একা থাকা মানেই কি সত্যি একা হওয়া!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
একা থাকা আর একা হওয়া শব্দদুটো দেখতে প্রায় এক হলেও বাস্তবতা কিন্তু অনেক আলাদা। আমরা অনেকেই হয়তো ভাবি, যে মানুষটা একা থাকে, তার পাশে কেউ নেই, সে হয়তো খুব একাকী, খুব কষ্টে আছে। কিন্তু আসলে কি তা ই?একজন মানুষ একা থাকতে পারে নিজের শান্তির জন্য, নিজের মতো করে সময় কাটানোর জন্য। সে হয়তো ভিড়ের মানুষ না, সবার সঙ্গে মিশতে পারে না, কিংবা নিজের ভেতরের জগৎটাই তার কাছে সবচেয়ে আরামদায়ক লাগে। সেই একা থাকাটা অনেক সময় খুব স্বস্তির হয়, যেখানে কেউ তার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে না, কোনো অভিনয় করতে হয় না, কারো চোখে ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টাও করতে হয় না।
আবার অন্যদিকে, অনেকে মানুষ ভিড়ের মাঝেও একা। চারপাশে অনেক আপনজন, বন্ধু, পরিবার থেকেও তার মন খালি লাগে। কারণ ভিড় মানেই কাছের মানুষ না। মন খুলে বলার মানুষ, চোখে চোখ রেখে বোঝার মানুষ, কাঁধে মাথা রাখার মতো একটামাত্র মানুষ না থাকলে, চারপাশের শত লোকও নির্জন লাগে।একাকীত্ব আসলে মন থেকে তৈরি হয়। আপনি যদি নিজের সঙ্গে ভালো থাকেন, নিজের সময়টা উপভোগ করতে পারেন, তাহলে একা থাকা কখনো কষ্টের না। বরং নিজের সঙ্গে কাটানো সময়েই অনেক উত্তর পাওয়া যায়, অনেক ভুল ঠিক হয়, নিজের ভেতরের মানুষটার সঙ্গে দেখা হয়।
তবে একা থাকাটা অনেক সময় অভ্যাসে পরিণত হয়। তখন কেউ পাশে এলেও যেন একটা দেয়াল তৈরি হয়ে যায়। তাই একা থাকা আর একা হয়ে যাওয়া এদুটোর মাঝে যে পার্থক্য আছে, সেটা বুঝতে শেখা খুব দরকার।সব শেষে বলবো, একজন মানুষ একা থাকলেই ধরে নেওয়া উচিত না যে সে একা। অনেক সময় একা থাকা মানে নিজেকে সময় দেওয়া, নিজেকে বোঝা, নিজেকে ভালোবাসা। কারণ এই পৃথিবীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কটা হলো নিজের সঙ্গে নিজের। যদি সেটা ভালো থাকে, তাহলে একা থাকলেও কেউ একা থাকে না।

