরে আলমারিতেই পড়ে থাকে ।তাই আমি বোনকে বারণ করেছিলাম বেশি দামের মধ্যে নিতে হবে না। দোকানে বসে বেশ প্রচুর কালেকশন দেখানো হয়ে ছিল। বোনের পছন্দ মতো একটা বেনারসি শাড়ি বোনকে পড়িয়ে দেখানো হলো।
সমস্ত কালেকশন দেখার পর বোন দুটো শাড়ি পছন্দ হয়েছিল। তার মধ্যে একটা সিলেক্ট করে নিয়েছিল।লাল টুকটুকে বেনারসি। বিয়েতে লাল বেনারসি দেখতে ভীষণ ভালো লাগে। তবে এখন সকলে বিভিন্ন রকমের বিভিন্ন রঙের শাড়ি পড়ে।সত্যি কথা বলতে বোনকে যখন ওই লাল বেনারসি শাড়ি পরিয়ে আয়নার সামনে দাঁড় করানো হল। আমার চোখ দিয়ে কি জানি আপন ইচ্ছায় জল বেরিয়ে আসছিল। বোনকে দেখতে ও খুব সুন্দর লাগছিল। এদিকে আমি যেন বোনের বিয়ে মেনে নিতেই পারছিলাম না। একদিকে যেমন আনন্দ অন্যদিকে বোনকে ছেড়ে থাকার কষ্ট। যাই হোক ওখান থেকে একটা শাড়ি সিলেক্ট করে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম ।এরপর বাকি ছিল বরের ধুতি পাঞ্জাবি কেনা, সমস্ত ভার আমার কাঁধে তুলে দিয়ে মা বাড়ি পালিয়ে ছিল। আসলে এটা প্রথম বার নয় বারবার কিছু কেনাকাটা করার থাকলে বাড়ির সকলেই আমাকে ভার দিয়ে নিজেরা হাওয়া হয়ে যায়।এরপর দোকান থেকে বরের ধুতি পাঞ্জাবি সমস্ত কিছুই কেনা হয়েছিল। দ্বিতীয় দিনের কেনাকাটা সামান্য হলেও দায়িত্ব ছিল অনেকটাই। আসলে এই দুটো জিনিসই খুব গুরুত্বপূর্ণ। দুজনেই পছন্দের বিষয়।
কারণ যেগুলো ছাড়া বিয়ে অসম্পূর্ণ সেগুলোই আমরা কিনতে গিয়েছিলাম ।সেদিন কেনাকাটা করে খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। এদিকে মা ও পৌঁছে গিয়েছিল বাড়িতে। আমাদের কেনাকাটা দেখে সকলের ভীষণ পছন্দ হয়েছিল। বাড়িতে এসে প্রথমেই বড়মামা শাড়ি দেখা মাত্রই বলে উঠলো শাড়ি খুব সুন্দর হয়েছে। সেদিনকে আরো একটা জিনিস কিনতে গিয়েছিলাম। সেটার প্রচন্ড দাম বলছিল। তাই কেনা হয়ে ওঠেনি। সেটার গল্প অন্য পোস্টে শেয়ার করে নেব।
আজ এইখানে শেষ করলাম। আবারও নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।




Congratulations @mou.sumi! Your post has been upvoted by @supportive. In addition, accounts that delegate to us may receive a daily vote on one post worth approximately 5x their delegated SP, along with nearly 10% APR paid daily.
Thank you 🙏