আমার ত্বক চর্চার ঘরোয়া উপায়!(My homemade skin toner!)

in Incredible India7 days ago

1000083330.jpg

ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি, আমি কাজল এবং লিপস্টিক ছাড়া অন্য কোনরকম মেকআপ ব্যবহার করিনা!

একেবারে সত্যি কথা বলতে আমি শৈশব থেকেই ঘরোয়া উপাদান মেখেই বড় হয়েছি, তাই আমার ত্বক নিয়ে কোনো সমস্যা আজ পর্যন্ত ঈশ্বরের আশীর্বাদে হয়নি!

এমনিতে আমার ত্বক নরমাল, অনেকের শুষ্ক ত্বক আবার অনেকের তৈলাক্ত ত্বক কাজেই একেক ত্বকের যত্ন একেক ধরনের!

আমি আমার মায়ের মুখে গল্প শুনেছি, শৈশবে জনসন ব্র্যাড এর বেবি প্রোডাক্ট আমার সহ্য হতো না, তাই মা আমার ত্বকের জন্য ব্যাসন ব্যবহার করতেন!

এতদিন ধরে এখানে বিভিন্ন লেখা আপনাদের সাথে ভাগ করে নিলেও, খুব কম আমি নিজের ত্বকে কি ব্যবহার করি সেটা নিয়ে লিখেছি, আবার হয়তো না কোনোদিন লিখিনি, সে যায় হোক!

আমি যখন কলেজে পড়তাম আমার প্রতিদিনের ফেস মাস্ক ছিল মুসুরীর ডাল বাটা, বাড়িতে প্রতিদিন ডাল রান্না হতো, খানিক ডাল আলাদা করে ভিজিয়ে রেখে দিতাম, পরের দিন সেটা বেটে স্নানে যাবার আধঘন্টা আগে মুখে মেখে নিতাম! এরপর সাধারণ জলে মুখ ধুয়ে নেওয়া!

এছাড়াও, আরেকটি বিষয়কে আমি প্রাধান্য দিয়ে থাকি, আর সেটা হলো, খাওয়া!
দেখুন বাইরে থেকে আমরা যাই ব্যবহার করি না কেনো, যদি ভিতরের ইঞ্জিন ঠিক না থাকে, তাহলে সে যন্ত্র একটা সময় পর বেঁকে বসবেই!

তাই, নিয়ম করে শীতকালে আমি কাচা হলুদ খাই, তবে গরমে খাই না!

কেনো, কি বৃত্তান্ত সে বিষয় যাচ্ছি না! আমি যেগুলো মেনে চলি সে বিষয়গুলো উল্লেখ করছি।

পূর্বেই উল্লেখিত, একেক জনের ত্বকের ধরন একেক রকম, কাজেই আমার সাধারণ অর্থাৎ নরমাল ত্বকে যে জিনিষ প্রযোজ্য সেটি তৈলাক্ত ত্বক কিংবা শুষ্ক ত্বকের জন্য নয়!

বিষয়টি উল্লেখ করলাম, কারণ নিজের ত্বকের ধরন সম্পর্কে সচেতন না হয়ে যেকোনো জিনিষ সেটা ঘরোয়া উপায় হলেও ব্যবহার করা উচিত নয়।

আমি রাত্রে ঘুমোতে যাওয়ার প্রায় ঘণ্টা খানেক আগে, একটি টোনার ব্যবহার করি, যেটি আমি ঘরেই তৈরি করি, যখন আমার বাড়িতে ঘৃত কুমারী (aloe vera) গাছ ছিল না, তখন জেল কিনে আনতাম, আর এখন বাড়িতেই আছে বলে জেল ঘরেই তৈরি করে নিয়েছি।

তাহলে এবার আপনাদের সাথে ভাগ করে নিচ্ছি এই টোনার তৈরি করতে আমি কি কি উপাদান ব্যবহার করছি:-

1000083302.jpg
অ্যালোভেরা(aloe vera)
1000083305.jpg
গোলাপ জল
1000083304.jpg
ক্যাস্টর অয়েল
1000083307.jpg
মধু

মাত্র এই চারটি উপকরণ আমি ব্যবহার করেছি।

প্রায় দু'দিন ধরে আমি কেটে রাখা ঘৃত কুমারী কিংবা অ্যালোভেরা পাতাগুলি একটি বড় বাটির মধ্যে জল নিয়ে ভিজিয়ে রেখেছিলাম, কারণ সদ্য কেটে নেওয়া অ্যালোভেরাথেকে হলুদ রঙের অ্যালো ল্যাটেক্স অথবা কষ বের হয়, যেটির মধ্যে থাকে অ্যালয়েন, এটি ত্বক কিংবা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের জন্য ক্ষতিকারক।

1000083205.jpg1000083206.jpg

ভালকরে ধুয়ে, দু' দিন জল পরিবর্তন করে ভিজিয়ে রাখার পরে, গতকাল রাত্রে আমি অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল বের করে নিয়েছি, এবং তারপরে সেই জেল স্বচ্ছ জলে আর একবার ধুয়ে ফ্রিজে রেখে দিয়েছিলাম।

1000083301.jpg

যেহেতু অনেকগুলি জেল ছিল, তারমধ্যে থেকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী খানিক জেল নিয়ে, তারমধ্যে ডাবল বইলিং পদ্ধতিতে ক্যাস্টর অয়েল একটু গরম করে জেলের মধ্যে মিশিয়ে নিয়েছি।

1000083309.jpg

1000083310.jpg1000083308.jpg

1000083303.jpg

তারপর একে এক্ গোলাপ জল আর মধু মিশিয়ে ভালো করে সব উপাদান মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ভরে নিয়েছি, আমার রোজকার ব্যবহৃত ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি টোনার।

এই গরমে অ্যালোভেরা ব্যবহার খুবই উপকারী, এটি প্রকৃতির এমন একটি ঔষধ যেটি শুধু ত্বক নয়, সাথে চুল এবং খাবারের তালিকায় রাখা যায়!

তাহলে এই ছিল, আমার ত্বক চর্চার একটি সিক্রেট যেটি আজ আপনাদের মাঝে তুলে ধরলাম, আপনাদের মধ্যে কারা কারা ঘরোয়া উপায়ে নিজেদের শরীরের যত্ন নিয়ে থাকেন মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না, কেমন!

1000010907.gif

1000010906.gif

Sort:  
Loading...