ইচ্ছে!

উড়ছে দেখো ডানা মেলে;
সমস্ত গ্লানি পিছনে ফেলে!
ভাবছি দেখে, পেতাম যদি ডানা;
আমিও হয়তো খানিক হতাম বেপরোয়া,
না শুনে কোনো সীমারেখার মানা!
স্বাধীনতার স্বাদ এরাই শুধু জানে;
বেপরোয়া হয়ে তাই উড়ে বেড়ায়,
সীমারেখার বাইরে নানান স্থানে।
ছন্দ মিলিয়ে মাইলের পর মাইল উড়ে;
পৌঁছে যায় দেশ হতে দেশান্তর
পার করে কোন সে সুদূরে!
আমায় তোরা সঙ্গী করে নে...
নতুন করে বাঁচার কারণ খুঁজে দে!
মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা,
চিৎকার করে তাদের একবার ডাকা;
শূন্যতা আজ করছে বিরাজ...
সময়ের সাথে আসে পাশে সব ফাঁকা!
- সুনীতা।

আজকে অনেকদিন পর কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করে নিজের লেখা শুরু করলাম।
একদিকে দমবন্ধ করা তাপ প্রবাহ, আর অন্যদিকে ঘরে বিরাজ করা শূন্যতা!
সব মিলিয়ে বড্ডো দমবন্ধ অবস্থায় দিন যাপন করতে এক্ প্রকার বাধ্য হচ্ছি।
আবহাওয়া বাইরে যেতে বাধ সাধছে, আর ঘরের ভিতরে একাধিক চিন্তা আমাকে আবিষ্ট করে রাখছে সর্বক্ষণ।
পরিবর্তন সময়ের হাত ধরে আসে প্রকৃতির মাঝে, রাজনীতিতে পরিবেশে কিন্তু আমার জীবনে আগামীতে কি আদেও কোনো পরিবর্তন আসবে?
জানা নেই! সত্যি বলতে আমার জীবনের অনেক স্বপ্ন অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে, পারিনি সেগুলো সম্পূর্ণ করতে কাছের মানুষগুলোর অকাল প্রয়াণে কারণে!

এখন আমার প্রায়শঃই হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে, ভাবতে চাইনা অতীত নিয়ে কিন্তু এই অতীতের স্মৃতি যেন আমার একাকীত্বের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে প্রত্যহ আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।
একটু ভরসার আশায় যেদিকেই ছুটে বেড়িয়েছি, সময় বুঝিয়ে দিয়েছে কি ভীষণ রকমের সুবিধাবাদী ছিল সেই মানুষগুলো!
সত্যি বলতে আজ চেনা মানুষদের সঙ্গে কথা বলবার ইচ্ছে মৃতপ্রায়!
অনুভূতিহীন এক্ শূন্যতাকে আজ আমি রপ্ত করতে পেরেছি।
কেনো কেউ খোঁজ নিচ্ছে না, কে কেমন আছে এসব বিষয় নিয়ে আজ আমার আর কিছুই যায় আসে না।
এখন আমি হিসেব করতে শিখেছি!
এখন আমি বুঝেছি কিভাবে নিজেকে পণ্য হবার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব!
ব্যবহার করাটা, সেটা বিশ্বাস, ভালোবাসা, আস্থা ইত্যাদি মানুষের সহজাত অভ্যেস!
তাই নির্ভেজাল, নিঃস্বার্থ প্রকৃতি আর এই অবলা জীবগুলো অনেক বেশি কাছের হয়ে উঠছে সময়ের হাত ধরে।

রক্তাক্ত বাহ্যিক ক্ষত চোখে দেখা গেলেও, অভ্যন্তরীণ ক্ষত স্থানের খোঁজ কেউ কাজে না, যদি না অন্তরালে নিজের স্বার্থ সুপ্ত অবস্থায় থাকে।
প্রাণীকুল বেচে থাকতে অন্য প্রাণীকে আক্রমণ করে, আর মানুষ স্বাদের পার্থক্যের কারণে জীব হত্যা করে নিছক উদর তৃপ্তির জন্য!
একাধিক খাদ্যের যোগান প্রকৃতি দিলেও তারা তাতে সন্তুষ্ট নয়, আবার উল্টো করে বললে নিজেদের জিভের লালা কে উস্কে দেবার জন্য এরা উদ্ভিদকুল সহ প্রাণীকুলকেও রেয়াত করেনি!
সেখানে যেমন পশু আছে, সঙ্গে আছে পাখিরাও!
আর এই স্বভাবটা প্রতি ক্ষেত্রেই অধিক মানুষের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়।
কাজে লাগলে, ক্ষমতায় থাকলে তোষামোদ, নইলে মুখ ঘুরিয়ে অন্য পথ বেছে নেওয়া!
এই দমবন্ধ করা পরিবেশ পিছনে ফেলে বহুদূরে চলে যাওয়ার এক্ অদম্য ইচ্ছা আজ প্রত্যহ মনের কোণে উঁকি দেয়।
উপরিউক্ত ভাবনাগুলো একান্তই নিজস্ব, সহমতের প্রত্যাশা না রেখেই লেখাটি ভাগ করে নিলাম।

