আমার বারান্দার দুই গাছে একসাথে ফোটা প্রথম ফুল।
আমার বিড়াল ক্যারামেল বারান্দা থেকে পরে মারা যাওয়ার পর থেকে বারান্দায় যাওয়া অনেক কমে গেছে আমার ।বারান্দায় নেট লাগাই লাগাই করে লাগানোও হচ্ছিলো না এতদিন।যার কারণে আমার দুই বিড়াল না ঘুমানো পর্যন্ত বারান্দার দরজা বন্ধই রাখা হতো এতদিন।
এর মাঝে নেট লাগানো হয়েছে কিন্তু যে বারান্দায় ফুলগাছগুলো রাখা হয়েছে সেই বারান্দার নেট খানিকটা কম হওয়ায় কারণে আগের মতোই ভয়ে বন্ধ রাখা হয় বেশি ।নেট না লাগানো পর্যন্ত শান্তিতে খোলা যাবে না ।আর ওরাও এত বুদ্ধিমান যে ওই রুমে ঢুকতে দেখলেই আগে আগে গিয়ে দুজন বারান্দায় বের হওয়ার দরজার সামনে বসে মিয়াও মিয়াও শুরু করে ।
ওদের অত্যাচারে মাঝে মাঝে পানিও দিতেও সমস্যা হয় ।যাই হোক , আজকে সকালবেলা বারান্দায় গিয়ে আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে ।আমার দুটো গাছে প্রথমবার ফুল ফুটেছে।কবে কুড়ি এসেছে খেয়াল করি নাই আগে ।চন্দ্রমল্লিকা গাছটা আগেই ফুলে ফুলে ভরে গেছে অবশ্য ।
এবার এখনও নতুন কোন শীতেকালীন ফুল গাছ লাগানো হয় নাই ।চন্দ্রমল্লিকা গাছটা পুরনো সেটার মাঝেই ফুল ফুটেছে ।তবে গাছের বয়স বেশি হওয়ায় কারণেই হয়তো ফুলের সংখ্যা প্রচুর হলেও সাইজ অনেক ছোট ।
আজকে অবশ্য নতুন করে চন্দ্রমল্লিকা আমার নজর কেকেড়ে নেয় নাই বরং নজর কেড়েছে পার্পল হার্ট ওআমার বারান্দায় জন্মানো এক নাম না জানা গাছে ফোটে থাকা হলুদ রঙেরফুল ।পরবর্তীতে এই নাম না জানা গাছ এর সম্পর্কে জানতে গিয়ে গুগল লেন্সে সার্চ দিয়ে নাম জানতে পারলাম কালান্চু ।
এ পর্যন্ত ঠিকই ছিলো তবে এর বাংলা নাম জেনে আমি বলা যায় খানিকটা বোকা হয়ে গিয়েছি ।কারন এর নাম পাথরকুচি ।যা আামার বিয়ের আগে আমাদের বাড়িতে অনেক ছিলো কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ভুলে গেছি সেই গাছ দেখতে কেমন হয় সেই কথা । সময় আমাদের অনেক কিছুই যে ভুলিয়ে দেয় এটা তারই প্রমান।
এই পাথরকুচির যে ঔষধিগুন আছে সেটা আগেও জানতাম কি গুন সেটা জানতাম না কিংবা জানলেও গাছের নামের মতোন ভুলে গেছি ।তবে আজকে এই গাছ সম্পর্কে সার্চ দিয়ে জানতে পারলাম যে পাথরকুচি গাছের পাতার অনেক উপকারিতা রয়েছে, যেমন এটি মূত্রনালীর সংক্রমণ, মূত্রপাথর, পুরনো সর্দি, পেট ফাঁপা এবং শিশুদের পেটে ব্যথায় উপকারী।
এছাড়াও এটি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ব্রণ, ক্ষত , পেটের সমস্যা , সর্দি -কাশি এবং পোকার কামড়েও ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও রক্তপিত্ত ও মৃগীরোগীদের ক্ষেত্রেও ব্যাবহার করা হয়ে থাকে।
তবে সবকিছুর মতোই এর কিছু অপকারিতা ও রয়েছে ।এই গাছে পাতা অতিরিক্ত অতিরিক্ত খেলে পিত্ত থলির সমস্যা , ডাইরিয়া সহ পেটের বিভিন্ন সমস্যা ও মুখের স্বাদ নষ্ট করে দিতে পারে ।
তবে গাছের গুনাগুন যাই থাকুক না কেন এর ফুল দেখতে অপূর্ব ।
পাথরকুচি সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমার অন্য গাছের ফুলের কথা বলতে ভুলেই গিয়েছি।আমার বারান্দার এক কোনে এই পার্পল হার্ট এর গাছ রয়েছে যাকে আমি আমার এক ননদের বাড়ির সামনে থেকে তুলে এনেছিলাম ।অতি নাজুক এই গাছ সামান্য চাপ লাগলেই ভেঙে যায় যদিও সেই ভেঙে যাওয়া অংশকে মাটিতে পুতে দিলে নতুন করে জন্মায় ।
ভেজা ভেজা মাটিতে ভালে হয় এতটাই খেয়াল করেছিলাম কিন্তু এই গাছে যে এত সুন্দর ফুল ফুটে এসম্পর্কে আমার কোন ধারনাই ছিলো।গাছের মতো তার ফুলের রঙও বেগুনি এই কারণেই হয়তো এর নাম পার্পল হার্ট ।এর বেগুনি রঙের আভা যেকোন মানুষের মন জয় করতে বাধ্য ।





Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟
@wirngo,
thank you so much for your encouraging support,ma'am.