সরস্বতী পূজোর প্রাক্কালে!

যখন বীণাপাণির (বিদ্যা দেবী সরস্বতীর আরেক নাম)মূর্তির ছবিগুলো আজ পর্যন্ত বিকেলে বাজার ফিরতি পথে মোবাইল ক্যামেরা বন্দি করছিলাম, তখন মনে মনে নিজেকে প্রশ্ন করছিলাম, এটা কি পূজোর শুরু? নাকি শেষ?
দেখুন বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, কথাটি সঠিক কিন্তু এই তেরো পার্বণের মাঝেও কিছু কিছু পার্বণ তথা পূজোর খানিক বিশেষ গুরুত্ব থাকে।
এই যেমন বীণাপাণি অর্থাৎ যিনি হাতে বীনা (সঙ্গীত যন্ত্রের নাম) ধারণ করে আছেন, এই দেবী বিদ্যা তথা জ্ঞান, শিল্পকলা সংস্কৃতির দেবী হিসেবে আরাধ্যা!
এই পুজো তথা দেবীর বিষয় লেখা এগিয়ে যাবার পূর্বে, শুরুর কথায় ফেরা যাক, হ্যাঁ! যেটা দিয়ে লেখার সূত্রপাত করেছিলাম!
বিষয়টি একটু বিশদে উল্লেখ করা যাক, দেখুন আমাদের ভারতে গণেশ ঠাকুরের পুজো দিয়ে সর্ব প্রথম পূজোর সূত্রপাত ঘটে, এরপর একে একে বিভিন্ন দেব দেবীর আগমন ঘটে মর্তে, সঙ্গে এক্ একটি দিন পূজিত হয়, সেই দেব দেবীর নামানুসারে!
এরকম চলতে চলতে অবশেষে মা দুর্গার কন্যা দেবী সরস্বতীর পূজোর দিন যখন এসে উপস্থিত হয়, তখন সময়ের চাকা পরিবর্তিত হয়ে নতুন বছরের সমাগম ঘটে।
এবার সেদিক থেকে দেখতে গেলে সরস্বতী পূজা হলো, নতুন বছরের প্রথম পুজো, অর্থাৎ ইংরিজি বছরের হিসেবে চলতে গেলে বিদ্যদেবীর পুজো সর্বাগ্রে পড়ছে!
তবে, আমার এইসব এলোমেলো ভাবনা দিয়ে তো আর শাস্ত্র চলে না, ভাগ্যিস! তাই এটি হিসেবে বাঙালির বড় পূজোর মধ্যে অন্তিম হিসেবে গণ্য করা হয়।
যারা জানেন বিষয়টি তাদের জন্য উল্লেখ করছি না, বরং তাদের জন্য উল্লেখিত যারা বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহল নন!
ইংরিজি ফল জুজুবি কিংবা বের যাকে বাংলায় কুল নামে আখ্যায়িত করা হয়, এই ফলটি কিন্তু সরস্বতী পূজোর আগে কখনোই ছাত্র ছাত্রীরা খায় না!

ভারী অবাক বিষয় তাই না? পরীক্ষায় ডাহা ফেল, যদি এই সরস্বতী পূজোর আগে কোনো ছাত্র ছাত্রী এই ফল খেয়ে ফেলে!
এমনটি শৈশব থেকে আমাদের শেখানো হয়েছে, আসলে এই ফলটি পুজোয় নিবেদিত অনেক কিছুর মধ্যে অন্যতম তাই, সৃষ্টিকর্তাকে নিবেদিত করে তবেই ফলটি খাওয়া উচিত বোধকরেই মনে হয় এমন ভয় বড়রা দেখিয়ে রাখেন! হিহি!

মূর্তিগুলোর সাথে সকলের যেমন শৈশব এবং স্কুল জীবনের নানান ঘটনা জড়িয়ে আছে, আমিও কিন্তু তার ব্যতিক্রমী নই!
কেবলমাত্র পার্থক্য এই যে, আমি এবং আমার সমসাময়িক বান্ধবী পুজো নিয়ে অধিক মাতামাতি করতাম, আর এখন এই পুজো বাঙালির দ্বিতীয় ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে পালিত হয়!
শাড়ি পরার এই দিনটিতে একটি বাড়তি উন্মাদনা নজরে পড়ে, পাশাপশি পাড়ায় পাড়ায়, স্কুলে, কলেজে অর্থাৎ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
পড়াশোনা এখন অনলাইন তাই, কতদূর এই নব প্রজন্ম বিদ্যাদেবীর আরাধনায় কৌতূহল প্রকাশে ইচ্ছুক সেটা নিয়ে আমি বেশ সন্দিহান!
তবে, এখনো বোধকরি আমার মায়ের বয়েসি প্রজন্ম যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন তারা আপ্রাণ প্রয়াস চালিয়ে যাবেন, নব প্রজন্মকে শাস্ত্র জ্ঞান সহ কিছু প্রাচীন সংস্কৃতি শিখিয়ে যেতে!

![]() | ![]() |
|---|

ধরে রাখতে পারলো কি না পারলো, সেটা সময় বলবে, তবে যদি তুলনা করা যায়, তাহলে সময়ের সাথে অনেকখানি ভাটা পড়েছে এই সরস্বতী পুজো নিয়ে মাতামাতি বিষয়টিতে।
আমার তো কেবল মনে রয়ে গেছে, সেই কুয়াশা ঘেরা অন্ধকার ভোরে, মায়ের বিছানা থেকে গরম লেপের মধ্যে থেকে টেনে তুলে গায়ে কাঁচা হলুদ মাখিয়ে ওই ভোরে স্নানের স্মৃতি!
আপনাদের মধ্যে এই পুজো নিয়ে কার কি বিশেষ স্মৃতি রয়েছে, কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না, যারা পুজো সম্পর্কে জানেন অবশ্যই তাদের কাছ থেকে জানতে চাইছি।
অগ্রিম সরস্বতী পূজোর শুভেচ্ছা জানাই সকলকে, এ বছর শুক্রবার পড়েছে সরস্বতী পুজো।
আর আজকে বুধবার, কাজেই অগ্রিম শুভেচ্ছা, এই সাজো সাজো রবে মেতে ওঠা বাজার সহ সমগ্র বাঙালিদের।





You can load game its take little time for 1st time play and enjoy 😉
https://steemhop.org