"Better life with steem//The Diary Game// 15th January, 2026"// The pain of losing a beloved pet again"

in Incredible Indialast month

IMG_20260115_201152.jpg
"আমাদের গাছের ফুল,রঙটা বেশ‌ সুন্দর"

Hello,

Everyone,

যখন আমাদের প্রিয় কোনো মানুষ সারা জীবনের মতো আমাদেরকে ছেড়ে চলে যায়, তখন আমাদের কতটা কষ্ট হয়, সেই ধারনা বোধহয় আমাদের প্রত্যেকেরই আছে।

তবে যখন আমাদের পোষা কোনো প্রাণী আমাদেরকে ছেড়ে চলে যায়, তার কষ্ট কতখানি তীব্র হয় এ ধারণা হয়তো সকলের নেই। কারণ প্রত্যেকের বাড়িতেই যে পোষা কোনো প্রাণী থাকবেই, এমনটা নয়।

তবে যাদের বাড়িতে পোষা প্রাণী আছে তাকে হারিয়ে ফেলার পর, তার জন্য সেই বাড়ির সকলের যে কষ্ট হয়, সেটা দেখে অনেকেই হাসাহাসি করে, ব্যঙ্গ করে। তবে এই তীব্র কষ্টের অনুভূতি শুধুমাত্র তারাই অনুভব করতে পারে, যাদের সাথে এমন ঘটনা ঘটেছে।

অনেকে নিশ্চয়ই ভাবছেন হঠাৎ করে এমন কথা কেন বলছি? ভাবাটাই স্বাভাবিক। সবটাই আপনাদের সাথে আজকে এই পোস্টের মাধ্যমে শেয়ার করবো। তবে চলুন সারাদিনের গল্পটা একেবারে সকাল থেকেই শুরু করি।

1672344690977_010726.jpg

"সকালবেলা"

IMG_20260115_201957.jpg
"শীতকালে জানালা দিয়ে সূর্যের আলো যখন ঘরে আসে, মনটা ভালো হয়ে যায়"

আজ দুদিন শীতের তীব্রতা সামান্য কমেছে। তবে এখনও বেশ ভালো ঠাণ্ডা আছে। তবে দেখতে দেখতে ঠান্ডার দিন প্রায় শেষ হয়ে এলো। আজকাল সকাল বেলায় ঘরের জানালা কিংবা দরজা খুললে কুয়াশা নয়, বরং ঝলমলে রোদ্দুর চোখে পড়ে। এই কারণেই বোধহয় শীতের তীব্রতা একটু কম মনে হচ্ছে।

যেহেতু শুভর অফিস‌ ছিলো, তাই আজও যথা সময়ে ঘুম থেকে উঠে, ফ্রেশ হয়ে, নিচে গিয়ে গরম জল বসালাম। শীতের কারণে এখন বাড়ির সকলেরই মোটামুটি সকাল বেলায় গরম জল খাওয়া হয়।

IMG_20260115_201238.jpg
"শীতকালে ‌জামাকাপড় ধোয়ার কাজটা বেশ কষ্টকর"

তারপর প্রতিদিনের মতো চা তৈরি করে, শুভকে ডেকে দেওয়ার পর রান্না শেষ করে, ঘরের কাজ শুরু করলাম। যেহেতু আজ বৃহস্পতিবার তাই সকাল থেকে একটু কাজে চাপ থাকে। এরপর কিছু জামা কাপড় ধুয়ে স্নান করতে চলে গেলাম।

1672344690977_010726.jpg

"দুপুরবেলা"

IMG_20260115_201311.jpg
"পুজো দেওয়ার মুহুর্ত"

স্নান‌ সেরে পুজো দিতে বসেছি, তখন ফোনের রিং শুনলাম, কিঐ যেহেতু পূজো দিচ্ছিলাম তাই আর সেই মুহূর্তে ফোন তুলিনি। পুজো শেষ করার পর, দুপুরে খাবার‌ টেবিলে অ্যারেঞ্জ করতে করতে ফোন হাতে নিয়ে দেখলাম আমার বোন অর্থাৎ মামার মেয়ের মিসকল।

ভাবলাম হয়তো মামী আমার সাথে কথা বলবে‌, কারণ দুপুরবেলার দিকে বেশিরভাগ সময় বোনের ফোন থেকে ফোন করে। যাইহোক হাতের কাজ করতে করতে ফোন করলাম, তবে উল্টোদিকে বোনের কান্নার আওয়াজ শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম।

IMG_20260115_001535.jpg
"চিনির পুরোনো ছবি,যেটা আমি মামাবাড়িতে গিয়ে তুলেছিলাম"

বারবার জিজ্ঞাসা করার পর উত্তর পেলাম,-"চিনি আর নেই।" এক মুহূর্তে সেই দিনে ফিরে গেলাম, যেদিন আমার শ্বশুরমশাই আমাকে বলেছিল,- "আমাদের পিকলু আর নেই।"

ওকে বোঝাচ্ছিলাম ঠিকই, কিন্তু ভিতরে ভিতরে আমিও যেন ভেঙে পড়ছিলাম। কারণ আমার জীবনেও কয়েক মাস আগেই এই মুহূর্ত‌ এসেছিলো, যখন পিকলুকে হারিয়েছিলাম। তাই নিজের পোষ্যকে হারানোর কষ্ট কতখানি, তা আমি সেই মুহূর্তে খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করেছি।

IMG_20260115_201915.jpg
"আমার ফোনে তোলা চিনির শেষ ছবি, আমার দিদি বাড়িতে কালীপুজোর আগের দিন রাতে তোলা।"

পরে ওর কাছে শুনলাম চিনির ঠান্ডা লেগেছিলো। ওষুধ খাচ্ছিলো, তবে আজ ভোরে ওর অনেকটা কষ্ট হয়েছিলো নিঃশ্বাস নিতে। তাই বোন ওকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনাও দিয়েছিলো। গাড়িতে থাকা অবস্থায় ওর‌ কোলেই চিনি মারা যায়।

বোনকে সান্ত্বনা দিয়ে ফোন রাখার পর, দুপুরে আর খেতে ইচ্ছা করছিলো না। মনটা খুবই খারাপ হয়ে আছে তারপর থেকেই। খাওয়া-দাওয়া শেষ হওয়ার পর, সমস্ত কাজ গুছিয়ে নিয়ে ছাদে মেলে রাখা জামা গুলো তুলে, কিছুক্ষণের জন্য শুলাম। তবে সন্ধ্যা হতেই আবার বিছানা ছাড়তে হলো এবং এই মুহূর্তেই সবথেকে বেশি কষ্ট হয়।

1672344690977_010726.jpg

"সন্ধ্যাবেলা"

IMG_20260115_201901.jpg
"গুঁড়ের রসগোল্লার সাথে পাউরুটি"

শীতকালের সন্ধ্যাবেলায় জামা কাপড় বদলে ঠাকুর পুজো করাটা সত্যিই কষ্টকর। কোনো রকমে ঠাকুরের নাম নিয়েই করে চলেছি। যাইহোক কিছুক্ষণ বাদে শুভ ফিরে প্রথমে এক‌কাপ কফি খেলো। তারপর ওকে পাউরুটি সেঁকে রসগোল্লার সাথে দিলাম।

IMG_20260115_201456.jpg
"আমার‌ পছন্দের নারকেল মুড়ি"

ফ্রিজে বেশ কিছুটা নারিকেল ছিলো।‌ আমার অনেক দিন ধরেই ইচ্ছে করছিলো নারকেল মুড়ি দিয়ে খাবো। কিন্তু গতকাল একাদশী থাকাতে আর খাওয়া হয়নি। তাই আজ সন্ধ্যা বেলায় একটু খেয়ে নিলাম। তারপর আবার বোনের সাথে ও মামীর সাথে কিছুক্ষণ কথা বললাম।

1672344690977_010726.jpg

"রাত্রিবেলা"

রাতে রান্না ছিল না শুধু রুটি তৈরি করেছি। কিছুক্ষণ আগে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে, সবকাজ গুছিয়ে হবে পোস্ট লিখতে বসলাম। তবে এই মুহূর্তে হাতে আমার আইসক্রিমের বাটি রয়েছে।

IMG_20260115_202023.jpg
"বাটারস্কচ আইসক্রিম"

জানি অনেকেই অবাক হবেন, এই ঠান্ডায় আইসক্রিম শুনে। আসলে অনেক দিন ধরে আইসক্রিমটা ফ্রিজের ভিতরে ছিলো। দুপুরে খাওয়ার কথা মনেই থাকে না।‌ তাই আজ উপরে আসার সময় বাটিতে করে নিয়ে এলাম। কিছুটা শুভ খেলো, আর বাকিটা আমি খাচ্ছি আর পোস্ট লিখছি।

এরপর শুতে যাবো। আগামীকাল থেকে আবার রুটিনমাফিক দিন শুরু হবে। তবে সারাটা দিন যেমনই কাটুক না কেন, চিনির চলে যাওয়াটা মনটাকে ভারাক্রান্ত করেছে। হয়তো আমার দিনটা রুটিন মাফিক চলবে কিন্তু মামী এবং আমার বোনের জীবনটা রুটিনের বাইরে চলে গেলো। কারণ ওদের দিনের অনেকটা সময় চিনিকে ঘিরেই‌ কাটতো।

সময় আসলে সমস্ত কিছু ঠিক করে দেয়, এটা আমি বিশ্বাস করি। আমিও ওদের মতো এতোটা সময় ভাবতাম, পিকলুকে ছাড়া আমার দিনযাপন অসম্ভব। কিন্তু কতগুলো মাস কাটিয়ে দিলাম ওকে ছাড়াই। ধীরে ধীরে ওদেরও অভ্যাস হয়ে যাবে।

যাইহোক আপনারা সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, এই কামনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। শুভ রাত্রি।

9vWp6aU4y8kwSZ9Gw15LFL3aMdhmgmBBFMpDJregpdP328TqCvhjhspw5NBPbWMShaDD4yjYoZFwyWS9XH9YcrMyqTMGHiWpaGrwDGkXYMbDHgxptYZq3ueRpXapEAPkAuu3vPaZSXJ2USdTC.png

Sort:  
Thank you for your valuable efforts! Keep posting high-quality content for a chance to receive more support from our curation team
1000032813.png
Curated By @memamun
 29 days ago 

Thank you @memamun for your support. 🙏

Loading...