দক্ষিণ ভারতের ছায়াছবি - অপরিচিত!

এই মুহুর্তে বসে একাধিকবার দেখা দক্ষিণ ভারতের একটি প্রসিদ্ধ ছায়াছবি "অপরিচিত" দেখছি, যার কিছু ছবি টেলিভিশন থেকে মোবাইল ক্যামেরা বন্দি করে লেখার মাঝে তুলে ধরলাম।
প্রশ্ন হলো ছায়াছবিটি একাধিকবার দেখার পরও কেনো দেখছি?
এই প্রশ্নের উত্তর হলো, এই ছায়াছবিতে স্প্লিট পার্সোনালিটি বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, ছায়াছবির নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন দক্ষিণ ভারতের হিরো বিক্রম!
ছায়াছবিটি শিশুদের দেখার উপযোগী নয়, কারণ ছবিটিতে কিছু দৃশ্য আছে,
যেটি এই পার্সোনালিটি কে ফুটিয়ে তুলতে দেখানো হয়েছে।
এবার আসবো কাহিনীর বিষয় নিয়ে, যেখানে দেখানো হয়েছে একটি খুব সহজ সরল শিক্ষিত ছেলেকে, যে স্বভাবে ভীতু, সংস্কৃতে পারদর্শী, তবে কোনো রকম নিয়ম উলঙ্ঘন এবং আইন বিরুদ্ধ আচরণ মেনে নিতে পারে না!
এরকম একদিন স্বপরিবারে ট্রেনে করে যাত্রা করবার সময় খাবারের নিম্নমান নিয়ে প্রতিবাদ দিয়ে শুরু হয় তার একাধিক প্রতিবাদ!
নিজের ব্যক্তিত্বের বাইরেও জন্ম নেয় তার আরেক স্বত্তা!
এই স্বত্তা তার মত ভীতু নয়, বরং তার নিজস্ব স্বত্তার একেবারে বিপরীত!
অন্যায় করা ব্যক্তি তথা পরিষেবায় জড়িত মানুষদের শাস্তি দেওয়া শাস্ত্র মতে তার লক্ষ্য!
তবে, এই হিংস্রতার পরে সে পুনরায় ফিরে যায় তার সেই ভীতু সহজ স্বাভাবিক রূপে!

![]() | ![]() |
|---|
যে মেয়েটিকে সে ভালবাসার প্রস্তাব দেয় সে এই বলে তাকে প্রত্যাখ্যান করে যে, ছেলেটির এই নিয়মানুবর্তিতা সব বিষয়ে তার ভালো লাগে না, ঘড়ি ধরে সব কাজ করা মেয়েটির কাছে খানিক রোবটের মত মনে হয়!
এরপর জন্ম নেয় রেমো নামের আরেকটি পার্সোনালিটি ছবির নায়ক এর মধ্যে।
যে, বোঝে মেয়েরা কি চায়, কিভাবে তাদের মন জয় করতে হয়, ইত্যাদি!
চাইলে আপনারা অনেকেই ছায়াছবিটি অনলাইন পেয়ে যেতে পারেন, তবে ছবিটি দেখার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে।
যেমন আমি ছবিটি দেখতে দেখতে এটা উপলব্ধি করেছি, আমাদের সকলের মধ্যেই একাধিক পার্সোনালিটি কাজ করে, পার্থক্য এই যে, আমরা প্রতিটি স্বত্তার আবেগ এবং অনুভূতি লুকিয়ে রাখতে সক্ষম যেটি ডিপ্রেশনের মধ্যে দিয়ে যাওয়া মানুষগুলো পারেন না!
একটা বিষয় নিজেরা কখনও লক্ষ্য করেছেন?
জীবনের এমন অনেক সময় আসে যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেবার সময় মন থেকে ভিন্ন উত্তর আসে!

![]() | ![]() |
|---|
একটা মন বলে কাজটি কিংবা সিদ্ধান্তটি নিতে, আবার অন্যদিকে আরেকটি মন বলে কাজটি থেকে বিরত থাকতে!
এই দ্বন্দ্বের থেকে মুক্ত হতে আমরা পারিপার্শ্বিক আপনজনের সহায়তা নিয়ে থাকি কিছু ক্ষেত্রে, আবার কিছু বিষয় থাকে যেগুলো কারোর সাথে ভাগ করে নিতে পারি না, এবং সেক্ষেত্রে একটা অন্তর্দ্বন্দ্ব কাজ করে মনের মধ্যে!
ছায়াছবিটি আসলে সেভাবে যদি মূল্যায়ন করা যায়, এই ধরনের চরিত্র সকলের মধ্যেই বিদ্যমান!
আবার, সমাজে ভদ্র পোশাকে একাধিক সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত কিংবা ধরুন বুদ্ধিজীবীর তকমা পেয়েছেন তাদের সামাজিক অবস্থানের জন্য ব্যাক্তি জীবনে তাদের একাধিক কদর্য রূপ রয়েছে!
ঠিক এই বিপরীত স্বত্তা যেটি হয়তো একমাত্র অন্দরমহলে থাকা কাছের মানুষগুলো জানেন!
ইতিপূর্বে জানিয়েছি, আমি তিনটি এনজিও তে কর্মসূত্রে যুক্ত ছিলাম, সেই সূত্রে বিষয়গুলো কাছ থেকে দেখবার সুযোগ হয়েছে।
তাই, যখনই ছবিটি টেলিভিশনের পর্দায় দেখি, তখন মনে পড়ে যায়, বাস্তব জীবনের গল্প নিয়ে ছায়াছবি তৈরি হয়, এটা অপরিবর্তিত সত্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই!
নিজের মধ্যে আপনাদের মধ্যে কেউ কখনও একাধিক স্বত্তার খোঁজ পেয়েছেন?





