জীবনের গল্প || সম্ভাবনার নতুন আলো

in আমার বাংলা ব্লগ16 days ago

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি। তবে ঐ যে, একটা কথা আছে না, সব ভালো কিন্তু ভালো নয়, মাঝে মাঝে খারাপের মাঝেও কিছু ভালো হয়ে যায়। মাঝে মাঝে অনিশ্চয়তার মাঝেও কিছু নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। আমরা এমন অনেক ঘটনা দেখি আমাদের সমাজের মাঝে, তারপর সেগুলোকে নানা বিশেষনে বিশেষায়িত করার চেষ্টা করি, হাজার ঘটনার মাঝে এমন কিছু ঘটনা আমাদের কাছে সর্বদা স্মরণীয় থাকে। অবশ্য আমরা সেগুলোকে খুব বেশী গুরুত্ব দেই না, গোবরে পদ্মফুল ভেবে এড়িয়ে যাই।

কিন্তু এর পেছনেও যে একটা সুন্দর গল্প থাকতে পারে, সেই গল্পের আকর্ষণের মাঝেও আমাদের জন্য একটা দারুণ শিক্ষা থাকতে পারে, একটা সুন্দর দিক নির্দেশনা থাকতে পারে, যা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিবর্গের জন্য নয় বরং পুরো সমাজের জন্য একটা আলোর দিশা হতে উঠতে পারে। যাকে ঘিরে একটা সুন্দর পরিকল্পনা কিংবা একটা সুন্দর টীম ওয়ার্ক তৈরী করা যেতে পারে, সমাজের মাঝে থাকা বাকি সবাইকে সেই টীমের সাথে সংযুক্ত করে একটা দক্ষ চেইন তৈরী করা যেতে পারে, তারপর সবার একটা কাংখিত অবস্থান তৈরীর নতুন সূচনা হতে পারে।

geralt-integration-1777532.jpg

হ্যা, এগুলো সবই সম্ভাবনার কথা, কিন্তু কোনটাই ফেলে দেয়ার মতো না। এবার মূল আলোচনায় ফিরে আসছি। সেদিন পত্রিকায় পড়লাম নতুন একটা শব্দ ভার্চ্যুয়াল মাইগ্রেশন। নতুন শব্দ তার সাথে একটা আকর্ষণবোধও অনুভব করলাম। তার সেটা মুহুর্তের মাঝে পড়ে ফেললাম, নতুন এক সম্ভাবনার আলো উঁকি মারছে আমাদের জন্য। তবে বিষযটি আমি আরো আগ হতেই জানতাম। আমার এক কলেজ বন্ধুর সাথে প্রায় এক যুগেরও বেশী সময় পর কয়েক মাস আগে দেখা হয়েছিলো, সেটা নিয়ে অবশ্য একটা পোষ্টও করেছিলাম। তারপর তার সম্পর্কে জানতে গিয়ে দারুণ একটা অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম, সে কাজ করে বাড়িতে বসে কিন্তু তার বেতন আসে লন্ডন হতে।

সে একটা বিখ্যাত কোম্পানীর হয়ে অনলাইনে কাজ করে, সে খুব ভালো থ্রিডি ডিজাইনার। করোনার সেই কঠিন মুহুর্তে কোম্পানীটি তার বেতন নিয়মিত অনলাইনে পাঠিয়েছিলো, কিন্তু মানবিক কারণে সে তখন বেতন নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং পরবর্তীতে চাকুরি ছেড়ে দেয়। তো এখানে বিষয় হলো, বাংলাদেশে বসে অর্থাৎ নিজের বাড়িতে বসেই সে সেই লন্ডনে থাকা কোম্পানীর কাজ করে দিচ্ছে, নিজের মেথার সঠিক ব্যবহার করছে এবং দেশের জন্য রেমিট্যান্স নিয়ে আসছে। কিন্তু তার জন্য তাকে বিদেশে যেতে হয়নি, টাকা পয়সা খরচা করতে হয় নাই। শুধু নিজের যোগ্যতার একটু প্রমান দিয়েছে।

এটাকেই আধুনিক ভাষায় নতুন এই নামে অভিহিত করছে, ভার্চ্যুয়াল মাইগ্রেশন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও আমার সেই বন্ধুর মতো এমন হাজার মেধাবী সন্তান আছে আমাদের এই সমাজে, এই দেশে। কিন্তু তারা কি তার মতো সুযোগ পাচ্ছে? না একদমই পাচ্ছে না কারণ তারা সঠিক জায়গায় সঠিকভাবে যেতে পারছে না, সঠিকভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারছে না। কিন্তু এখানে যদি সরকারের একটা ভূমিকা থাকতো, কাংখিত একটা গাইডলাইন থাকতো, দক্ষতা প্রমানের যথার্থ সুযোগ থাকতো, তাহলে হয়তো দারুণ এক সম্ভাবনা নতুনভাবে আমাদের আলোকিত করতে পারতো .......! ফিরে আসবো এই প্রসঙ্গ নিয়ে অন্য একদিন।

Image Taken From Pixabay

ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah

break .png
Leader Banner-Final.pngbreak .png

আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

break .png

Banner.png