"দার্জিলিং ডায়েরী: নেপালের পশুপতি মার্কেট পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
দার্জিলিং ভ্রমণ পর্বে গলিটার ভিউ পয়েন্ট বা সীমানা বাজার পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ইতিমধ্যে আপনাদের সাথে আলোচনা করেছি। সেখানেই আপনাদের জানিয়েছিলাম যে, সেখান থেকে আমরা গিয়েছিলাম "পশুপতি ফটক" বলে আরও একটা জায়গায়। এই জায়গাটি মূলত হলো পশ্চিমবঙ্গের এবং নেপালের সীমান্তে অবস্থিত একটা বাণিজ্যিক পর্যটন কেন্দ্র।
![]()
|
|---|
এই মার্কেট মূলত প্রসিদ্ধ হচ্ছে বিদেশি এবং বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির ইলেকট্রনিক্স এর জিনিসপত্র, জ্যাকেট, কসমেটিক্স, এমনকি উলের তৈরি বিভিন্ন জিনিসের জন্য। তবে প্রধান আকর্ষণীয় বিষয় হলো এই সমস্ত জিনিস এখানে অনেক সস্তায় পাওয়া যায়।
শিলিগুড়ি থেকে এখানে পৌঁছাতে দু-তিন ঘন্টা সময় লাগে ঠিকই, তবে আমরা আগের দিন লেপচাজগতে ছিলাম, তাই সেখান থেকে আরও কম সময় লাগতো। তবে মাঝখানে জোড়পোখরি ও গলিটার ভিউ পয়েন্ট দেখে এখানে এসেছিলাম, তাই আমাদেরও বেশ কিছুটা সময় লেগেছিলো।
![]()
|
|---|
আমাদের মূল গন্তব্য ছিলো মিরিক এবং এই জায়গাটি একেবারে মিরিক রোডের পাশেই অবস্থিত। ভারতীয় পর্যটকদের জন্য এখানে ভিসা পাসপোর্টের প্রয়োজন নেই ঠিকই, তবে বৈধ পরিচয় পত্র দেখিয়ে তবেই নেপালের সীমানায় প্রবেশ করা যায়। সেখানে চেক করার জন্য রীতিমতো ভারতীয় পুলিশ এবং নেপালের পুলিশ রয়েছে। সেখানে নিজেদের বৈধ পরিচয়পত্র সঠিকভাবে দেখানোর পর, তবেই তারা প্রবেশের অনুমতি দিয়ে থাকেন।
সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মূল মার্কেটটা বেশ কিছুটা দূরে। সেখানে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা সকলে মিলে একটা গাড়ি বুক করে রওনা করলাম।
![]()
|
|---|
রাস্তায় যেতে যেতে দেখলাম বেশ কিছু লোক মিছিলের মতো হেঁটে আসছে। তবে আমাদের গাড়ির যিনি ড্রাইভার ছিলেন, তিনি জানালেন পাশেই কোনো একজন মারা গিয়েছেন, যার মৃতদেহ নিয়ে সকলে শবযাত্রা করছে। গাড়ির মধ্যে থেকে একটা ছবি তোলার চেষ্টা করেছিলাম, হয়তো আপনারা কিছুটা বুঝতে পারবেন।
![]()
|
|---|
বেশ কিছুটা যাওয়ার পর একটা স্ট্যান্ডে তিনি আমাদেরকে নামিয়ে দিলেন এবং বললেন পায়ে হেঁটেই এখন আমরা সম্পূর্ণ মার্কেট ঘুরে দেখতে পারি। অবশ্য উল্টোদিকে একটা মন্দির সম্পর্কে এই ড্রাইভার আমাদেরকে জানিয়েছিলেন। তাই আমরা সবার প্রথমে ঠিক করলাম মন্দির দর্শন করে তারপরেই মার্কেটে নিজেদের পছন্দের জিনিস কেনাকাটা করবো।
**সেই মতোই আমরা প্রথমে মন্দির দর্শন করতে গেলাম। মন্দিরে যাওয়ার জন্য সিঁড়ি দিয়ে অনেকটা উপরে উঠতে হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সম্পূর্ণ মন্দিরটা বেশ নিরিবিলি ছিলো। সেখানে বিভিন্ন ধরনের প্রতিমা ছিলো এবং সেখানে যে নিত্য পুজো হয় তা দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো। এরপর আমরা সেখান থেকে নেমে মার্কেট ঘুরে দেখলাম।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
প্রত্যেকে নিজেদের মতো করে কিছু কিছু জিনিস কেনাকাটা করলো। সত্যিই এখানে কসমেটিক্স এর দাম অনেক কম। ছাতার দামও সেখানে তুলনামূলক কম এবং অনেক ডিজাইনের ছাতা সেখানে ছিলো। আমার বান্ধবীরা যদিও ছাতা কিনেছিলো। তবে আমি আর কিনিনি। আমি শুধু শুভর জন্য একটা পারফিউম কিনেছিলাম।
যাইহোক এরপর আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে গাড়ি করে আবার মূল সীমান্তে চলে এসেছিলাম। প্রসঙ্গত আপনাদেরকে জানিয়ে রাখি, আপনারা যখনই এই সীমান্তে প্রবেশ করবেন, আপনাদের ফোনে কোনো নেটওয়ার্ক থাকবে না। একথা আমাদের ড্রাইভার দাদা বলে দিয়েছিলেন, পাশাপাশি তিনি কোথায় গাড়ি পার্ক করবেন সেটাও আমরা দেখে এসেছিলাম।
![]()
|
|---|
সুতরাং আমাদেরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ফিরতে বলে দিয়েছিলেন, যাতে আমরা একটু তাড়াতাড়ি মিরিকে পৌঁছাতে পারি। যাওয়ার পথে আমরা আবার একটা চা বাগান দর্শন করার জন্যেও দাঁড়াবো। কারণ মিরিকের চা বাগান সবথেকে বেশি সুন্দর বলে তিনিই জানিয়েছিলেন। যাইহোক যে স্ট্যান্ডে আমাদেরকে নামিয়ে দিয়েছিলো, সেখান থেকেই আমরা আবার গাড়ি ধরে সীমান্ত এলাকায় আসলাম।
সেখানে একটা বাড়ির ব্যালকনি দেখে অবাক হয়ে গেলাম। কত ধরনের ফুল দিয়ে যে ব্যালকনিটা সাজানো, তা হয়তো আপনারা ছবি দেখলে কিছুটা আন্দাজ করতে পারবেন। প্রথমে ভাবছিলাম এটা হয়তো কোনো হোটেল বা গেস্ট হাউস। কিন্তু পরে বুঝলাম এটা কারোর নিজস্ব বাড়ি।
![]()
|
|---|
আরও একজনের সঙ্গে সেখানে দেখা হয়েছিলো। বলাই বাহুল্য তাকে দেখে আমারও নিজের পোষ্য পিকলুর কথা মনে পড়লো। রাস্তার মধ্যে একাই শুয়ে আছে। ওকে দেখে এক মুহূর্তের জন্য খুব আদর করতে ইচ্ছা করছিলো, কিন্তু তা সম্ভব হলো না।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
যাইহোক সীমান্ত থেকে বেরোনোর আগে নেপালের গেটের সামনে তিনজন দাঁড়িয়ে একটা ছবি তুললাম। তবে রোদ্দুরের তেজ এতো ছিল যে, ভালোভাবে ক্যামেরার দিকে তাকানো যাচ্ছিলো না। উপরের আকাশটা দেখে আশাকরছি আপনারা বুঝতে পারছেন যে, নেপাল হোক কিংবা ভারত, আকাশের নীল সকলের জন্যই সমান।
![]()
|
|---|
নেপাল পুলিশের বসার জন্য একটা সুন্দর জায়গাও করা আছে, যার সামনে সাদা সাদা টবের মধ্যে খুব সুন্দর কিছু গাছ রোপন করা আছে। তার সামনে দাঁড়িয়ে পিয়ালী একটা ছবিও তুলে দিতে বললো। যাইহোক এরপরে আমরা আমাদের গাড়ির কাছে পৌঁছালাম এবং সেখান থেকে রওনা করলাম মিরিকের উদ্দেশ্যে।
মিরিক চা বাগান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা ছিলো অসাধারণ, যেটা সম্পর্কে আমি আপনাদের সাথে পরবর্তী পোস্টে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো। আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি। কিছু ছবি ক্রপ করার কারণে আজকের তারিখ দেখাচ্ছে।
আপনাদের প্রত্যেকের সুস্থতা কামনা করি। ভালো থাকবেন সকলে। শুভ রাত্রি।














Thank you for your support 🙏.