 "গ্যাংটকে সকলকে স্বাগত জানিয়ে সুন্দর একটা গেট তৈরি করা হয়েছে" |
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
আজকের পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, জলপাইগুড়ি থেকে আমাদের হোটেল পর্যন্ত আসা, আর সেখানে লাঞ্চ করার অভিজ্ঞতা।
প্রথম থেকে কথা ছিলো ভোর পাঁচটার পরে জলপাইগুড়ি থেকে আমাদের গাড়ি নিতে আসবে। তবে আমরা অনেক আগেই পৌঁছে গিয়েছিলাম জলপাইগুড়ি। সেকথা ড্রাইভারকে জানানোর পর উনি বললেন, তিনি আমাদের আগেই নিয়ে যাবেন। যাতে রাস্তা ফাঁকা থাকে এবং আমরা কম সময়ে আমাদের গন্তব্য পৌঁছে যেতে পারি।
 "নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন" |
 "স্টেশনের বাইরে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি, সেখানেও একটা বোর্ডে সব ট্রেনের সময় দেখা যায়" |
 "পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনের আদলে তৈরি করা হয়েছে এই স্ট্যাচু" |
 "বেশ ভালো লাগছিলো এটা দেখতে" |
স্টেশনের বাইরে আমাদের খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। যতটুকু সময় গাড়ি পৌঁছাতে সময় লেগেছিলো, ততটুকু সময় আমরা ওখানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলাম।বাইরের দিকে তৈরি করা ট্রয় ট্রেনের একটা সুন্দর ছবিও তুলে নিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়ি এলো। তারপর আমি রওনা করলাম সিকিমের উদ্দেশ্যে।
 "চারিদিক তখনও অন্ধকার, আমরা গাড়ির ভিতরে" |
 "ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে" |
রাস্তাতে তখন একেবারেই ফাঁকা ছিলো। তখন চারপাশটা বেশ অন্ধকার ছিলো, কারণ তখন ভোরের আলো ফোটেনি। কিন্তু গাড়ির যাতায়াত যে একেবারেই ছিলো না এমনটা নয়। অনেকেই ছিলো যারা আমাদের মতন একই ট্রেনে এই সময় স্টেশনে এসে পৌঁছেছিলো। তাই তারা সকলেই নিজের নিজের গন্তব্য রওনা করেছিলো।
 "দূরে পাহাড় দেখতে পেলাম। অপূর্ব সুন্দর সে অনুভূতি" |
 "এই সময় পাহাড়ের কাছাকাছি পৌঁছে পাহাড়ের কোল দিয়ে বয়ে চলা নদী দেখতে পেলাম" |
বেশকিছুদূর যাওয়ার পর ভোরের আলো ফুটতে শুরু করলো। তখন চারপাশটা যেন আরও অনেক বেশি সুন্দর লাগছিল দেখতে। অনেকটা এগিয়ে প্রথম আমরা পাহাড় দেখতে পেলাম। আমাদের যাত্রাপথ ছিলো সেবক রোড। যার দুপাশে সবুজ গাছে ঘেরা। তার মাঝখানের রাস্তা দিয়ে আমাদের গাড়ি ছুটে চলেছে, সে এক অপূর্ব অনুভূতি।
 "গ্যাংটকে আমাদের আজকের বাসস্থান- হোটেল কাভেরী" |
এরপর চারপাশের সুন্দর দৃশ্য দেখতে দেখতে আমরা প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টার যাত্রাপথ অতিক্রম করে এসব পৌছালাম আমাদের হোটেল "নিউ কাভেরিতে"। যেখানে আমাদের রুম আগে থেকেই বুক করা ছিলো। কিন্তু আমরা অনেক আগে এসে পৌঁছেছিলাম বলে, বেশ কিছুক্ষণ আমাদের রিসিপশনেই অপেক্ষা করতে হয়েছে।
 "হোটেলের রিসেপশন" |
 "রুমের অপেক্ষায় আমি ও পিয়ালী" |
সকালের দিকে এখানে বেশ ভালো ঠান্ডা ছিলো। তবে ঠাণ্ডার কোনো জিনিস আমরা পরে আসিনি, সবকিছু লাগেজের ভিতরে ছিলো, তাই মোটামুটি শীতে কাঁপতে কাঁপতে রিসেপশনে অপেক্ষা করার পর আমাদের রুম দিলো। যেখান থেকে বাইরে পাহাড়ের দৃশ্য দেখতে ভীষণ সুন্দর লাগছিলো।
 "ডাইনিং হলটা বেশ সুন্দর" |
সকলেই ফ্রেশ হয়ে একেবারে স্নান সেরে নিয়েছিলাম। দুপুরের লাঞ্চ একটার মধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছিলো, তাই কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে চলে গিয়েছিলাম ডাইনিং সেকশনে।ডাইনিং এ জায়গাটা খুব সুন্দর ভাবে অ্যারেঞ্জ করা এবং সবটাই বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।
 "ভাতের সাথে আলুভাজা ও আচার যেন পাহাড়ের খাবারের বিশেষত্ব" |
 "স্যালাড, মিক্সড সবজি,ডাল ও রুইমাছ" |
এখানে খাবারের মান ছিলো যথেষ্ট ভালো। দুপুরের খাবারে ছিলো ডাল, মিক্সড সবজি, আর রুই মাছ। ডাল ও সবজির স্বাদ বেশ ভালো ছিলো। মাছ আমি খাইনি তাই তার স্বাদ সম্পর্কে বলতে পারবো না। তার সাথে ছিল পাহাড়ের বিখ্যাত আচার আর ঝিরিঝিরি আলুভাজা।
 "গোলাপ ফুল" |
 "এই গোলাপগুলো ছোটো অথচ সংখ্যায় অনেক ফোঁটে" |
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমরা বাইরের দিকে একটু হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। হোটেল থেকে খুব বেশি দূরে যাইনি। আশপাশের পরিবেশটা একটু ঘুরে দেখলাম। আমাদের হোটেলের ভিতরে দুই তিনটি সুন্দর গোলাপ ফুলের গাছ আছে, যেগুলোর ছবিও তুলেছিলাম যাতে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারি।
হোটেল থেকে দুই মিনিট হাঁটলেই দারুন সুন্দর ভিউ দেখতে পেয়েছিলাম। সেখানে সকলে মিলে বেশ ভালো সময় কাটিয়েছিলাম। তারপর একটু বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যায় গিয়েছিলাম গ্যাংটকের বিখ্যাত এম.জি রোডে। যেখানে কাটানো মুহূর্তগুলো আমি পরবর্তী পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
আজকের পোস্ট পড়ে কেমন লাগলো তা মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।
Curated by: @wilmer1988