শুক্রবার!!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার। তবে সেই ছুটি টা আপাতত আমার কপালে জোটে না। প্রথমত পুরো সপ্তাহ অফিস করার পরে মনে হয় একটা দিন একটু রিল্যাক্স করি। কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠে না। ঐ শুক্রবার যেন ব্যস্ততা বেশি যায়। সাধারণত শুক্রবার সারাদিন আমাকে থাকতে ইউনিভার্সিটি তে। জবের জন্য ঐদিন ক্লাস করতে হয়। পুরো সপ্তাহের চাপ নিতে হয় একদিনে। সকাল ৯ টায় শুরু হলে সেই ক্লাস শেষ হয় একেবারে বিকেল ৬-৭ টার দিকে। এভাবে চলছে বিগত এক বছর ধরে। গতসপ্তাহে আমার সেমিষ্টার ফাইনাল শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে সেটার ফলাফল দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও নতুন সেমিষ্টারের কার্যক্রম শুরু হয়নি। এইজন্যই এই শুক্রবার আর ক্যাম্পাসে যায়নি। বলতে পারেন বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার থেকেই সেটা অনূভব করতে পারছিলাম।
যথারীতি বৃহস্পতিবার রুমে যাওয়ার সময় প্ল্যানগুলো সাজিয়ে নিচ্ছিলাম আগামীকাল কী কী করব। যদিও আমার পুরো পরিকল্পনা ছিল একেবারে রিল্যাক্স। কোন প্যারা নিব না। যথারীতি বৃহস্পতিবার বেশ দেরি করে ঘুমিয়েছিলাম। সেই ঘুম থেকে উঠে দেখি প্রায় ১১ টা বাজে। যদিও সেটা ন্যাচারাল ভাবে ভাঙেনি। আমার বন্ধু সৈকতের ফোন পেয়েই ঘুমটা ভেঙে যায়। যাইহোক ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নেয়। এরপর নিজের যে পুরো সপ্তাহের অপরিষ্কার জামা কাপড় ছিল সেগুলো পরিষ্কার করতে লেগে যায়। সেটা করতে খুব বেশি সময় অবশ্যবশ্য লাগেনি। যাইহোক সেটা করে গোসল শেষ করে নেয়। ততক্ষণে আযান হয়ে গিয়েছে। শুক্রবার জুম্মা আমাদের জন্য বিশেষ দিন। যাইহোক তৈরি হয়ে নামাজে চলে গেলাম। সাধারণত শুক্রবার ইউনিভার্সিটি তে থাকায় শুক্রবারের নামাজ টা তাড়াহুড়ো করেই পড়তে হয়।
অন্য জায়গাই নামাজ শেষ যেখানে প্রায় দুইটা বেজে যায় কিন্তু ওখানে দেড়টার মধ্যে সব শেষ। যাইহোক এরপর দুপুরের খাবার শেষ করে একেবারে রুমে চলে আসি। সময় তখন ২ টা। আর কিছু চিন্তা করিনি। যেমন টা পরিকল্পনা ছিল বই পড়া। ড্যান ব্রাউনের লস্ট সিম্বল এর এক তৃতীয়াংশ পড়েছিলাম। যথারীতি বাকিটা নিয়ে পড়তে বসে গেলাম। রুমে কেউ নেই আমি একা আহ কী অসাধারণ নিরবতা। আমার পড়া চলছে। একেবারে বইয়ের মধ্যে যেন ডুবে গেছি। থ্রীলার হওয়াই আর কোন দিকে আমার নজর নেই। টানা তিন ঘন্টা পড়ার পড়ে দেখি ৫ টা বেজে গিয়েছে। এখন চা কফির উপাদান আমার রুমেই থাকে। হালকা করে চা বানিয়ে নিলাম নিজের জন্য। চা টা শেষ করেই আমার বইটা পড়া শুরু করলাম।
সেইভাবে আরও দুই ঘন্টা চলল। মোটামুটি ৮ টার একটু বিরতি দেয় রাতের খাবারের জন্য। সবমিলিয়ে দারুণ সময় কাটে আমার। অন্যদিন ব্যস্ত থাকায় বই পড়ার সময় খুব একটা পায় না। কিন্তু এই শুক্রবার পুরোটা সময় ঐটা করেই কাটিয়েছি। আমি সাধারণত একাকিত্ব টা পছন্দ করি। আমার বন্ধুর সংখ্যা একেবারেই সীমিত। আর এখন যেখানে থাকি সেখানে তো কেউই নেই। ঐভাবে ফোনে টেক্সট করেও আমি কারো সাথে কথা বলি না। সহজ ভাষায় বলতে গেলে কেউ আমার খোঁজ নেয় না আমিও কারো খোঁজ নেয় না। খোঁজ একেবারে নেয় না এটা ভুল। যখন কারো অর্থ সাহায্যের প্রয়োজন হয় শুধু তখনই কেউ কেউ যোগাযোগ করে। এইজন্যই সাধারণত আমার দিনগুলো আমি এভাবেই অতিবাহিত করি একা একা। সবমিলিয়ে দিনটা আমার কাছে চমৎকার ছিল। একেবারে আরামের একটা শুক্রবার। এমন শুক্রবার শেষ কবে কাটিয়েছি ধারণা নেই।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।




.png)



Daily task
https://x.com/Emon423/status/1981987278676500620?t=3rIX6nF2_itxNLRwORAlGA&s=19
https://x.com/Emon423/status/1981987570482659807?t=bUXNVYqsoVBAeYE6-jHkow&s=19