"লাচুং গ্ৰাম‌ পরিদর্শনের অসাধারণ অভিজ্ঞতা- প্রকৃতি সত্যিই অপূর্ব"

in Incredible Indiayesterday
IMG_20260509_175105.jpg
"লাচুং গ্ৰামের আঁকাবাঁকা পথ, তারসাথে মেঘে ঢাকা পাহাড়‌ গ্ৰামের সৌন্দর্য্যকে বাড়িয়ে তুলেছে"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন এবং আজকের আমার এই পোস্টটা পড়ে আপনাদের মন আরও অনেক বেশি ভালো হয়ে যাবে এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত।

চলুন তাহলে খুব বেশি দেরি না করে এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদেরকে ঘুরে দেখাই, পাহাড়ে ঘেরা এক অনন্য সুন্দর গ্রাম, যার নাম লাচুং। গতকালকের পোস্টে যেখানে পৌঁছানোর গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম, আজ সেই ছোট্ট গ্রামটি পরিদর্শন করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরবো এই পোস্টের মাধ্যমে।

IMG_20260509_171906.jpg
IMG_20260509_172227.jpg
"ছোট্ট পথ দিয়ে চলতে চলতে ক্যামেরাবন্দি কিছু মুহূর্ত"

যেমনটা গতকালের পোস্টে জানিয়েছিলাম, ফ্রেশ হওয়ার পর ড্রেস চেঞ্জ করে আমরা সকলেই তৈরি হয়ে গিয়েছিলাম। বাইরে তখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টিও পড়ছিলো, তাই হাতে ছাতা নিয়েই বেরিয়ে পড়েছিলাম আমরা। তবে পাহাড়ের এই বৃষ্টিও যেন বড্ড বেশি উপভোগ্য লাগছিলো।

কিছুক্ষণের মধ্যে অবশ্য বৃষ্টি পড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো, তাই ছাতা মেলার প্রয়োজন হয়নি। আমরা যে হোমস্টেতে ছিলাম সেখান থেকে লাচুং নদীর আওয়াজ পাওয়া গেলেও, তা স্বচক্ষে দেখার জন্য অনেকটা নিচে নামতে হতো, তাই সেদিন আর সেটা সম্ভব হয়নি।

IMG_20260509_172348.jpg
IMG_20260509_172512.jpg
"চারিপাশে যেন তখন মেঘেদের খেলা চলছিলো"

আমরা রাস্তা ধরে হাঁটতে শুরু করলাম সামনের দিকে। রাস্তাগুলো দেখলে সমান্তরাল মনে হলেও, রাস্তাগুলো কিন্তু ধীরে ধীরে উপরের দিকেই উঠেছে। আসলে নর্থ সিকিমে আসার আসল কারণ ছিল জিরো পয়েন্ট ভ্রমণ করা। যেখানে গিয়ে স্বচক্ষে বরফ দেখার অনুভূতিটা উপভোগ করতে চেয়েছিলাম আমরা প্রত্যেকেই। তবে তার আগেই লাচুংয়ের যে এমন নৈসর্গিক দৃশ্য দেখার সুযোগ হবে, তা সত্যিই ভাবিনি।

IMG_20260509_172945.jpg
IMG_20260522_154503.jpg
"পাইন গাছ এখনে খুব বেশি ছিলো না, তবে এই দুটি গাছ যেন এই গ্ৰামের সৌন্দর্য্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিলো"

বাইরে বেরিয়ে যেদিকেই তাকাচ্ছিলাম মেঘে ঢাকা পাহাড় গুলো যেন আরও বেশি সুন্দর লাগছিলো। কিছুক্ষণ বাদে মনে হচ্ছিলো মেঘগুলো ধীরে ধীরে যেন নিচে নামতে শুরু করেছে। মনে হচ্ছিলো কিছুক্ষণের মধ্যেই মেঘগুলোকে যেন নিজের হাতেই ছুঁয়ে দেখতে পারবো।

IMG_20260522_154345.jpg
"পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ছোট্ট জলধারা"
IMG_20260509_172124.jpg
"নাম না জানা এই অপূর্ব ফুলগুলো বাগানের ভিতরের দিকে ফুটেছিলো।"

পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ছোটখাটো জলের রেখা প্রায়শই চোখে পড়ে, যেগুলো হয়তো পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা কোনো ওয়াটার ফলসেরই শাখা প্রশাখা হবে। আরও একটা জিনিস যা সব থেকে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করে, সেটা হলো পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গাতে ফুটে থাকা নাম না জানা বহু ধরনের ফুল গাছ।

IMG_20260522_150732.jpg
"একটা বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গায় চাষ‌ করেছে সর্ষে ও‌ গম। দেখে বেশ আবাক হলাম। পাশে কিছু সব্জিও ছিলো।"

তবে লাচুংয়ের আরও একটা জিনিস ভালো লাগলো। সেখানকার ছোট্ট ছোট্ট বাড়ি গুলোর আশেপাশে যতটুকু জায়গা আছে সব জায়গাতেই তারা কিছু না কিছু চাষ করেছেন। গম থেকে শুরু করে সর্ষে, ধনেপাতা, বিভিন্ন ধরনের সবজি, আলু এই রকম বহু জিনিস সকলে নিজেদের বাড়িতেই চাষ করে থাকে। তাই এখানে যতো সবজি আপনি পাবেন, সবই মোটামুটি অর্গানিক, রাসায়নিক কোনো সার এরা খুব বেশি ব্যবহার করে না বলেই মনে হলো।

IMG_20260509_173332.jpg
IMG_20260509_173346.jpg
IMG_20260509_173357.jpg
"ছোট্ট হলেও ফুলগুলো ‌দেখতে অসাধারণ। ছোট্ট ছোট্ট স্ট্রবেরিও‌ হয়েছে। তবে এগুলো খাওয়ার উপযুক্ত কিনা জানি না।"

ওপরে যে ছবিটি আমি শেয়ার করেছি এটা স্ট্রবেরি গাছ। লাচুং এ এই গাছগুলো প্রচুর পরিমাণে দেখতে পেয়েছি। আসলে এই স্ট্রবেরী গুলো খুব ছোট্ট হয়। তবে এগুলো খাওয়ার উপযুক্ত হয় কিনা সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। তবে ফুল গুলো দেখতে এতো সুন্দর ছিলো যে সেগুলোর ছবি তুলতে বাধ্য হলাম, পাশে এই ছোট্ট ছোট্ট স্ট্রবেরি ফলেগুলোও দেখা পেলাম। তাই সেগুলোরও ছবি তুললাম। আপনারাই দেখে বলুন, ফুলগুলো ছোট্ট হলেও যেকোনো বড় ফুলের থেকে এদের সৌন্দর্য্য কি কোনো অংশে কম?

IMG_20260509_175123.jpg
IMG_20260509_175105.jpg
"হাঁটতে হাঁটতে খেয়াল করলাম, পথের মাঝে নিস্তব্ধতা ভেঙে মাঝে মধ্যে একটা দুটো গাড়িই শুধু পার হচ্ছিলো।"

যাইহোক ধীরে ধীরে এগিয়ে চললাম আরও কিছুটা দূরে। রাস্তা গুলো এঁকেবেঁকে উপরের দিকে উঠেছে। আমরা মূলত আশেপাশে ছোট্ট কোনো রেস্টুরেন্ট বা কোনো দোকান খুঁজছিলাম, যেখানে হোমমেড মোমো, ম্যাগি পেতে পারি।

হঠাৎ করে একটা দোকান আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। আসলে দোকান দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বললে ভুল হবে। মূলত দোকানের বসার জায়গাটা আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে আরও বেশি। ছবিটা দেখে আশাকরি আপনারাও বুঝতে পারছেন, গাছের গুড়ি বা কিছু কাঠের টুকরো গুলোকে সুন্দর ভাবে এখানে সাজানো রয়েছে। টেবিলটাও কাঠেরই তৈরি। কোনো আলাদা কারুকার্য করা নেই। তবুও কি‌ অসাধারন লাগছিল দেখতে।

IMG_20260509_174138.jpg
IMG_20260522_150809.jpg
"দোকানের সামনে বসার জায়গা, পাশে ছিলো আগুন‌ জ্বালানোর পাত্রটিও। বসার জায়গাটা ভীষণ আকর্ষণীয় লেগেছে আমার।"

যা এই বসার জায়গাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পাশে আগুন জ্বালানোর একটা পাত্র ছিলো। নিশ্চিত ঠান্ডার সময় এই খানে বসে যারা চা, কফি, মোমো, ও ম্যাগি ইত্যাদি খেয়ে থাকেন, তাদের জন্য এই পাত্রেই আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। যাতে সামান্য উত্তাপ তারা পেতে পারেন।

অনেকটা আশা নিয়ে আমরাও ঐ দোকানে গিয়েছিলাম। তবে জানতে পারলাম সেদিন দোকানে মোমো তৈরি হয়নি। তবে চা, কফি, চানাচুর, বিস্কুট এই সমস্ত কিছু এগুলো পাওয়া যেতে পারে। তাই আর সেই দোকানে না বসে আর খানিকটাএগিয়ে যেতে লাগলাম অন্য কোনো একটা রেস্টুরেন্টের খোঁজে।

আপনাদের নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছা করছে যে ঐ‌ ছোট্ট গ্ৰামে আমরা আদেও কোনো রেস্টুরেন্ট খুঁজে পেয়েছিলাম কিনা। জানাবো তবে পরবর্তী পর্বে। একটা পর্বে সবটা শেয়ার করা সম্ভব নয়,তাই আর একটু অপেক্ষা করুন। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে লাচুং গ্ৰাম ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতার আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন সকলে।

Sort:  
Loading...