"বেশ কিছুদিন আগে দিদির শশুর বাড়িতে কাটানো একটা সুন্দর দিনের গল্প "

in Incredible India14 hours ago
IMG_20260425_225256.jpg
"দিদির শশুর বাড়িতে ফোঁটা গোলাপ ফুল"

Hello,

Everyone,

কয়েক ঘন্টা আগে আমি আপনাদের সাথে একটি পোস্ট শেয়ার করেছি, যেখানে শ্বশুর মশাই মারা যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো তার শূন্যতার অনুভূতি সম্পর্কে নিজের মনের কিছু কথা তুলে ধরেছি।

সন্ধ্যাবেলায় সন্ধ্যা পুজো দেওয়ার পর থেকে সময় যেন আর কিছুতেই কাটছে না। পাশের বাড়ি থেকে একজন কাকিমা এসেছেন, তবে কথা বলার সেই আলোচ্য বিষয় হলো শশুর মশাইয়ের চলে যাওয়া। যা আমার শূন্যতার অনুভূতিকে আরও বেশ কিছুটা বাড়িয়ে দিলো।

এই মুহূর্তে শুভ উপরে আছে ওর একটা বন্ধু এসেছে, তার সাথে কিছু কথাবার্তা বলছে। শাশুড়ি মা ওই কাকিমার সাথে পাশের ঘরে বসে কথা বলছেন। আমার সেই আলোচনায় থাকতে ইচ্ছা করলো না, তাই আমি অন্য একটা রুমে এসে আরও একটা পোস্ট লিখতে বসলাম। কোনো একটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকাটা জরুরী, না হলে পুরনো কথাগুলোই যেন মাথার মধ্যে বারবার ঘুরে ফিরে আসছে।

IMG_20260425_225309.jpg
"দিদিদের বাড়ির গেটের পাশেই লাগানো আছে এই বোগেনভেলিয়া (কাগজ‌ ফুল) ফুলের গাছটা"

ফোনের গ্যালারি ঘাটতে ঘাটতে বেশ অনেকদিন আগেকার তোলা অনেকগুলো ছবি দেখলাম, যেগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করবো ভেবেই তুলেছিলাম। তবে পরবর্তীতে আর সেই বিষয়ে লেখা শেয়ার করা হয়নি। ছবিগুলো তুলেছিলাম আমার দিদির শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার পথে। শশুর মশাই তখন খুব একটা অসুস্থ ছিলেন না, শাশুড়ি মা সামলে নিতে পারতেন বলেই একদিনের জন্য দিদির শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলাম।

আসলে আমার দিদির হাজবেন্ডের অসুস্থতা সম্পর্কে আপনারা অনেকেই জানেন। আর সেই সময় তার সুস্থতার কামনায় অনেকেই অনেক রকম মানত করেছিলো। তার মধ্যে একটি ছিলো দিদির শাশুড়ি মায়ের করা মানত। দিদির শ্বশুর বাড়ি গ্রামে। প্রতিবছর সেখানে হরিনাম সংকীর্তন এর আয়োজন করা হয়, যেখানে দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন।

তিন দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের একেবারে অন্তিম দিনে মালশা ভোগ দেওয়া হয়। প্রত্যেকেই নিজেদের মনের কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে এই মালশা ভোগ দিয়ে থাকেন। দিদির শাশুড়ি মা ও তেমনি মানত করেছিলেন। এর আগের বছর কোনো কারনে দিদিরা ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে থাকতে পারেনি। তবে এ বছর অনেক আগে থেকেই দিদি ছুটির অ্যাপ্লিকেশন দিয়েছিলো, ফলত ছুটির মঞ্জুরও হয়েছিলো।

IMG_20260425_225222.jpg
"স্টেশনে অপেক্ষা করার সময় তোলা ছবি"

সেই কারণেই ওরা অনুষ্ঠান শুরুর দিন শ্বশুরবাড়িতে চলে গিয়েছিলো। আমাকেও ওদের সাথে যেতে বলেছিলো, কিন্তু সেই মুহূর্তে আমার গিয়ে তিন চারদিন সেখানে থাকা কোনোমতেই সম্ভব ছিল না। তাই আমি একেবারে শেষ দিনে যাবো বলেছিলাম। সেই অনুযায়ী সকালবেলায় শুভ অফিসে বেরিয়ে যাওয়ার পর, স্নান সেরে ঠাকুর পূজো দিয়ে আমি একটু বেলার দিকেই দিদি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলাম।

IMG_20260425_225238.jpg
"বাচ্চা মেয়েটা ভীষণ কিউট ছিলো"

যাওয়ার সময় বেশ ভালো রোদ্দুর ছিলো। আবার ট্রেন গন্ডগোল থাকার কারণে প্লাটফর্মে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষাও করতে হয়েছিলো। অবশেষে যখন ট্রেন এলো ট্রেনে উঠে দেখলাম লোকজনের ভিড় তেমন একটা নেই। বসার জন্য জায়গাও পেয়ে গিয়েছিলাম। পরের স্টেশন থেকে একটি বাচ্চা মেয়ে তার মায়ের সাথে ট্রেনে উঠেছিলো। তারা বনগাঁ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলো, তবে আমাকে নামতে হয়েছিল ঠাকুরনগর স্টেশনে। মাঝের কয়েকটি স্টেশন বাচ্চাটির সাথেই আমার সময় কেটে গিয়েছিলো।

IMG_20260425_225248.jpg
"অটোতে অপেক্ষা করার মুহূর্ত"

যাইহোক স্টেশনে নামার পর অটো ধরার জন্য আমি অটো স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখি একটা অটো সম্পূর্ণ ভর্তি হয়ে গেছে। তাই সেই অটোতে না গিয়ে পরবর্তীতে যে অটোটা ছাড়বে আমি সেখানে গিয়ে বসলাম। যেহেতু তখনো অটোটা ফাঁকা ছিলো, তাই আমাকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট বসতে হয়েছিলো।

তারপর কিছু লোক এলে অটোওয়ালা অটো ছেড়ে দিয়েছিলো। দিদি বাড়িতে অটোতে করে যেতে প্রায় ৪৫ মিনিটের মতো সময় লাগে। তবে যেহেতু গ্রামের ভিতর দিয়ে যায়, তাই প্রকৃতি দেখতে দেখতে সময়টা বেশ ভালোভাবেই কেটে যায়।

IMG_20260425_225402.jpg
"আকাশে তখন মেঘের ঘনঘটা"

দিদি বাড়িতে যখন গিয়ে পৌঁছালাম, তখন দুপুর হয়ে গেছে। সেদিন ওদের বাড়িতে নিরামিষ রান্নাই হয়েছিলো। আমরা খেতে বসেছি তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশে কালো মেঘ দেখলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো অনেক ঝড়বৃষ্টি হবে।

দিদি বাড়িতে বসেই নাম সংকীর্তন এর গান শোনা যাচ্ছিলো। পরে দিদির শ্বশুরমশাই এসে বললেন সেখানে রান্নাবান্নার তোড়জোড় দুপুর থেকেই শুরু হয়ে গেছে। সম্পূর্ণ গ্রামবাসীর জন্য এদিন সেখানে খিচুড়ি ভোগের আয়োজন করা হয়।

IMG_20260425_225329.jpg
"বৃষ্টি শুরুর মুহূর্ত"

আমরাও সকলে রাতে সেখানেই খাবো এমনটাই ঠিক হয়েছিলো। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে এমন ঝড় বৃষ্টি শুরু হল যে আমরা ভেবেছিলাম হয়তো এই নাম সংকীর্তনে যাওয়াই হবে না। তবে কথায় আছে "মেঘ যত গর্জয় তত বর্ষায় না"। এই কারণে আকাশে প্রচুর মেঘ থাকলেও খুব বেশি বৃষ্টি কিন্তু সেদিন হয়নি।

IMG_20260425_225338.jpg
"এই সময় মুষলধারায় বৃষ্টি পরছিলো"

কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর সন্ধ্যা হয়ে এলো এবং সন্ধ্যার পরেই আমরা তৈরি হয়ে নাম সংকীর্তন যেখানে হচ্ছিল সেই জায়গার উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। সেখানে গিয়ে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছিলো, সেটা পরবর্তী পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। একটা পোস্টের মাধ্যমে সকল মুহুর্ত শেয়ার করলে পোস্টটা অনেকটাই বড় হয়ে যাবে। তাই আজকের মতো লেখাটা এখানেই শেষ করছি।

আপনারা প্রত্যেকে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভরাত্রি।

Sort:  
Congratulations! Your post has been upvoted from sc-09 account.

1000080942.png

Curated by : wirngo
 22 minutes ago 

Thank you for your support 🙏.

Loading...