সত্যের পথই সঠিক পথ!
আশা করছি ভালো আছেন সবাই! আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ কোনটি? কি বলবেন? আমার মতে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ সত্যের পথ নির্বাচন করা। সত্যের পথ চলা কঠিন। অনেকটা পথ কণ্টকাকীর্ণ হয়। মানুষ ব্যথা পায় এ পথে চলতে গিয়ে। কিন্তু অন্যদিকে মিথ্যার পথে যারা চলে তাদের কাছে এই পথটা সহজ মনে হয়। সহজেই তারা পথে হাটঁতে পারে। তবে তাদের এই মসৃণ পথচলাটা কিন্তু সবসময়ের জন্য। যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় তারা কিন্তু দ্রুত সাফল্য লাভ করলেও তাদের বাকি পথটা হয়কঠিন।
আপনি যদি ইতিহাসের দিকে খেয়াল করেন তাহলে দেখতে পাবেন সত্যের জয় সবসময় হয়েছে। দেরিতে হলেও সত্যের জয় হয়েছে। আপনি বাস্তব জীবনে খেয়াল করলে দেখতে পাবেন যে অনেক পরিশ্রম করে আয় রোজগার করে তার জীবন কতোটা কঠিন। আবার যে টাকা মেরে বড়লোক হয়েছে তার জীবন কতোটা মসৃণ। কিন্তু কার জীবনটা ভালো? যে পায়ের ঘাম মাথায় এক করে রোজগার করে তার জীবনটা ভালো নয় কি! হতে পারে সে অনেক পরিশ্রম করছে, দূর্নীতি করছে না। আর এজন্যই তার মনে অনেক শান্তি কাজ করে। রাতে কোনো প্রকার টেনশন ছাড়াই ঘুমাতে পারে।
আমাদের সমাজে সত্যের পক্ষে দাড়ানো লোকের সংখ্যা কম। তবে তাদের কারণেই এখনও ভালোর কদর হয়, মিথ্যার পরাজয় হয়! কিছুদিন আগের কথা। আমাদের ভার্সিটিতে সেমিস্টার ফাইনাল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভার্সিটির শিক্ষার্থীরা দাবি জানায় যে তারা পরীক্ষা আরও পরে দিবে। কারণ ঈদের ছুটিতে তাদের কিছু পড়া হয়নি! সেজন্য তারা আন্দোলন করে। তারপর স্যারেরা বাধ্য হয়ে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করে। কিন্তু স্যারদের সাথে মিটিং করা অবস্থায় কতিপয় কয়েকজন বেয়াদবি করে বসে।
যার কারণে ভার্সিটির পরীক্ষার প্রসেস যে টাইমে হওয়ার কথা ছিল সে টাইমে হবে এবং স্যারেরা এটাও নোটিশ দিয়েছে যে যদি কতিপয় ছেলেগুলো এসে ক্ষমা না চায় তাহলে স্যারেরা পরীক্ষা নিবে না! যেহেতু আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটি, প্রতিটি সেমিস্টার ছয়মাসে হয়। এবারের সেমিস্টারে অলরেডি আট মাসে চলে যাচ্ছে। তার গ্রাডুয়েশন শেষ করতে করতে আরও সময়ের প্রয়োজন। এটা আমাদের জন্য বরং ক্ষতির। কারণ যত তাড়াতাড়ি আমরা বিএসসি কম্পলিট করতে পারবো ততো আমাদের জন্য ভালো।
আজকে আমরা স্যারদের সাথে দেখা করেছি। স্যারদের কাছে আমরা দাবি জানিয়েছি যে আমরা পরীক্ষা দিতে চাই। যারা অপরাধ করেছে তাদের শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থায়্ করা হোক পাশাপাশি আমাদের পরীক্ষার তারিখ টা যেন পরিবর্তন হয়। ছয় তারিখ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এখন সে পরীক্ষা বারো তারিখ হওয়ার কথা । তো এ কথাগুলো এ কারণেই বললাম কারণ সত্যের পথ আসলে এতোটা মসমণ হয়না। অনেকেই পরীক্ষা পিছাতে চায় তারা আজকের মিটিং এ আসেনি। কারণ তাদের জীবন নিয়ে মাথা ব্যথা নেই! তবে দিনশেষে কিন্তু সত্যের জয়ই হলো!
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। বর্তমানে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর বিএসসি করছি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় (ডুয়েট) থেকে । পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত চার বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,কবিতা লেখা,গল্প লেখা ,রিভিউ,ডাই এবং আর্ট করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।



