এশিয়া কাপ || বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ||🏏🏏
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে ভালোই আছি। আজ আমি আরেকটি ব্লগ নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হলাম। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আমরা যারা ক্রিকেট ভালোবাসি তারা সবাই জানি যে এশিয়া কাপ শুরু হয়ে গেছে। বলতে গেলে এশিয়ার দেশগুলোতে ক্রিকেট খুবই জনপ্রিয়। আমার প্রিয় খেলা হচ্ছে ক্রিকেট। তাই ক্রিকেটের প্রতিটা টুর্নামেন্ট উপভোগ করি। এশিয়া কাপ শুরু হয় গত ৩০ ই আগস্ট। এশিয়া কাপের হোস্ট টিম হচ্ছে পাকিস্তান। গতকাল বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান এর ম্যাচ ছিল। বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি ছিল মাস্ট উইন ম্যাচ। কারণ বাংলাদেশ যদি এই ম্যাচে হারে তাহলে পরপর এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাংলাদেশকে বিদায় নিতে হতো। গতকাল ডু অর ডাই ম্যাচে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামে। বাংলাদেশ দলে বেশ কয়েকটি চেঞ্জ লক্ষ্য করা যায়। খেলার আধা ঘন্টা আগে টস অনুষ্ঠিত হয়, টসে বাংলাদেশ জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর দুই দলে জাতীয় সংগীতের পরে খেলা মাঠে গড়ায়।
নিজের ফোন থেকে স্ক্রিনশট তোলা।
source: sportzfy TV
এই দিন বাংলাদেশের ওপেনিং একটি বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের ওপেনিং সমস্যা যেন শেষই হতে চাচ্ছে না, অনেকদিন থেকেই বাংলাদেশের ওপেনিং এ রান আসছে না। এই দিন ওপেনিং এ নাইম শেখ এর পাশাপাশি আট নাম্বার এ ব্যাটিং করা মেহেদী হাসান মিরাজ ওপেনিং এ নামে। নাঈম শেখ ও মেহেদী হাসান মিরাজ এই ম্যাচের ওপেনিং এ ভালোই খেলা শুরু করে। প্রায় অনেক ম্যাচ পরে আমরা একটি ম্যাচ দেখলাম এখানে বাংলাদেশের ওপেনিং এ ৫০ রানের পার্টনারশিপ হয়।
এরপর ৩২ বলে ২৮ রান করে মুজিবের বলে বড় হয়ে যান নাইম শেখ এরপরে আমরা ব্যাটিং অর্ডারে আরো বড় একটি পরিবর্তন দেখি তৌহিদ হৃদয় কে পাঠানো হয় ওয়ান ডাউনে। কিন্তু রানের খাতা খুলতে পারিনি তৌহিদ হৃদয় ০ রানেই আউট হয়ে যায়। এরপর নামে শান্ত। মেহেদী হাসান মিরাজ ও শান্তর মাঝে একটি দুর্দান্ত পার্টনারশিপ দেখতে পারি আমরা। এই ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজ ও শান্ত দুজনেই সেঞ্চুরি করে। মেহেদী হাসান মিরাজ ১১৮ বলে ১১২ ও শান্ত ১০৫ বলে ১০৪ রান করে। একই ম্যাচে দুই বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান এর সেঞ্চুরি যেটি হলো চোখের শান্তি। এরপর ইঞ্জুরিতে পরে মেহেদী আর খেলা কন্টিনিউ করতে পারে না এরপর নামে মুশফিকুর রাহিম। শান্ত ১০৪ রান করে রান আউট হয়ে যায়। এরপর মুশফিকের ১৫ বলে ২৫ ও সাকিব আল হাসান এর ১৮ বলে ৩২ রানের কারণে বাংলাদেশের টোটাল স্কোর দাঁড়ায় ৫০ ওভারে ৩২৪ রান ৫ ইউকেট।
নিজের ফোন থেকে স্ক্রিনশট তোলা।
source: sportzfy TV
আফগানিস্তান এর সামনে এক বিরাট বড় লক্ষ্য যা ছিলো ৩৩৫ রানের। ৩৩৫ রানের বিপরীতে ব্যাট করতে নেমে ১ রানেই আফগান ওপেনার গুরবাজকে এলবিডব্লিউ এর স্বীকার করেন শরিফুল। এরপর জাদ্রান ও রাহমাত শাহ এর মধ্যে একটি পার্টনারশীপ দেখতে পারি। কিন্তু ৫৭ বলে ৩৩ রান করে তাসকিনের বলে বোল্ট হয়ে যান রাহমাত শাহ। এরপর শাহিদি ও জাদ্রান এর দূর্দান্ত ব্যাটিং দেখি আমরা। শাহিদি ৬০ বলে ৫১ রান করে শরিফুল এর বলে ক্যাচ আউট হয়ে যায়। জাদ্রান বেশ ভালো ব্যাটিং করছিল, কিন্তু হাসান মাহামুদ এর বলে একটি উড়ন্ত ক্যাচ ধরে নেন মুশফিকুর রাহিম উইকেট রক্ষক। এরপরে আর আফগান ব্যাটিং চলেনি সবাই আসে আর আউট হয়ে যায়। সবশেষে আফগানিস্তান এর স্কোর দাঁড়ায় ২৪৫ রানে ১০ উইকেট। বাংলাদেশ ৮৯ রানের এক বিরাট জয়লাভ করে। বাংলাদেশি সর্মথক রা অনেক বেশি খুশি হয়ে যায়। আমাদের এশিয়া কাপ জার্নি এখনো অব্যাহত থাকে। বলতেই পারি আমরা সুপার ফোরে রানরেটে কোয়ালিফাই করে ফেলেছি।
নিজের ফোন থেকে স্ক্রিনশট তোলা।
source: sportzfy TV
বাংলাদেশ অসাধারণ একটি জয়লাভ করেন। এই ম্যাচটি হারলে বাংলাদেশের অনেক বেশি সমালোচনা হতো। যাইহোক, দিনশেষে আমাদের দল আমাদের চাওয়া পূরণ করতে পেরেছে। সুপার ফোরের জন্য অনেক শুভকামনা রইলো বাংলাদেশ টিমের জন্য। এতক্ষণ ধরে মনোযোগ দিয়ে আমার পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। দেখা হবে অন্য একটি ব্লগে ততক্ষণে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
আমি আল হিদায়াতুল শিপু। বর্তমানে ইন্টার পরীক্ষা দিলাম এই বছর। আমি ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি ভ্রমণ করতে অনেক পছন্দ করি। আমি মাঝে মাঝে কবিতা ও লিখি। আমার লেখা কবিতা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটা পত্র পত্রিকা এবং মেগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। কাব্যকলি বইতেও আমার লেখা কবিতা রয়েছে।






বাংলাদেশের খেলা বেশ সুন্দর ভাবে উপভোগ করেছেন যেন খুব ভালো লাগলো। বাংলাদেশের জয় পেয়েছে এটা সত্যি আমাদের জন্য খুব আনন্দের। বাংলাদেশ খুব দারুণ খেলেছে। মেহেদী হাসান মিরাজ এবং শান্তর ব্যাটি এর উপর ভর করে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছিল। যা বাংলাদেশের জয় তুলে নিতে বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করলো। পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই আমার পোস্টে পড়ে আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আসলে কালকে বাংলাদেশ যথেষ্ট ভালো খেলেছে।ওপেনিং যুটি হলো ভরসার হাত সেখান থেকে ভাল কিছু না আসলে আশা করা যায়না।ভাল লাগলো আপনার পোস্ট।
হুম ভাই আপনি ঠিক বলেছেন কালকে বাংলাদেশ যথেষ্ট ভালো খেলেছে।
গতকালের বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের ম্যাচটি ছিল পুরাই দুর্দান্ত।ম্যাচটি দেখে অনেক ভালো লেগেছে।আবার মেহেদী মেরাজ এবং শান্তির একশো করা এবং মুশফিকের সেই সুন্দর ক্যাচ ধরা থেকে শুরু করে তাসকিন শরীফুল এর অসাধারণ বোলিং, পুরো ম্যাচটাই ছিল উন্মাদনাতে ভরা।ধন্যবাদ জানাচ্ছি গতকালের ম্যাচটির রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ আমার পোস্টটি পড়ে এত সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
বেশ সুন্দর একটি খেলা আমরা উপভোগ করেছি। আর সেই খেলা আজ আপনি আমাদের মাঝে রিভিউ করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। সুন্দর এই মুহূর্তটা যেন পুনরায় ফিরে পেলাম আপনার পোস্ট থেকে।
আপনি ঠিক বলেছেন বেশ সুন্দর একটি খেলা আমরা উপভোগ করেছি।
বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটা ছিল ডু অর ডাই। এ ম্যাচটা তাদেরকে জিততেই হবে এবং জিত শুধু জিতলেই হবে না অনেকটা বেশি রানে জিততে হবে, তাহলে রাউন্ডে সরাসরি কোয়ালিফাই করবে। মেহেদী হাসান মিরাজ যথেষ্ট ভালো খেলেছে এবং তার খেলাতেই কিন্তু বাংলাদেশের এটা পেয়েছে আমি বলবো।
আপনি ঠিক বলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ অনেক ভালো খেলেছে এই ম্যাচটি বাংলাদেশের এর জন্য ডু অর ডাই ম্যাচ ছিলো।
ঐদিন আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশের খেলাটি আমি সম্পূর্ণ দেখেছিলাম। তবে আপনি ঠিক বলেছেন অনেকদিন পর আমরা বাংলাদেশের ওপেনিং ভালো একটা পার্টনারশিপ দেখেছি। বাংলাদেশের ওপেন নিয়ে অনেকদিন ধরে সমস্যা চলতেছে। নাঈম শেখের সাথে ৮ নম্বর ব্যাটিং করা মেহেদী মিরাজ ওপেনিং করেছেন। এবং মিরাজ ও শান্ত খুব দারুণ পার্টনারশীপ করে দুইজন সেঞ্চুরিও করলেন। এবং ৫০ ওভারে ৩৩৪ রান করলেন বাংলাদেশ। পরে আফগানিস্তান প্রথম দিকে হোঁচট খেলেন উইকেট পড়ে। এবং আফগানিস্তান সব কয়টি উইকেট হারিয়ে ২৪৪ রান করেছেন। এবং ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং এর প্রশংসা করতে হয় ঐদিন বাংলাদেশের। আপনি বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের খেলার অনুভূতি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন সুন্দরভাবে।
আসলে নিজের দেশ এত সুন্দর ভাবে জিতলে কার না ভালো লাগে এই দিন এই ম্যাচটি যেটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল । আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার পোস্টটি পড়ে আপনার মূল্যবান বক্তব্য শেয়ার করার জন্য।