আজকের আকাশ!
![]() |
|---|
আচ্ছা! শুধু কিছু আকাশের ছবি দিয়ে কিংবা প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে কি একটি দিনের প্রাপ্তি ব্যাখ্যা সম্ভব?
আজকে সেই বিষয়টি সম্ভব করতেই কিংবা বলা ভালো নিজের আর কিছু উপলব্ধি লেখার মাধ্যমে ভাগ করে নিতেই হাজির হয়েছি;
বাকি যারা লেখাটি পড়বেন, তারাই নয়তো প্রশ্নের উত্তরটির জবাব মন্তব্যের মাধ্যমে জানিয়ে যাবেন!
সকালে ওই ধরুন ৯টা নাগাদ বেল বেজে উঠলো, আজকে রবিবার, খানিক দেরিতে উঠিব ভেবেছিলাম, কিন্তু সে গুড়ে বালি!
আই হোল দিয়ে কাউকেই দাড়িয়ে থাকলে দেখলাম না! বেশ বিরক্ত হলাম, কিন্তু আর বিছানায় না ফিরে, ব্রাশ করে সকালের চা নিয়ে খানিক মেজাজ ঠিক করবার প্রয়াস করতে করতে ভাবলাম, আজ কি রান্না করা যায়?
আগেই বলে রাখা ভালো, রান্না করেছি, তবে ছবি তুলিনি, কারণ ওই একা হাতে সব কাজ করতে গিয়ে পদে পদে ছবি তোলার জন্য মোবাইল ফোন নিতে রান্নাঘর থেকে বেডরুমে ছোটা সম্ভব হয় না!
তাছাড়াও, এটা করতে গিয়ে যে কাজ সম্পন্ন হতে এক্ ঘণ্টা লাগার কথা সেটা প্রায় দুঘন্টা লেগে যায়!
আর আমি দিনলিপি নয়, বরং একটি দিনের উপলব্ধি ভাগ করে নিতে এসেছি, কাজেই সেখানে খাবারের ছবি অপ্রয়োজনীয় বলে আমার মনে হয়!
যাক, প্রসঙ্গে ফেরা যাক! চা খেতে খেতে যখন ভাবছিলাম, কি রান্না কর যায়, ঠিক সেই সময় পুনরায় বেল বেজে উঠলো!
![]() |
|---|
আবার দরজায় চোখ রেখে কাউকেই দেখতে পেলাম না, তবে বুঝলাম সিঁড়ি পরিষ্কার করবার লোকটি এসেছে, সেই বেল বাজাচ্ছে, এবং মনে পড়লো, শুক্রবার আমার সাথে দেখা করে রবিবার আসবে জানিয়েছিল, তবে সাধারণত বেলায় আসে, তাই আমার বিশেষ তার কথা মাথায় আসে নি!
অন্যান্য দিন হলে গেট খুলে হয়তো কথা বলতাম, কিন্তু আজকে সে কাজটি করিনি!
কারণ? গোটা ফ্ল্যাট যারা ধুলোয় মুড়ে ফেলেছে, তারাই তদারকী করুক, এই ভাবনা মনে কাজ করেছিল।
আগ বাড়িয়ে কিছু করতে গেলে, তার অলক্ষ্যে আত্মস্বার্থ রয়েছে এই ধারণা বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে কাজ করে, তাই ওটা নিজের মধ্যে থেকে বাতিল করবার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
এরপর, সিদ্ধান্ত নিলাম, মুসুরির ডাল, পটল ভাজা আর চিকেন স্টমাক রান্না করবো, আমি চিকেন লেগ আর চিকেনের স্টমাক বেশি পছন্দ করি।
চিলি চিকেন তৈরির সময় একমাত্র চিকেন ব্রেষ্ট আমি ব্যবহার করে থাকি।
এরপর, দাদার ফোন আসলো যখন রান্না শেষ, স্নান করতে যাবো।
কিছু পেপার সই করতে হবে, তাই দোকানের একটি ছেলে আসবে জানিয়ে ফোন করেছিল।
ঘড়ির কাঁটায় তখন পাঁচটা বাজে, যখন ছেলেটি আমাকে ফোন করলো, সে এসে গিয়েছে।
আমি দরজা খুলতে গিয়ে, শুনলাম ফোন বাজছে, ভাবলাম দাদার ফোন!

![]() | ![]() |
|---|
তাই দরজা খোলা রেখে ফোন তুলতে এসে দেখলাম, ফোন এসেছে নিচের তলায় থাকা এক মহিলার!
এবার তার কাছ থেকে জানলাম, যে গলি দিয়ে সবাই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে, সেই গলির মধ্যে চার তলার একটি ফ্ল্যাটের জানালার কাঁচ ভেঙে পড়েছে!
ভাবুন একবার! কেউ ওই গলি দিয়ে প্রবেশ করছে, আর সেই মুহূর্তে যদি ঐ কাঁচ ভেঙে তার মাথায় পড়ত!
যে মহিলা ফোন করেছিলেন, তার এক্ আত্মীয় থাকে এই বিল্ডিংয়ের লাগোয়া বাড়িতে;
আজ সেখানে তাদের নিমন্ত্রণ ছিল, আর যে মহিলা ফোন করেছিলেন, তার মা এই ঘটনার একটু বাদেই নিমন্ত্রণ খেয়ে ফিরছিলেন,
আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন, তবে
কারণ বুঝতে পারেন, ভাঙ্গা কাঁচ পড়ে থাকতে দেখে!
দুর্ঘটনা বলে আসে না, তবে সাবধানতা? যেখানে জানা ওই জানালাটি প্রবেশ করবার পথে রয়েছে, তাও অতখানি উঁচুতে, সেখানে যারা থাকেন, তাদের সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি অহেতুক?
ইতিপূর্বে আমিও আমার বাড়িওয়ালাকে এই বিষয়ে জানিয়ে কয়েকটি জানালা ঠিক করিয়েছি, যদিও আমি যেদিকে থাকি সেটি বিল্ডিং এর পিছন দিক বলে লোকজনের যাতায়াত নেই!

তবে, আজকের ঘটনা শুনে আমি বেশ আতঙ্কিত!
কারণ, ওই পথ ধরে সকলেই যাতায়াত করে, ফ্ল্যাটের লোকজন সহ অন্যান্য লোকজন!
আজকে যে ছেলেটি এসেছিল, সেও জানালো গলির মধ্যে কাঁচ ভেঙে পড়ে রয়েছে!
এটাকে কি দায়িত্বজ্ঞানহীনতার নাম দেওয়া যায়?
আজকে যদি একটা বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটে যেত, কে নিত এর দায়?
বসবাস করলে সেই জায়গার রক্ষণাবেক্ষণ করাটা কি সেই জায়গার বসবাস করা মানুষদের উপর বর্তায় না?
হতেই পারে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেওয়া, কিন্তু যদি কোনো কিছু বিপদজনক নজরে পড়ে সেটা বাড়িওয়ালাকে জানানোর প্রয়োজনীতা বোধ না করার মত বিষয় কি অপরাধের আওতাভুক্ত নয়?

আজকের আকাশের কাছে নিজের এই সমস্ত প্রশ্নগুলো নিয়ে হাজির হয়েছিলাম।
শুধুমাত্র অর্থ থাকলেই যে ভালো মানুষ হওয়া যায় না, আর একবার প্রমাণিত হয়ে গেলো!
এটাই যদি অন্য যে কোনো ফ্ল্যাটের মানুষ, যদি আমার ক্ষেত্রে হতো,তাহলে ফ্ল্যাটের মানুষের প্রতিবাদের ভাষা অন্য হতো!
একাধিক শব্দগুচ্ছ মাথায় এসেছিল ফোনে কথাগুলো শুনে, আমাকে সাবধানে যাতায়াত করতে বলেছিল মহিলা, কারণ প্রায়শঃই আমার দুহাত আটকা থাকে বাজারের সামগ্রীতে!
এমনকি আজকে অনলাইনে জিনিষ নিয়ে যে ছেলেটি উপরে উঠেছে, তার কথা ভেবেও গা শিউরে উঠেছিল!
আমি যে বিষয়টি আজকে উপলব্ধি করেছি সেটা হলো, পোশাক পরিবর্তন করে যেমন আধুনিক হওয়া যায় না, তেমনি আত্মকেন্দ্রিক মানুষের মানসিকতা আমৃত্যু অপরিবর্তিত থাকে, এরা দেখেও শেখে না, ঠেকেও শেখে না!
এটাই বোধহয় মানুষরূপী,
অমানুষদের আলাদা করবার একমাত্র উপায়!
আজকের দিনটি যেকোনো মানুষের জন্য একটি বড় বিপদের কারণ হতেই পারতো, কিন্তু এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে, আগামী দিনের সুরক্ষার কথা এখানে কেউ বিশেষ ভাববে না, সেটাও আমার জানা!
আকাশের দিকে চেয়ে ভাবছিলাম, এই মানুষগুলোর জন্য কি পরিণতি অপেক্ষা করেছে, কে জানে! এরা সমাজের ব্যাধি ছাড়া আর কিছুই নয়!
আমার আজকের এটাই ছিল উপলব্ধি, জানিনা কতখানি শব্দে ব্যাখ্যা করতে পারলাম!






