টাকা মাটি, মাটি টাকা!

in Incredible India17 hours ago

1000069467.jpg

আজকের লেখার শীর্ষক শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবার বাণীর উক্তি!

তিনি কিন্তু মানুষের সবচাইতে বড় ছয়টি শত্রুর অন্যতম, মোহ কে উদ্দেশ্য করে উপরিউক্ত উক্তিটি করেছিলেন।

যেখানে তার মুল বক্তব্য ছিল, আসক্তি পরিত্যাগ করে, লোভ পরিত্যাগ করা!
আচ্ছা! এই প্রসঙ্গে যে ছয়টি রিপুর(ষড়রিপুর) কথা বলছি, যারা জানেন না এদের সম্পর্কে তাদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখি,

  • প্রথম রিপু হলো:- কাম(অর্থাৎ কোনো কিছুর প্রতি আসক্তি কিংবা আকাঙ্ক্ষাকে বোঝায়)!

  • দ্বিতীয় রিপু হলো:- ক্রোধ (সাধারণ অর্থে রাগ বা ক্ষোভকে বোঝায়)!

  • তৃতীয় রিপুটি হলো:- লোভ (অতিরিক্ত লালসা কিংবা অপূরণীয় চাহিদা)!

  • চতুর্থ রিপু হলো:- মোহ (অর্থাৎ কোনো বিষয়ের উপর কিংবা কোনো বস্তুর উপর অত্যধিক আকর্ষণ)!

  • পঞ্চম রিপুটি হলো:- মদ (যার আক্ষরিক অর্থ আপনারা যেটা চলতি কথায় ভাবছেন সেটা নয়, বরং এর অর্থ হলো,

    কোনো কিছু নিয়ে অতিরিক্ত গর্ব কিংবা অহংকারকে বোঝায়
    )!

  • ষড়রিপুর ষষ্ঠ রিপুটি হলো:- মাৎসর্য(এই সংস্কৃত শব্দের অর্থ হলো ঈর্ষা)!

1000069466.jpg

এই ষড়রিপুর থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার বার্তা দিতে গিয়ে উপরিউক্ত কথাটি রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব বলেছিলেন!

উপরিউক্ত বিষয়টি একটা দিক যদি শাস্ত্রের হাত ধরে বলি, কিন্তু আজকের সামাজিক প্রেক্ষাপটে দাড়িয়ে যদি নিজেদের খানিকক্ষণের জন্য আয়নার সামনে দাড় করানো যায়, তাহলে কতজন বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন বলুন তো যে তারা উপরিউক্ত উল্লেখিত একটি রিপুর ও অন্তর্ভুক্ত নয়?

1000069463.jpg

আমি হলফ করে বলতে পারি, একজন ও পারবেন না!
আর এটাই বর্তমান বাস্তব! সেই সময় দাড়িয়ে স্বামী বিবেকানন্দের মত কিছু মানুষ শীর্ষকটির
অভ্যন্তরীণ অর্থ বুঝেছিলেন বলেই আজও তারা এবং তাদের নৈতিকতা বেচে রয়েছে কিছু মানুষের মনে, সেটা শতাংশের হিসেবে এক্ শতাংশই হোক না কেনো!

আজকের সামাজিক অবক্ষয় এমন জায়গায় পৌঁছেছে গোটা বিশ্বের পরিস্থিতির নিরিখে যে, যার যত জমি, তার ততো টাকা এই বাণীতে সকলে বিশ্বাসী!
অর্থাৎ মাটিতে টাকা, আর টাকা মানেই মাটি, এই দর্শনে আজ বিশ্বের সকলে মেতে উঠেছে!

এই যে যুদ্ধ, এর পিছনের উদ্দ্যেশ্য উপরিউক্ত ষড়রিপু, কিন্তু ভুগছে কারা? গোটা বিশ্বের সাধারণ দিন আনা দিন খাটা মানুষ!

সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই, আসনে বসে আরামে শাসন করা মানুষদের, তাদের লক্ষ্য যতক্ষণ আসন আছে, ততক্ষণ লুটেপুটে খেয়ে যাও!

এরপর সুযোগ যদি না পাওয়া যায়! অথচ আশ্চর্যের বিষয় কি জানেন? এই দিন আনা দিন খাটা মানুষের সমর্থন পেয়েই কিন্তু শাসক তার গদি এবং পদমর্যাদা পেয়ে থাকেন!

1000069464.jpg

কাজেই, যারা সুশাসক, তারা নিজেদের জনপ্রতিনিধি ভাবেন, শাসক নয়!

আর সামান্য কিছু সস্তা প্রকল্প বাজারে চালিয়ে, বিনামূল্যের অর্থ, খাদ্যের লোভ দেখিয়ে নিজেদের বছরের পর বছর আসনে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হচ্ছেন গোটা বিশ্বের শাসক!

একবার যদি এই বিনামূল্যের সামগ্রী তথা টাকার উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে মানুষ সচেতন হতেন, তাহলে তারা কাজ চাইতেন!

ঘরে বসে বিনা পরিশ্রম করে অর্থ পাওয়া, আর ভিক্ষার মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য দেখি না! পার্থক্য শিক্ষিত মানুষ ফর্ম ফিলাপ করে ভিক্ষা প্রার্থনা করে, আর অশিক্ষিত দরিদ্ররা চায় পথে পথে!
দ্বিতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেও অনেকেই ভিক্ষা চাওয়াটা পেশা করে নিয়েছেন, প্রথম সম্প্রদায়ের মতো করে, তবে ব্যতিক্রমী অবশ্যই আছে, যারা যোগ্য এই অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে!

1000069465.jpg

এই টাকা পাওয়ার যোগ্য মানুষগুলো হলো, সেই বৃদ্ধ কিংবা বৃদ্ধা যাদের কর্ম করবার শারীরিক ক্ষমতা নেই, সাথে সেই শারীরিক বিকলাঙ্গ যাদের হয় কোনো দুর্ঘটনায় শারীরিক অঙ্গহানি হয়েছে, নয়তো জন্মাবধি বিকলাঙ্গ!

সেই মানুষদের নয়, যারা শারীরিকভাবে সুস্থ্য এবং কর্ম করবার সামর্থ রাখেন!

ঘরে বসে টাকা পাচ্ছেন এমন মানুষগুলোর মধ্যে অনেকেই নিজেদের শখ পূরণ করছেন কিন্তু তারা যদি জানতেন এর পরিণতি কি ভয়ঙ্কর তাহলে হয়তো কিছু মানুষ এই বিষয়টি থেকে নিজেদের বিরত রাখতেন।

দেশের তথা রাষ্ট্রের উন্নতি কাজের মাধ্যমে এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে আসে!
সমালোচনায় মুখোর মানুষগুলো যদি সত্যিই দেশের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতেন, তাহলে পরিশ্রম করে উপার্জন করবার মানসিকতা রাখতেন, সুস্থ্য শরীরে জন্মে এইভাবে হাত পেতে ভিক্ষা করতেন না!

এর চাইতে তো অনেক বেশি উন্নত সেই মানুষগুলো, যারা ট্রেনে উঠে হকারি করেন, শারীরিক বিকলঙ্গতা নিয়ে!

অর্থাৎ আজকের দিনে গোটা বিশ্ব নিমজ্জিত ষড়রিপুতে আর তার মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে!

1000069382.jpg
1000069384.jpg

পরিস্থিতির পরিবর্তন তখনই সম্ভব, যখন একেবারে মুল শিকড় অর্থাৎ সাধারণ সেই মানুষগুলোর বসে খাওয়া মানসিকতার পরিবর্তন হবে।

সামান্য কিছু দিয়ে যে বিশেষ হারিয়ে যাচ্ছে, এটা মূল্যবৃদ্ধি টের পাইয়ে দেবার প্রয়াস করলেও টনক নড়েছে না সেই সাধারণ মানুষের যারা হিংসায়, লোভে এবং বসে খাওয়ায় বিশ্বাসী!

সব মিলিয়ে আজকে যদি শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব জীবিত থাকতেন, তাহলে হয়তো মায়ের(মা কালীর) আঁচলে মুখ লুকোতেন!
তাই ভক্তির ভাষা পরিবর্তন করতে হলে, নিজেদের স্বভাব এবং আচরণ শুধরানোর প্রয়োজন আছে, বলে আমি মনে করি!

1000010907.gif

1000010906.gif

Sort:  


image.png
Curated by:@wirngo

 5 hours ago 

Appreciated your support @steemcurator04 and @wirngo😊

Loading...