স্বীকৃতি!Acknowledgement!

in Incredible India17 hours ago

1000083105.jpg

বর্তমান সময়ে দাড়িয়ে সকলেই ছুটে চলেছেন দিবারাত্র!

অবশ্যই প্রথম তাগিদটা পেটের, তবে এদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা নিজেদের জীবনশৈলীর মান উন্নত করে তো ফেলেছেন, কিন্তু সামাজিক দৃষ্টিতে নিজেদের সেই জীবনশৈলী ধরে রাখবার তাগিদ ও একটি কারণ যে, আজকে সকলকেই ছুটতে হচ্ছে আগের তুলনায় অনেক বেশি!

এবার অনেকেই হয়তো আমার কথায় বিতর্কিত অভিমত পোষণ করে বলতে পারেন, জিনিষ পত্রের মূল্য ঊর্ধ্বগতি কাজেই, সেই সঙ্গে পরিশ্রমের প্রয়োজন ও বৃদ্ধি করতে হয়েছে!

হ্যাঁ! অবশ্যই এটাও একটি কারণ, তবে আমি যে দেশে অথবা পরিবারে বড় হয়েছি, সেখানে পেটের সংখ্যা গোড়া থেকেই সীমাবদ্ধ রাখার একটা শিক্ষা দেখেই বেড়ে উঠেছি!

কি বুঝলেন না তো? বুঝিয়ে দিচ্ছি! লেখায় চোখ রাখুন!

দেখুন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে একটি মুহিম চালানো হয়েছিল এক্ সময়, গুগল ঘেঁটে দেখতে পারেন, তার কারণ কি বলুন তো?

উপার্জন অনুযায়ী যদি পেটের অথবা পরিবারের সদস্য সংখ্যা হয়, তাহলে অনেক সমস্যা প্রথম ধাপেই সমাধান হয়ে যায়!

আগে খুব কম পরিবারে মহিলারা কাজে বের হতেন, বিশেষত নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারে বেশি নাক উঁচু ছিল, এখনো অনেক পরিবারেই আছে সে যে ক্লাসের আওতাভুক্ত হোক না কেনো, আজও অনেকেই মনে করেন, মহিলারা জন্মেছে, বাচ্চা জন্ম দিতে আর রান্না করতে!

1000083089.jpg

আমার পরিবার তখনও ব্যতিক্রমী ছিল, কাজেই আমার চিন্তাধারা ব্যতিক্রমী হবে এটাই স্বাভাবিক, তাই সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে স্বচ্ছলতার মধ্যেই আমি বড় হয়ে উঠেছি, সেটা আর্থিক দিক হল কিংবা পারিবারিক শিক্ষা হোক না কেনো!

কথাগুলো অনেকের পড়ে মনে হতেই পারে, লেখার শীর্ষক এর সাথে মিল কোথায়?
এবার, সেই বিষয়টি আরো বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরবার প্রয়াস করছি!

আগেও অনেক পরিবার বাড়ির মহিলাদের সমান সুযোগ এবং শিক্ষার সুযোগ দিয়েছিলেন বলেই, শকুন্তলা দেবীর মত অংকের জিনিয়াস এর নাম আমরা জানতে পেরেছি, যিনি ছিলেন একজন হিউম্যান ক্যালকুলেটর!

বিশ্বাস হচ্ছে না? নিজেরাই দেখুন, ইউটিউব থেকে একটা ছোট্ট ক্লিপ তুলে ধরলাম আপনাদের মাঝে!

(শকুন্তলা দেবী)

এই যে কিছুদিন আগেই কমিউনিটিতে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স নিয়ে, দেখেছেন কি আপনি?

সেখানে অনেকেই উদাহরণস্বরূপ বিভিন্ন কথা লিখেছিলেন, বেশ মজার বিষয়!

বর্তমান সময়ে, যেখানে মানুষ এক্ পা চলতে যন্ত্রের সাহায্য নিতে অভ্যস্থ, তাদের কাছে মস্তিষ্কের ব্যবহার না করবার পিছনের যুক্তি হলো সময় নষ্ট, সেখানে এই শকুন্তলা দেবীর মতো কতজন মানুষ আছে বলুন তো?

1000083108.jpg

আজকের দিনে দাড়িয়ে যেখানে আমরা এখনো পুরোপুরি নারী স্বাধীনতায় অনেকেই বিশ্বাসী নই, অর্থাৎ বাড়ির বাইরে গিয়ে তাদের উপার্জন করতে দিতে অনেকেই নারাজ, একজন পুরুষের আগে সফলতার নিরিখে কোনো নারী এগিয়ে গেলে যারা বক্র দৃষ্টি দিয়ে তার যোগ্যতাকে স্বীকৃতি না দিয়ে সেই সফলতার পিছনে অন্য কোনো অনৈতিক কারণ খুঁজে বের করবার প্রয়াস করেন, আজকের লেখাটা কেবলমাত্র তাদের জন্য!

আবার অনেক ক্ষেত্রে আমি দেখেছি, আগের প্রজন্ম যেহেতু কাজ করবার অনুমতি পায় নি পরিবার থেকে, তাই পরের প্রজন্মকেও সেই গতানুগতিক নিয়মে আবদ্ধ রাখতে খানিক বাধ্য করে!

এর পাশাপশি উলটো ছবিও দেখতে পাওয়া যায়, তবে তার সংখ্যা আজও সীমিত!
প্রকৃতি স্বীকৃতির অভ্যন্তরীণ অর্থ কতজন বোঝেন বলুন তো?

ঘরে এবং বাইরে যেদিন পরিবার থেকে সমাজ, কাজের জায়গা থেকে রাস্তা ঘাট সর্বৈব মানুষকে মানুষের যোগ্যতা দিয়ে বিচার করবেন, কোনো জেন্ডার দিয়ে নয়, সেদিন সকলেই সমান স্বীকৃতি পাবে এবং প্রকৃতি অর্থে সামাজিক চিত্রের পরিবর্তন হবে!

আজও যেখানে ভদ্রতা কতখানি কাপড়ের পরিমাণ দিয়ে শরীর আবৃত দিয়ে নির্ধারণ করা হয়, সেখানে যত সভ্য পোশাক পড়ে আর নিজেদের শিক্ষিত বলে দাবি করুক না কেনো, এরা এখনো নিজেদের পরিবারের তথা সমাজের মাথা মনে করে, নারীকে সংসারে কাজের মধ্যে আবদ্ধ রাখতেই পছন্দ করেন!

নিজের নাক বাঁচাতে, পাছে ঘরের মহিলা বাইরে বেরিয়ে তাকে ছাপিয়ে যায়, সফলতা এবং স্বীকৃতির নিরিখে, এই ভয় আজও চ্যাট জিপিটির জামানায় অনেকের মস্তিষ্কে কাজ করে!
জানিনা এই উন্নতিকে আমি আসলেই কি স্বীকৃতি দেবো! আজও যেখানে মহিলারা কিছু দামী গহনা, দামী গাড়ি পেলেই যেকোনো নির্যাতন মাথা নত করে মেনে নেয়!

1000010907.gif

1000010906.gif

Sort:  
Loading...



Curated by: @ahsansharif