ভালোরা চুপ থাকলেই অস্থির হয়ে ওঠে সমাজ
আশা করছি সবাই ভালো ও সুস্থ্য আছেন। তো আমরা মাঝে মাঝে ভালো থাকতে পারি না আমাদের চারপাশের অবস্থা দেখে। আমাদের সমাজব্যবস্থা যদি খেয়াল করেন তাহলে দুইধরনের মানুষ পাবেন। এক হইলো খারাপ মানুষ,আরেক হইলো ভালো মানুষ। ভালো মানুষের নীতিনৈতিকতা ও মূল্যবোধ থাকে। কিন্তু যারা খারাপ তাদের মাঝে নীতি নৈতিকতাটা থাকে না। আমাদের সমাজে নীতি নৈতিকতার চর্চাটা শুরু হয় পরিবার থেকেই। মানে হইলো একটি শিশুকে যেভাবে বড় করবে, যেভাবে তাকে নীতি নৈতিকতা শেখানো হবে সেভাবেই সে বড় হতে থাকবে।
আপনি যদি আমাদের সমাজ বা দেশের দিকে খেয়াল করেন তাহলে দেখতে পাবেন সেখানে ভালো ও খারাপ মানুষের সহাবস্থান রয়েছে। এখন সমাজের ভারসাম্য ততোদিন ঠিক থাকবে যতদিন ভালোরা খারাপকে খারাপ বলবে। আর যখনই সমাজের ভালো মানুষগুলোও চুপ হয়ে যাবে তখন সেখানে ভারসাম্য থাকবে না। যারা অন্যায় করে তারা প্রশ্রয় পাবে। বেশি অপরাধ করার চেষ্টা করবে। আমাদের প্রধান সমস্যা যেটা হয় সেটা হইলো আমরা আসলে জানি সমাজে কারা অপরাধ করছে।
কিন্তু আমরা তাদেরকে দেখেও চুপ করে বসে থাকি। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলি না। বিষয়টা এমন যে, একটা দূর্ঘটনা আপনার সাথে না হলে সেটার মর্ম বুঝতে চায় না। কিন্তু অন্যকারো সাথে বিষয়টা ঘটলে আমাদের আবার ঠনক নড়ে না। আমরা ভাবী " আমার সাথে তো আর কিছু হয়নি? " আর এটার কারণেই সমাজে দেখবেন আরও অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু আপনি যদি সচেতন হতেন তাহলে কিন্তু সমাজের মাঝে অস্থিরতা তৈরি হতো না।
আপনি ভাবছেন, প্রশাসন আছে, নিরাপত্তা বাহিনী আছে, দেশের আইন-কানুন আছে! আমার মাথা ব্যথার কি দরকার! আর আপনার এই চিন্তার কারণেই সমাজের আজ বেহাল দশা! অন্যায় দেখলেই আমরা চুপ করে থাকি। এখন খেয়াল করলে দেখবেন চাদাঁবাজি বেড়ে গেছে। মাঠে-ঘাটে-বাজারে যেখানেই সুযোগ পাচ্ছে একটা চক্র চাদাঁ নিচ্ছে। আর আমরা নীর দর্শকের মতো দেখে যাচ্ছি। কিন্তু সমাজের সবাই যদি একসাথে সোচ্চার হয় তাহলে কিন্তু তারা এতো সুযোগ পেত না!
এখন কথা হইলো, ভালোরা যদি চুপ করে বসে থাকে তাহলে দেখবেন অন্যায় আরও বেড়ে যাচ্ছে! পৃথিবীর সিস্টেমটাই চলছে ব্যালেন্সের মধ্যে দিয়ে। মানে হইলো যেখানে অন্যায় সেখানে প্রতিবাদ থাকবেই। এই যেমন ধরেন অন্ধকার যেখানে আছে, আলোও কিন্তু সেখানে আছে! আমাদের স্যার একটা কথা বলেছিল, " পৃথিবীর একটা ক্যাপিসিটি আছে। সেই ক্যাপিসিটির বেশি মানুষ হলে কি করবে একটা প্রাকৃতিক কোনো দূর্যোগ দিয়ে কিছু মানুষকে মেরে ফেলবে! " মানে সিস্টেম তাকে ব্যালেন্স রাখবেই যেভাবে হোক!
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। বর্তমানে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর বিএসসি করছি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় (ডুয়েট) থেকে । পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত চার বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,কবিতা লেখা,গল্প লেখা ,রিভিউ,ডাই এবং আর্ট করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।



