ঐতিহ্যবাহী বেলুড় মঠ!

in Incredible India6 hours ago

1000085596.jpg

(বেলুড় মঠ)

আমার এই শহরটা অন্যান্য অনেকের মতোই আমার অত্যন্ত প্রিয়!

এবার অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন,
নিজের শহর সকলের কাছেই প্রিয়!
এই নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।

তবে যাদের শুধুমাত্র নিজেদের শহর নিয়ে আছে একের পর এক্ অভিযোগ!
তাদের এই অভিযোগ করাটা কিংবা সমালোচনা করাটা একটি দৈনন্দিন স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত! সমালোচনা সুস্থ্য হলে আপত্তি থাকে না, তবে ওই অর্ধেক জ্ঞান আর স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একটি জায়গাকে বিচার করলে চলবে না!

কাজেই, ব্যতিক্রমী দের নিয়ে আমি কখনোই ভাবিত নই, বিশেষ করে যারা সর্ব সমক্ষে নিজের দেশ তথা রাজ্য নিয়ে কেবলমাত্র সমালোচনায় সরব হয়, কোনরকম সামাজিক ভূমিকা পালন না করেই, তাদের উদ্দেশ্যে উপরের কথাগুলো লেখা!

আমার কাছে আমার দেশ তথা রাজ্য হলো একটি যৌথ পরিবারের মতো, যেখানে মতভেদ থাকবে, অশান্তি থাকবে কিন্তু একই সাথে থাকবে বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার, সাথে সম্প্রীতির বন্ধন!

উপরিউক্ত ভূমিকার যেটি মুল কারন, এবার সেই বিষয়ে আসা যাক!
এই যে আমি কলকাতায় থাকি, এই শহরটি ছিল অবিভক্ত ভারতের রাজধানী, শুধু এইটুকু পরিচয় এই শহরটি বহন করে না, অথবা বলা বাহুল্য এই শহরে জন্মেছেন একাধিক মহর্ষি!

1000085602.jpg

আজকে আপনাদের মাঝে তাদের মধ্যের একজনের সম্পর্কে নিজের অভিব্যক্তি ভাগ করে নিতে এসেছি!

নাহ্! আমার উপাধি এবং যার সম্পর্কে লিখছি তার উপাধি এক বলে পক্ষপাতিত্ব করবো না, সে বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন!

সেই ধৃষ্টতা আমার নেই! তবে, বৃত্তি পেয়ে যে গল্পের বইগুলো পেয়েছিলাম স্কুল জীবনে তারমধ্যে এই নরেন্দ্রনাথ দত্ত ওরফে স্বামী বিবেকানন্দের একটি বই ছিল!

যেটি পড়ে তখন না বুঝলেও এখন উপলব্ধি করতে পারি বড়লোকের বকে যাওয়া সন্তান চাইলেই সেই ছোট্ট নরেন্দ্রনাথ হতেই পারতেন কিন্তু বন্ধ ঘরের জানালা দিয়ে দরিদ্র সেবা চালিয়ে যাওয়া জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের সামগ্রী বিতরণ করে, আজ কি দেখা যায়?

কাউকে কিছু দেওয়া কিংবা ভাগ করে খাওয়াটা শিক্ষার একটি মূল্যবান অংশ, এখন এটাই বা কতজন শিখে বড় হচ্ছেন সেটাও সন্দেহের তালিকাভুক্ত!

শৈশবের সেই দুষ্টু ছেলেটির সময়ের সাথে, বলে যাওয়া সেই বার্তা, "জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর!"

জানিনা কতজন এই স্বার্থের যুগে মনে রেখে চলেন, তবে আজ সমালোচনা নয়, আজকের লেখায় তুলে ধরেছি আমার শহরের ঐতিহ্যের এক টুকরো নিদর্শন!

হ্যাঁ! যে ছবিটি লেখার শুরুতে দেখতে পাচ্ছেন এটি যদিও আধুনিকীকরণ করা বেলুড় মঠ এর বর্তমান চিত্র কিন্তু এই বেলুড় মঠ এর জায়গাটি ক্রয় করা হয়, ১৮৯৭ সালের ৪ঠা মার্চ এবং ৪০ একর ক্যাম্পাসে বেলুড় মঠ গড়ে ওঠে ১৮৯৮ সালের ৯ই ডিসেম্বর স্বামী বিবেকানন্দের হাত ধরে! তিনি তার গুরুদেব শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের পবিত্র স্মৃতিচিহ্ন স্থাপন করেন, মন্দিরের নির্মাণ শেষ হয় ১৯৩৮ সালে (সাঁচি স্তুপের আদলে তৈরি করা হয় মন্দিরের ডোমটি)!

1000085605.jpg

এই মঠ তৈরির পিছনে যে মহৎ উদ্দেশ্য ছিল, সেটি হলো,
স্বামী বিবেকানন্দ চেয়েছিলেন, তৎকালীন মানব সমাজ, তথা পরবর্তী প্রজন্ম তাঁর গুরু শ্রী রামকৃষ্ণের শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণ ও মানবসেবার কেন্দ্র হিসেবে মঠটি যাতে নিজের একটি ছাপ সমাজে রাখতে সক্ষম হয়।

আজ স্থানটি অনেক মানুষের পরিদর্শনের জায়গা বটে, পাশাপশি জায়গাটি যে এই শহরের ঐতিহ্যের নিদর্শন সেটা বলা বাহুল্য!

আমার শহরে যে সকল মহর্ষি দের পায়ের ছাপ রেখে গেছেন, তাদের সৃষ্টির অন্তরালে, সেই বিষয়টি নব প্রজন্ম জানতে পারুক এটাই আমার কামনা!

শিক্ষার ধরন ধারণ সময়ের সাথে বদলেছে, আর হয়তো বদলাবে, কিন্তু ইতিহাসকে অবহেলা করে নব নির্মাণ এবং পরিবর্তনের ভিত মজবুত কি সত্যি সম্ভব?

টেকনোলজি উন্নত হচ্ছে এবং আগামীতে আরো উন্নত হবে, তবে দেশের ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকেও শিক্ষিত করতে হবে সমান দক্ষতার সাথে, তাদের শেখাতে হবে, কেনো জীব প্রেম করা, সৃষ্টিকর্তাকে সেবা করবার সমতুল্য!

নিজের শহরের এমন একাধিক ইতিহাস আমাকে আজও গর্বিত করে, যার একটি নিদর্শন আজ আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম।

আপনিও কি গর্বিত আপনার শহর তথা তার ঐতিহ্য নিয়ে? মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না, যদি লেখাটি আপনার দৃষ্টিগোচর হয়!

1000010907.gif

1000010906.gif