শীতের সকালে কমলাপুর যাত্রা।।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই, আশা করি সবাই অনেক ভাল আছেন।
আজকের সকালটা শুরু হয়েছিল একটু ব্যতিক্রমভাবে। সাধারণ দিনের মতো ঘুম ভাঙেনি, বরং হঠাৎ করেই কমলাপুর রেলস্টেশনে যেতে হলো। জানুয়ারির শীত এমনিতেই কনকনে, তার ওপর আজ সকালে কুয়াশার পরিমাণ ছিল চোখে পড়ার মতো বেশি। চারপাশে একটা ধূসর আবরণ, ঠান্ডা হাওয়া আর ঘুমঘুম পরিবেশ। সব মিলিয়ে সকালটা ছিল বেশ ভারী। তারপরও প্রয়োজনের তাগিদে সকাল সকাল বের হওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।
গতকাল নুসাইবার নানু গ্রাম থেকে আমাদের বাসায় এসেছেন। মূল উদ্দেশ্য একটাই আমার স্ত্রীকে গ্রামে নিয়ে যাওয়া। আমার স্ত্রী বর্তমানে অনার্স চতুর্থ বর্ষে বাংলা বিষয়ে পড়াশোনা করছে। পড়াশোনার ফাঁকে সংসার, বাচ্চা সব সামলানো সহজ নয়। তাই মাঝে মাঝে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে একটু স্বস্তি পাওয়া তার জন্য জরুরি।
আজ সকাল সাতটার দিকে ঘুম থেকে উঠতে হলো। আমি উঠে দেখি নুসাইবা তখনো গভীর ঘুমে। ওর ঘুমন্ত মুখটা দেখলে মনটা এমনিতেই নরম হয়ে যায়। অন্যদিকে নুসাইবার আম্মু আর তার নানু খুব ভোরেই উঠে ফ্রেশ হয়ে একপ্রকার রেডি। তাদের প্রস্তুতি দেখে আমিও তাড়াতাড়ি ঘুম ছেড়ে উঠে পড়লাম। ফ্রেশ হয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম, আজ আমি নিজেই স্টেশনে পৌঁছে দেব।
বাসা থেকে বের হয়ে অটোতে করে শুতে গেলাম সাইনবোর্ড। সেখান থেকে লাব্বাইক বাসে উঠে সরাসরি কমলাপুর। আশ্চর্যের বিষয়, আজ সকালবেলা রাস্তায় তেমন কোনো যানজট ছিল না। ঢাকা শহরের জন্য এটা বেশ অস্বাভাবিক হলেও আজকের ঠান্ডা আর কুয়াশার কারণে হয়তো গাড়ির চাপ কিছুটা কম ছিল।
আমাদের গন্তব্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সাধারণত সকালবেলায় ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে তিনটি ট্রেন ছাড়ে। একটি হলো সকাল সাড়ে ছয়টার পারাবত এক্সপ্রেস, যা সিলেটগামী হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্টপেজ দেয়। দ্বিতীয়টি সকাল আটটার মহানগর প্রভাতী, যা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যায় এবং বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে যাত্রাবিরতি দেয়। আর তৃতীয়টি হলো সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের তিতাস কমিউটার।
যেহেতু হঠাৎ করেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত, তাই আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট পাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। বাধ্য হয়েই তিতাস কমিউটার ট্রেনই ভরসা। কমলাপুরে পৌঁছে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারলাম। আমাদের টিকিট ছিল খ-বগির ১৩ ও ১৪ নম্বর সিট। টিকিট হাতে পাওয়ার পর সবাইকে নিয়ে প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম।
তিতাস ট্রেনটি সাধারণত সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় আসে। কিন্তু আজ সেটি এক ঘণ্টা দেরিতে, সাড়ে দশটার দিকে স্টেশনে ঢোকে। শীতের সকালে দীর্ঘ অপেক্ষা কিছুটা কষ্টকর হলেও উপায় ছিল না। অবশেষে ট্রেন আসতেই দ্রুত তাদের নির্ধারিত বগিতে উঠিয়ে দিলাম।
সময় গড়িয়ে তখন প্রায় ১১টা। ট্রেন ছাড়ার পর বুঝলাম, আজ আর অফিসে যাওয়া সম্ভব নয়। ট্রেন লেট হওয়ায় কমলাপুরেই আমার সাড়ে দশটা বেজে গেছে। বাসায় ফিরতে ফিরতে ১১টা ৩০ তো হবেই। তাই অফিসের কলিগকে ফোন করে বিষয়টি জানালাম।
এরপর কমলাপুর থেকে হেঁটেই যাত্রাবাড়ীর দিকে রওনা দিলাম। হাঁটার ফাঁকে লাইভ ভিডিও করলাম, স্টেশনের ব্যস্ততা, মানুষের ভিড়, শীতের সকালের বাস্তবচিত্র সব কিছুই যেন আলাদা এক অনুভূতি। যাত্রাবাড়ী পৌঁছে বাসে উঠে শেষ পর্যন্ত বাসায় ফেরা।
আজকের সকালটা ছিল ক্লান্তিকর, কিন্তু বাস্তব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরিবার, দায়িত্ব, সময় সব কিছুর সমন্বয়েই আমাদের প্রতিদিনের জীবন। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই একদিন বড় গল্প হয়ে থেকে যায়। প্রতিদিন নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছি, বাস্তব জীবন থেকে অনেক কিছু শিখছি।
Location- কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, ঢাকা।
Device- মোবাইল
Model- Realme C53
Photographer- @joniprins
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server





















