সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালোবাসা!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
মির্জা গালিবের নাম আমরা কম বেশি সবাই শুনেছি। আজ থেকে প্রায় ১৫০ বছর আগের কথা। মির্জা গালিব তখন যেসব শায়েরি লিখে গিয়েছিল সেটা এখনও মানুষের কাছে খুবই পছন্দের খুবই জনপ্রিয়। ব্যক্তিগত ভাবে তো আমার নিজেরই উনার লেখা বেশ কিছু শায়েরি পছন্দ। ভাবছি মির্জা গালিবের লেখা অনূদিত একটা শায়েরি এর বই কিনব। উনার জন্ম ১৭৯৭ সালে আগ্রা তে। যেটা ভারতে অবস্থিত। মোঘল রাজদরবারে উনি উর্দু কবি হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। কয়েকদিন আগে উনার একটা ছোট্ট শায়েরি আমার নজরে আসে। প্রথমে দেখে বেশ ভালো লেগেছিল। বাহ অর্থ টা তো দারুণ। মনে হয়েছিল মির্জা গালিব হয়তো শত বছর আগেই বতর্মান সময়ের প্রেমিকের অবস্থা বুঝতে পেরেছিলেন। নাকী দেশ জাতি সময় ভিন্ন হলেও সবসময় সব জায়গাই ঐ প্রেমিকের অনূভুতি একই থাকে? হয়তো দ্বিতীয় টাই হবে। যাইহোক শায়েরি টা এমন ছিল ;
" এখন অনেক রাত। চারদিকে অন্ধকার কোথাও কেউ নেই। চলো গালিব তার বাড়ির দেয়ালে চুমু দিয়ে আসি"।
কী চমৎকার কথা। রাত যখন গভীর চারিদিকে অন্ধকার। তখন একজন প্রেমিক বলছে চলো প্রেমিকার বাড়িতে চুমু খেয়ে আসি। আপনার পছন্দের মানুষ ভালোবাসার মানুষ টা যেই বাড়িতে থাকবে সেই বাড়ির দেয়াল সেই বাড়ির রং এমনকি ঐ এলাকার প্রতিটা রাস্তা আপনি পছন্দ করবেন। এটাই স্বাভাবিক বিষয়। সাধারণত আপনি বুঝতেই পারছেন নিশ্চয়ই গালিব এখানে প্রেমিকের গভীর প্রেম কে বুঝিয়েছে। হ্যা আমিও এটাই ভেবেছিলাম। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে এটাই হয়। কিন্তু এটার অর্থ এটা না। গালিবের এই শায়েরি এর অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা। এটা যখন আমি নিজেই জানতে পারলাম তখন বেশ অবাক হয়েছিলাম। ব্যাপারটা আপনাদের বুঝিয়ে বলা যাক।
রাত তখন গভীর। অর্থাৎ একেবারে অন্ধকার কোথাও কেউ নেই। গালিব ঐ সময়ে তার বাড়ির দেওয়ালে চুমু খাওয়ার কথা বলেছে। এখানে গালিব "তার " বলতে কোন নারী অথবা প্রেমিকার কথা বোঝাই নি। এখানে গালিব তার অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার কথা বলেছেন। সৃষ্টিকর্তা অর্থাৎ আমাদের যিনি সৃষ্টি করেছেন। গালিব এখানে মহান আল্লাহ্ এর কথা বলেছেন। এবং তার ঘরের দেওয়ালে চুমু খেতে চেয়েছেন। এই ঘর আর কোন ঘর না কাবা ঘর। যেটা আমাদের মুসলিমদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ গালিব এখানে তার বলতে আল্লাহ কে এবং তার ঘরের দেওয়াল বলতে কাবা ঘর কে বুঝিয়েছে। কী অসাধারণ কথা। কী চমৎকার অর্থ। আমরা যারা মুসলিম কমবেশি আমাদের সবারই একটা ইচ্ছা আছে জীবনে একবার হলেও হজ্জ করতে যাওয়া। এবং কাবাঘরে একটা চুমু খাওয়া ঐটা স্পর্শ করা।
গালিব এখানে সেটাই বুঝিয়েছেন। তবে তিনি সবার মতো দিনের আলোয় যেতে চাননি। তিনি চেয়েছেন গভীর রাতের অন্ধকারে যেতে। যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। যখন কেউ কোথাও থাকে না। তখনই সৃষ্টিকর্তা কে সবচাইতে কাছে এবং নিকটে পাওয়া যায়। তখনই তিনি তার বান্দার কথা সবচাইতে বেশি শুনে থাকেন। অর্থ টা জানার পরে আমি নিজেই বেশ অবাক হয়েছিলাম। সৃষ্টিকর্তা নিয়ে গালিবের এমন অসংখ্য শায়েরি আছে। যেগুলো তিনি চমৎকার ভাবে লিখেছেন। সম্ভবত এগুলোর মাহাত্ম্যই এমন হয়। সময় কাল পাএ জাতি ভেদে হাজার পরেও এগুলো রয়ে যায় মানুষের কাছে পছন্দের হয়ে উঠে। এর থেকে ভালো আর কী হতে পারে। এটাই বোঝাই পৃথিবী যতই এগিয়ে যাক মানুষের অনূভুতি এখনও ঐরকমই আছে যেমনটা ছিল মানুষ সৃষ্টির সময়ে।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।



.png)



Daily task
https://x.com/i/status/2008447555408101679