কঠিন সময়!

জানিনা
এই মুহুর্তে যার সাথেই কথা হচ্ছে সকলেই ভয়ংকর সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন!
অনেকেই হয়তো লেখাটি পড়ে মনে করতে পারেন, অন্যের সমস্যা নিয়ে আমার মাথাব্যথার কারণ কি?
আসলে, সেই অর্থে সকলের মত ভাবতে পারলে হয়তো সত্যি মাথা ব্যথার আমার বিশেষ কোনো কারণ নেই, আবার যদি বিষয়টি একটু অন্য ভাবে দেখি অর্থাৎ মানবিকতার দৃষ্টিভঙ্গি দিতে তাহলে, যারা এই মুহূর্তে সমস্যা গ্রস্থ সময় পার করছেন, তারাও আমারই মতো মানুষ।
যেভাবে আমরা অন্যের সমস্যা দেখি, অথবা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি, সেটাই বোধহয় আমার আমিকে চিনতে সাহায্য করে, সাথে আমার পারিবারিক শিক্ষাকে।
যারা প্রবাদের মত মনে করেন বেল(Wood Apple) পাকলে কাকের কি?
তারা হয়তো ভুলে যান, আজকে যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে অন্য মানুষ যাচ্ছে, কালকে তাদেরকেও যেতে হতে পারে।

আর সেই জন্যই হয়তো ইংরিজি প্রবাদে কথিত আছে, হোয়াট গোস আরাউন্ড, কামস এরাউন্ড(What goes around, comes around)!
অদ্ভুত শুনতে মনে হলেও, বাস্তব বিষয় হলো অনাকাঙ্ক্ষিত খবর একের পর এক্ শুনতে শুনতে আমি কেবলমাত্র ভাবছি, এই নতুন বছর আর কি কি বয়ে আনবে আগামী মাসগুলোতে কে জানে!
সব সময় নিজে ভালো থাকাকেই আমরা প্রাধান্য দিয়ে থাকি, কিন্তু যখন কোনো জীবন অকালে ঝরে পড়ে, সেই মুহূর্তে সেই পরিবারের মানসিক পরিস্থিতি কি হতে পারে, সে অভিজ্ঞতা আমার আছে, আর তাই হয়তো এই একের পর এক্ দুঃসংবাদগুলো আমাকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে।
আমি হয়তো আগামীতে অনেক কাজ থেকে নিজেকে মুক্ত করে নেবো, কারণ আমি এখন উপলব্ধি করতে পারছি, কাজের এবং দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের জন্য পরিশ্রম করতে গিয়ে, জীবনকে এবং নিজের ভালোলাগা বিষয়গুলোর দিকে তাকাতে এক্ প্রকার ভুলেই যাচ্ছি।

এটা নিয়ে একটি ছোট গল্প উল্লেখ করছি, যেটি থেকে হয়তো আমার কথার যথার্থতা উপলব্ধি করতে সুবিধা হবে পাঠকদের।
একদিন এক ব্যবসায়ী রাতের অন্ধকারে কাজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।
অন্ধকার এতটাই অধিক ছিল যে, পায়ের কাছে পড়ে থাকা পাথর দেখতে না পেয়ে সেই পাথরে হোঁচট খেয়ে ব্যবসায়ী প্রায় সামনে থাকা কুয়োর মধ্যে প্রায় পরেই যাচ্ছিলেন!

তবে, কুয়োর পাশে থাকা একটি গাছের ডাল ধরে সে কোনো রকমে ঝুলে রয়েছেন আর ঈশ্বরকে স্মরণ করছেন, কারণ ডাল ভাঙলেই সোজা কুয়োর মধ্যে পড়ে যাবেন।
প্রাণ সংশয় নিয়ে ঈশ্বরকে স্মরণ করার মাঝেই একটি হাতির আগমন, সে এসে গাছের ডাল ধরে নাড়াচাড়া করতে শুরু করে!

পরিস্থিতি দেখে ব্যবসায়ী আরো ভয় পেয়ে যায়, একদিকে হাত ব্যাথা হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে আসছে!
হঠাৎ সে অনুভব করলো, তার ঠোঁটে এক্ ফোঁটা মধু এসে পড়লো!
খানিক তৃষ্ণা নিবৃতি হলো বটে, এরপর সে লক্ষ্য করলো, যে ডালটি ধরে হাতি নাড়াচাড়া করছিল, সেই ডালে মৌমাছি বাসা বেঁধেছে!
হাতি ডালটি নাড়া দেওয়ার ফোঁটা ফোঁটা মধু ব্যবসায়ীর ঠোঁটে একের পর এক্ এসে পড়ছে।
এরই মধ্যে সেই পথ ধরে ভগবান শিব আর তার স্ত্রী পার্বতী যাচ্ছিলেন।

ব্যবসায়ীকে বিপদে দেখে মা পার্বতী তার স্বামী শিব ঠাকুরকে অনুরোধ করলেন ব্যবসায়ীকে বাঁচানোর জন্য।
স্ত্রীর কথামত শিব ঠাকুর ব্যবসায়ীর দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন তাকে বাঁচাতে, কিন্তু তখন ব্যবসায়ীর মধ্যে মধু খাবার লালসা এতটাই বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছিল যে, সে শিব ঠাকুরকে একটু অপেক্ষা করতে বললেন, যাতে আর কয়েক ফোঁটা মধু সে খেতে পারে!

শিব ঠাকুর কতক্ষন অপেক্ষা করতেন? এক্ সময় তিনি ব্যবসায়ীকে ওই অবস্থায় ফেলে চলে গেলেন!
এরপর সেই ব্যবসায়ীর কি পরিণতি হয়েছিল, সেটি বলার অপেক্ষা রাখেনা।
গল্পটি শেখায় কঠিন, সময় এবং পরিস্থিতি সকলের জীবনেই আসে, কেবলমাত্র সেই মানুষই
উভয় অতিক্রম করতে পারেন, যিনি লালসা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে সক্ষম।
সাহায্যের হাত সৃষ্টিকর্তা সকলের দিকেই এগিয়ে দেন, কেউ সে হাত ধরে জীবনের বৈতরণী পার করতে পারেন, আর কেউ আরো আরো আরো পাবার আসক্তিতে এক্ সময় চরম পরিণতির শিকার হন।


Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟