আত্মসমর্পণ!!
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
নেপোলিয়ান বেনফোর্ট এক ঐতিহাসিক নাম। জীবনের কোন যুদ্ধ যিনি হারেননি। পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম সেরা যোদ্ধা সেরা শাসক বললেও ভুল হবে না। নিজের জীবনের 60 টা যুদ্ধ যিনি জিতেছেন। ছিলেন অনেক বড় সম্রাজ্যের অধিপতি। এমন কেউ যদি কিছু চাই তাহলে তো সেটা সে অনায়াসে পেয়ে যাবে। এমনটা ধারণা আমাদের সবার। যদিও এমনটাই হয়। সাধারণত ঐসময় তিনি যা চাইবেন তাই পাবেন ব্যাপারটা এমন। কিন্তু তারও না পাওয়ার একটা জায়গা ছিল। নেপোলিয়ান রাজা হওয়ার পরে জোসেফিন নামের এক মেয়ের প্রেমে পড়ে। জোসেফিন বিবাহিত ছিল পাশাপাশি তার বাচ্চাও ছিল। কিন্তু জোসেফিন কে ভালোবেসে নেপোলিয়ান তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে কিছুটা চাপে পড়ে জোসেফিন নেপোলিয়ানকে বিয়ে করে নেয়। কিন্তু তাকে ভালোবাসে না।
একবার নেপোলিয়ান যুদ্ধ থেকে ফিরে জানতে পারে জোসেফিন অন্য কারো সাথে সম্পর্কে রয়েছে। পরবর্তীতে জোসেফিন নেপোলিয়ানের সামনে হাতজোর করে তার ভালোবাসার ভিক্ষা চাই। শেষমেশ নেপোলিয়ান তাকে যেতে দেয়। এতো বড় শাসক অথচ নিজের ভালোবাসা ধরে রাখতে পারেনি। যে নিজের ভালোবাসার কাছে ব্যর্থ। সুতরাং ক্ষমতা সম্পদ এগুলো দিয়ে মানুষ কেনা যায় কিন্তু ভালোবাসা না। এরপর আসি আমাদের দেশে। জীবনানন্দ যতটা না প্রকৃতির কবি তার চেয়েও বেশি প্রেমের কবি অনূভুতির কবি। তার অনেক কবিতায় প্রেম, ব্যর্থতা এগুলো ফুটে উঠেছে। তার কবিতার মাঝে সুরঞ্জনা, বনলতা, সুজাতা সহ অসংখ্য নারী চরিত্র পাওয়া যায়। যাদের তিনি ভালোবাসার মানুষ হিসেবে কবিতায় দেখিয়েছেন। জানেন কী জীবনানন্দ নিজেও ছিল প্রেমে ব্যর্থ। জীবনানন্দ ভালোবাসতেন তার চাচাতো বোন লাবণ্য দাশকে।
লাবণ্য কে একাধিকবার জীবনানন্দ প্রেম নিবেদন করলেও কোন সাড়া পায়নি। বার বার ব্যর্থ হয়েছেন। পরবর্তীতে লাবণ্যের বিয়ে হয়ে যায়। এবং জীবনানন্দ বাড়ির পছন্দে বিয়ে করে। তবে তার বিভিন্ন কবিতার মধ্যে দিয়ে লাবণ্যের জন্য তার ভালোবাসা অনূভুতি প্রকাশ পেয়েছে। জীবনানন্দ নিজেও প্রেমে ব্যর্থ। এবার আসি আমাদের জাতীয় কবি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কাছে। কাজী নজরুল ইসলাম কে বিদ্রোহী কবি বললেও উনি কিন্তু অনেক প্রেমের গান লিখেছেন। উনিও একসময় প্রেমে পড়েছিলেন। তবে কবির জীবনে প্রেম এসেছে একাধিকবার। নার্গিস নামের একটা মেয়েকে তিনি ভালোবাসতেন। এছাড়া তিনি তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফজিলাতুন্নেসা কে ভালোবাসতেন। তাকে বার বার প্রেম নিবেদন করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
পরবর্তীতে তিনি ভালোবেসে বিয়ে করেন প্রমিলা দেবীকে। কাজী নজরুল নিজেও কিন্তু প্রেমে ব্যর্থ। তাহলে এবার ভেবে দেখেন নেপোলিয়ান এতো বড় শাসক এতো বড় সম্রাজ্যের অধিপতি হয়েও প্রেমে ব্যর্থ। জীবনানন্দ কাজী নজরুলেরও এই একই অবস্থা। খোঁজ নিলে দেখা যাবে ইতিহাসের আরও অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি প্রেমে ব্যর্থ। তারা মন পাইনি তাদের সেই পছন্দের নারীর। তাহলে আপনি কী এমন করছেন যে আপনি আপনার পছন্দের মানুষের ভালোবাসা পাবেন হা হা। এদের তুলনায় আপনি তো কিছুই না। পছন্দের মানুষের ভালোবাসা পাওয়া খুব কম মানুষের ভাগ্যে থাকে। সুতরাং নিজের পছন্দের মানুষ কে না পেলে আফসোস করবেন না। কারণ মানুষ অপাএে ভালোবাসা দান করতে পছন্দ করে।
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।



.png)



Daily task
https://x.com/i/status/2009172728482615764
https://x.com/i/status/2009172961325142143