যাত্রী!

প্রত্যহ জীবনের সংঘর্ষ দেখতে হলে একবার চোখ ফেরাতে হবে প্রতিদিনের গলঘর্ম হয়ে যাতায়াত করা, ভিন্ন ভিন্ন কাজের সাথে যুক্ত যাত্রীদের দিকে!
কর্মক্ষেত্রে যাবার সময় হোক কিংবা বাড়ি ফিরতি পথের যাত্রী, দৃশ্যটি হতে পারে বাস, কিংবা লোকাল ট্রেন উভয় ক্ষেত্রেই এদের উপস্থিতি চোখে পড়ে!
কোনো রকমে নিজেকে ভিড়ের মধ্যে গুঁজে সঠিক সময় কাজে যোগদানের যে দৈনন্দিন লড়াই এরা বছরের পর বছর চালিয়ে যান, তাকে কুর্নিশ না করে উপায় নেই।
আবার উল্টোদিকে বাদুড় ঝোলা হয়ে, এদেরকে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়!
যাত্রী, হ্যাঁ! এই শব্দটি আজকের লেখার শীর্ষক, কেনো জানেন?
এই যে উপরিউক্ত যাত্রীদের কথা উল্লেখ করলাম, এদের বাইরেও আমরা সকলেই এই পৃথিবীর বুকে যাত্রীই বটে!

কি তাই না? দেখুন! জীবন একটা নির্দিষ্ট সময় সীমায় আবদ্ধ যাত্রা,
আর আমরা অর্থাৎ যত প্রাণীকুল ইহজগতে রয়েছে তারা সকলেই এই যাত্রা পথের যাত্রী!
একদিন, এই পৃথিবীতে আসার মতোই নিজের কাজের, নিজের দায়িত্বের এবং সর্বোপরি যাত্রার সময়সীমা শেষে ফিরতে হবে সকলকেই যার যার নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে!
যদিও অনেকেই নাক উঁচু করে বলতে পারেন, যে মানুষগুলো অসময়ে চলে যান, তাদের ক্ষেত্রে কি করে উপরের কথাগুলো প্রযোজ্য?

তারা তো সময়ের অনেক আগেই ইহলোক ত্যাগ করেছেন! অনেক বছর আমিও সেটাই ভাবতাম, এখনো মাঝেমধ্যে যে ভাবিনা এমনটা নয়, তবে কোথাও গিয়ে যেনো মনে হতে শুরু করেছে আজকাল হয়তো এর সেই সকল যাত্রীদের অন্তর্ভুক্ত যারা অর্ধেক পথে নেমে পড়েন ভিড়ের চাপে!
এরপর হয়তো, নতুন যাত্রায় সামিল হন, কে বলতে পারে!
জীবনের দৈনন্দিন প্রতিযোগিতায় সামিল হবার পরে তার চাপ মেনে নিয়ে যাত্রা সম্পূর্ণ করতে পারা যাত্রীর সংখ্যা অধিক এবং এদের এই সংঘর্ষকেই উপরিউক্ত লেখায় প্রকৃতপক্ষে কুর্নিশ জানিয়েছি।
হার না মেনে, মেরুদণ্ড সোজা রেখে প্রতিকূলতাকে পদদলিত করে এগিয়ে চলা কি মুখের কথা?
শারীরিক যুদ্ধ, মানসিক যন্ত্রণা এবং অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণের এ যেনো এক্ মুহীম!
প্রতিদিনের হেরে যাওয়া যন্ত্রণার মধ্যে থেকেই পরের দিনের জন্য নিজেকে পুনরায় প্রস্তুত করবার প্রয়াস এই যাত্রার নিত্য দিনের সঙ্গী!
ভিড়ের মাঝে নিজের জন্য জায়গা করে নেওয়ার জন্য যে দক্ষতা প্রয়োজন সেটা চাক্ষুষ করতে ওই ভিড় বাস এবং লোকাল ট্রেন গুলোর দিকে তাকিয়ে দেখবেন কখনো, কি নিদারুণ প্রতিযোগিতা!
কারণ একটাই! যাত্রা সম্পূর্ণ করতে হবে, পৌঁছতে হবে নিজের নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে!
বিষয়টি আপনারা সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখতে পারেন, আবার মানস চক্ষু দিয়ে এর অভ্যন্তরীণ অর্থ অনুধাবনের প্রয়াস করতে পারেন, যেটি আমার এই লেখার মূল উদ্দ্যেশ্য।
![]() | ![]() |
|---|
রেষারেষি, ভাগাভাগি, আমি, আমার, লাভ-ক্ষতি, হিসেব-নিকেষ, চাওয়া-পাওয়া ইত্যাদি,
একাধিক হিসেব কষতে গিয়ে বর্তমান হারিয়ে যাচ্ছে, আর ঠিক সেই কারণে যে মুহুর্তে জীবনের যাত্রা শেষ হয়ে আসে, পিছন ফিরে দেখা যায় জীবনের আসল আনন্দটাই উপভোগ বাকি রয়ে গেছে এই রেষারেষির দৌড়ে!
একটা কাল চলে যায়, পুনরায় একটি কাল আসে কিন্তু এই কালের আসা যাওয়ার মাঝে শুধু একটি আজকে আমরা উপভোগ করতে ভুলেই গেছি, বিভিন্ন কারণে!

![]() | ![]() |
|---|

- পরিশেষে তাই বলে যাই:-
উপভোগ করুন সবার আগে!
যাত্রার আনন্দ ক্ষীণ না হয়,
থাকুক লক্ষ জয় পরাজয়।
আমরা সকলেই এ ধরার যাত্রী;
জানা নেই! কোনটা হবে,
কার জন্য শেষ রাত্রি!
ভালো থাকুন আর লড়াইটা চালিয়ে যান, অর্ধেক পথে ভিড়ের কাছে হার মেনে নেমে যাবেন না!






Curated by: @josepha
Much appreciated your support @josepha and @steemcurator04