"নিজের জীবনের পরিস্থিতি মন মতো সাজানো অসম্ভব, কিন্তু কখনো কখনো নিজের ঘরটাকে সাজানো উচিত"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি অনেক ভালো কেটেছে।
যদি নিজের জায়গা থেকে বিচার করি তাহলে আমাদের প্রত্যেকের জীবনই কোনো না কোনো দিক থেকে অসম্পূর্ণ কিংবা এলোমেলো। সবদিক থেকে নিজের জীবনকে গুছিয়ে নেওয়ার যতো চেষ্টাই আমরা করি না কেন, কোনোভাবেই যেন সবটা সামলে ওঠা হয় না।
এটাই হয়তো জীবনের মূল বাস্তবতা। যেখানে সারা জীবন ধরে জীবনটাকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে তোলার প্রচেষ্টায় আমরা ব্যস্ত থাকি। কখনো কখনো হাল ছেড়ে দিই ঠিকই, কিন্তু পরের মুহূর্তেই জীবন আবার নিজস্ব গতিতেই চলতে শুরু করে।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
তবে এলোমেলো জীবনকে গুছিয়ে নেওয়া সব সময় সম্ভব না হলেও, কখনো কখনো নিজের চারপাশটা গুছিয়ে নিতে মন্দ লাগেনা। আপনাদের সবার সাথে এমনটা হয় কিনা জানি না, তবে নিজের ঘরের আসবাবপত্র গুলোর অবস্থান পরিবর্তন করলে কখনো কখনো পুরনো জায়গাটাকেই আমার আবার নতুন মনে হয়।
তাই বেশ কয়েক বছর বাদে বাদে আমিও নিজের ঘরের আসবাবপত্র গুলোর স্থান পরিবর্তন করতে পছন্দ করি। তবে এইবার বিষয়টা পছন্দের নয়, বরং প্রয়োজনের হয়ে পড়েছে। অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম ঠাকুরের জন্য একটা নির্দিষ্ট ঘর রাখবো। যাতে পুজোর ঘরটা আলাদা থাকে। অনেক কিছু ভাবনা চিন্তা করে বিষয়টি কিছুতেই করা হয়ে উঠছিলো না। তবে দিন কয়েক আগেই সেটা সম্ভব হয়েছে।
![]()
|
|---|
আসলে ঈশ্বর আমাদেরকে থাকার জন্য ভালো জায়গা দিয়েছেন, তাই ওনাকে একটা সুন্দর জায়গায় রাখাটা আমাদের সকলের কর্তব্য হওয়া উচিত। আমাদের বাড়িতেও অনেকগুলো ঘর আছে ঠিকই, তবে এতো দিন পর্যন্ত নিচের তলায় শাশুড়ি মায়ের বেডর পাশেই ঠাকুরের আসন রাখা ছিলো। দিন কয়েক আগেই সেই জায়গা পরিবর্তন করে উপরে আমাদের বেডরুমের পাশের ঘরটিকে ঠাকুর ঘর হিসেবে গুছিয়ে নিয়েছি।
আর তার সাথে সাথেই নিজের বেডরুমের আসবাবপত্র গুলোর স্থান পরিবর্তন করেছি। ফলতো ওপরে নিজের ঘর এবং ঠাকুরের ঘরটা একেবারেই অন্যরকম লাগছে। যদিও কথাগুলো যতো সহজে লিখে ফেললাম, কাজটা ততটাও সহজ ছিলো না। ঠাকুর ঘরে পূজোর জন্য ছোট্ট ছোট্ট অনেক জিনিসের প্রয়োজন হয়। আর সেই সমস্ত কিছু নীচ থেকে উপরে নিয়ে আসা বেশ সময় সাপেক্ষ এবং কষ্টের ছিলো।
![]()
|
|---|
একটা সম্পূর্ণ দিন এই সমস্ত কিছু ঠিক করতে লেগে গিয়েছিলো। অবশ্য রবিবার দেখে কাজটা শুরু করেছিলাম যাতে শুভ সাহায্য করে। কারণ ভারী জিনিস এক ঘর থেকে অন্য ঘরে নিয়ে যাওয়া একার পক্ষে অসম্ভব।
সেই কারণে সকালে উঠে ব্রেকফাস্টের পরে দুজনে মিলে কাজ শুরু করেছিলাম। সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে রাত ১১ঃ০০ টার বেশি বেজে গিয়েছিলো। অনেক বেশি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু সমস্ত কাজ সেরে নেওয়ার পর, ফ্রেশ হয়ে যখন নিজের ঘরে ঢুকেছিলাম, তখন সত্যিই ঘরটাকে একেবারে অন্যরকম লাগছিলো। যেন কোনো নতুন ঘরে এসেছি।
![]()
|
|---|
এবার সোফার সেট থেকে একটা সিঙ্গেল সোফা এনে বেডের পাশে রেখেছি। কারণ সবসময় বেডে বসতে ভালো লাগে না। কখনো কখনো ইচ্ছে করে সোফাতে বসতে। তবে সামনের ঘরে সোফা থাকায় আলাদা করে আর সেখানে বসা হতো না। তাই বেডরুমেই একটা সোফা রাখলাম। যদিও সম্পূর্ণ সুপার সেটটা রাখা যেতো, কিন্তু সেখানে আবার সকলে এসে বসত।
![]()
|
|---|
ঠাকুর ঘরটাকে নিজের মতো করে সাজানোর চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি আলমারি গুলোকে একটা ঘরে রেখেছি। যাতে বেডরুমে একটু ফাঁকা জায়গা থাকে। এইভাবে দুটো রুমকে সাজিয়ে তুলেছি।
আপনাদের সাথে জীবনের সমস্ত অনুভূতি যখন শেয়ার করি, তখন নিজের ঘরকে একটু অন্যরকম ভাবে সাজানোর মুহূর্ত গুলোই বা বাদ থাকে কেন। সেই উদ্দেশ্যেই নিজের ছোট্ট থাকার জায়গাটার পরিবর্তনটাও আজ লেখা ও ছবির মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
|
|---|
![]()
|
|---|
জীবনটাকে গুছিয়ে নিতে না পারেন, মাঝেমধ্যে নিজের থাকার জায়গাটাকে নিজের হাতে গুছিয়ে দেখবেন, এক অন্যরকম পরিতৃপ্তি কাজ করে মনের ভিতরে। যাইহোক আপনাদের সাথে পূর্বের অগোছালো বেডরুম ও পরবর্তীতে সাজানো-গোছানো বেড রুমের ছবি শেয়ার করলাম। আশাকরি পরিবর্তনগুলো ছবির মাধ্যমে আপনারাও বুঝতে পারবেন।
![]()
|
|---|
ঠাকুরের নতুন ঘরটা কেমন লাগলো অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন।











Congratulations @sampabiswas! Your post was upvoted by @supportive. Accounts that delegate enjoy 10x votes and 10–11% APR.