পরিণতি!

ইতিপূর্বে নিজের লেখায় উল্লেখ করেছিলাম, কিছুদিন ধরেই ঠিক সন্ধ্যে নাগাদ আকাশ কালো হয়ে ঝড় বৃষ্টির প্রকোপ দেখা যাচ্ছে!
গতকাল ও তার অন্যথা হয়নি! তবে, এর প্রকৃত কারণ গতকাল অনুধাবন করতে পারলাম, যেমন বাড়ির পোষ্য যেকোনো অশনি সঙ্কেত কিংবা কোনো এমনকিছু যার উপস্থিতি যা খালি চোখে দেখা যায় না, অথবা দেখা গেলেও মান শ হয়তো বুঝতে অক্ষম!
অন্যদিকে, আমি লক্ষ্য করে দেখেছি, প্রচণ্ড ঝড় আসবে এর পূর্বাভাস আরশোলা উড়ে বেড়াতে দেখলেও পুরোনো মানুষ আন্দাজ করতে পারতেন।
বিষয়গুলো কাকতালীয় ঘটনা হতেই পারে, তবে আমি ব্যাক্তিগত জীবনে লক্ষ্য করে দেখেছি, প্রতিবাদের ভাষা প্রকৃতিও জানে, এবং সময়ের সাথে এটাও দেখেছি কোনো সৎ মানুষের চিরতরে হারিয়ে যাবার সময় আবহাওয়ার পরিবর্তন ইত্যাদি!

তবে, বিপরীত বিষয়টিও লক্ষ্যণীয়, যেমন পাপের বোঝায় প্রকৃতি ভারাক্রান্ত হয়ে উঠলে, খড়া, অতিবৃষ্টি, ভূমিকম্প, সুনামি এমন অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইতিপূর্বে দেখা গিয়েছে।
যদিও, বিজ্ঞানে বিশ্বাসী মানুষ আমার উপরিউক্ত কথাগুলোকে হেসে উড়িয়ে দিতেই পারে, এবং সেক্ষেত্রে আমার মনে করবার কিছুই নেই, কারণ আমিও যে বিজ্ঞানকে অস্বীকার করি সেটা তো নয়, তবে আমি এই প্রযুক্তির ঊর্ধ্বে ও অদেখা একটি প্রযুক্তিকেও বিশ্বাস করি, এবং তার উপস্থিতিতে স্বীকার করি, যিনি সৃষ্টিকর্তা!
লেখাটি তার ভিত্তিতেই লিখছি, যেটি একান্তই ব্যক্তিগত অভিমত, কারোর সহমতের প্রত্যাশা ছাড়াই!

যারা পাপ কিংবা পুণ্য বিষয় দুটিতে বিশ্বাসী তারাই হয়তো আমার লেখার বিষয়বস্তু বুঝতে পারবেন, কিন্তু যারা লোকচক্ষুর সামনে নিজেদের প্র্যাক্টিকাল এবং নাস্তিক বলে দাবি তো করেন, কিন্তু যখন নিয়ম নিজ নিজ ধর্মের নিয়ম পালনের সময় আসে, তাদের উপস্থিতি সেখানে লক্ষ্যণীয়!
এটা এক ধরনের দ্বিচারিতা। এরা ভুলে যায়, পাপ করতে করতে একটা সময় আসে যখন তাদের এই দ্বিচারিতা প্রকৃতিও মেনে নেয় না!
এবার ঠিক সেটাই হয়েছে, আমার রাজ্যে, যার পূর্বাভাস আগে থেকেই দিচ্ছিল প্রকৃতি।
আমি বিশ্বাস করি দায়িত্ব পদ মর্যাদার সাথে বয়ে আনে একাধিক পরীক্ষা, সেটা কখনও সততার, কখনও নির্ভেজাল বিচারের, কখনও মানবিকতার, আবার কখনও মনুষত্বের!
সুযোগ পেয়ে যদি কেউ পুরোনো শিক্ষা ভুলে যায়, এবং প্রতিবাদের ভাষা হিংসায় রূপান্তরিত হয়, সেই মুহূর্ত থেকে বুঝতে হবে, এবার পরিবর্তন নিশ্চিত।

আবার অনেক ক্ষেত্রেই আমি দেখেছি, একজন মানুষ বলে এক কথা, বিশ্বাস করে এক কথা, আবার কাজে করে আরেক!
অর্থাৎ পালের হওয়া যেদিকে, সেদিকেইংগা ভাসিয়ে দেয়, এদেরকে মেরুদণ্ডহীন জীব ছাড়া আমার কিছুই মনে হয় না, কারণ নিজের সুবিধার্থে এরা যেকোনো কিছুকেই ব্যবহার করে থাকে, সেটা পরিবারের সদস্যের ইমোশন হোক, সমাজ থেকে নিজের লাভের সুবিধার্থে নিজের ক্ষমতার দেখন দারি হোক, অর্থাৎ সর্বত্রই নিজে ভালো থেকে, পাশের মানুষের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে দেওয়া!
এরা অভিনয়েও সিদ্ধহস্ত, তাই ভাবটা এমন ভাজা মাছ যেনো উল্টে খেতে অক্ষম!
তবে, ওই যে শুরুতেই উল্লেখ করেছি, পাপ, অনাচার অধিক সময় ধরে স্থায়ী হয় না, এক্ সময় সমূলে উৎপাটিত হতেই হয়।
প্রকৃতির এই বিগত দিনের প্রতিবাদ ছিল পরিবর্তনের! সেটা সুস্পস্ট হয়ে গেলো গতকাল, পাপের ঘড়া ভরে গেলে, তার অবসান নিশ্চিত!
জীবনের ফিলোসফি এখনো বিজ্ঞান পরিবর্তন করতে অসমর্থ, সময় সব কিছুই পাই পাই হিসেব রাখে, আর সঠিক সময়ে তার বিধান দেয়।


