স্বামীনাথ মেলা
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি। আজ আমি আবার একটি নতুন গল্প নিয়ে চলে এসেছি। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব স্বামীনাথ মেলায় যাওয়া নিয়ে।
আমাদের এখানে সবচেয়ে বড়ো মেলা বলতে স্বামীনাথ মেলাকেই বুঝি। আর কাল এই মেলাতেই গিয়েছিলাম। কদিন হলেই রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল তাই ভাবছিলাম মেলায় বুঝি কাদা জমে গিয়েছে। এই মেলা এক সপ্তাহ হয়।
বিকেলের দিকে বেরিয়ে পরলাম মেলায় যাওয়ার জন্য। আমি বুনু আর মা গিয়েছিলাম। আমাদের পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় সন্ধ্যাই হয়ে গিয়েছিল।
প্রথমেই মেলায় ঢুকে আমরা স্বামীনাথ ঠাকুর সহ ওখানকার আরও বিভিন্ন ঠাকুর দর্শন করে নেই। তারপরেই আমরা চলে যাই নাগরদোলার দিকে। সেখানে গিয়ে দেখলাম অনেক কিছু এসেছে নাগরদোলা, নৌকা, বাচ্চাদের ওঠার জন্য ঘোড়া ইত্যাদি। ও হ্যাঁ আবার জলপরীও এসেছিল।
তারপর আমরা মেলার আরও ভেতরে প্রবেশ করি এবং অনেক দোকান দেখতে পাই। মেলাটি খুব বড়, একটা পুরো মাঠ জুড়ে হয়। উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে ব্যাগের দোকান। সেখানে নানারকম ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছিল। মেলায় খুব সুন্দর সুন্দর ব্যাগের দোকান এসেছে।
মেলাতে পাঁচ টাকা দিয়েও জিনিস পাওয়া যাচ্ছিল। এখনকার যুগে পাঁচ টাকার চকলেট ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না।
পাঁচ টাকার জিনিস পাওয়া হয়তো মেলাতেই সম্ভব। আমি পাঁচ টাকার দোকান দেখে সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।
এরপর এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে পুজোর বিভিন্ন জিনিসপত্র। এছাড়াও দেখা যাচ্ছে ঠাকুরের অনেকরকম ফটোফ্রেম, যা দেখে মন জুড়িয়ে যাচ্ছে।
এই দোকানে অনেক রকম কাচের জিনিস ছিল গ্লাস, বাটি, প্লেট থেকে শুরু করে আরও নানান জিনিস। এখানে চিনে মাটির কাপ প্লেটগুলো খুব সুন্দর সুন্দর পাওয়া যাচ্ছিল। কাপ প্লেটগুলি অনেক রকম ডিজাইনের ছিল।
এই দোকানে নানা রকম আর্টিফিশিয়াল গাছ ছিল। যা দেখে মনে হচ্ছিল একদম অরজিনাল গাছ। এছাড়াও অনেক রকম ফুলদানি, ফুলের টপ পাওয়া যাচ্ছিল। নানান দামের নানানরকম ফুলদানি পাওয়া যাচ্ছিল।
তারপর এই দোকানে প্রচুর পুতুল ও টেডিবিয়ার দেখা যাচ্ছিল। এছাড়াও নানানরকম পুতুলের কালেকশন ছিল। যা দেখে বাচ্চাদের এক নজরে পছন্দ হয়ে যাবে। শুধু বাচ্চারা নয় অনেকেই বড় হওয়ার পরেও পুতুল খুব পছন্দ করে বিশেষ করে টেডিবিয়ার।
এরপর খাওয়ার দোকান... মেলায় খাওয়ার দোকান থাকবে না সেটা কখনো হতেই পারে না। মেলায় বেশ কয়েকটি বড় বড় খাওয়ার দোকান ছিল। প্রচুর মানুষ এখানে খাবারও খাচ্ছিল। খাবার দোকানের সামনে গেলেই খাবার দোকানের দোকানদার গুলো ডেকে ডেকে বসতে বলছিল সবাইকে।
এছাড়াও মেলায় আরো অনেক রকমের দোকান এসেছিল তার মধ্যে থেকে বেছে বেছে কয়েকটি দোকানের ছবি শেয়ার করেছি। আমরা বেশ অনেকটা সময় ধরে মেলাটা ঘুরি এবং বেশ কয়েকটি জিনিসও কিনে নেই।
তবে ভেবেছিলাম হয়তো মেলায় প্রচন্ড কাদা হবে কিন্তু মেলায় একটুও কাদা ছিল না কিন্তু রাস্তায় জল জমে ছিল।
শুনলাম ক্লাবের লোকজন মিলে মেলায় যেন জল কাদা না জমে তার ব্যবস্থা করেছে। বেশ ভালো করেছে বছরে একবারই এই মেলা হয়ে থাকে তো সেখানে যদি জল কাদা জমে থাকে তাহলে কারোরই মেলা ঘুরতে ভালো লাগবে না।
মেলা ঘুরে আমার খুব ভালো লেগেছে তবে মেলাতে ভিড়ও হয়েছিল বেশ ভালোই।
আজ এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকবেন।
ধন্যবাদ।








