মেট্রোরেল- ঢাকার যানজটের ভিড়ে একটুখানি স্বস্তির নিঃশ্বাস।।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভালো এবং সুস্থ আছেন।
মেট্রোরেল বাংলাদেশের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা শহরের জন্য এটি যেন এক বিশাল আশীর্বাদ। জায়গার তুলনায় জনসংখ্যা কয়েক হাজার গুণ বেশি। এমন শহরের তালিকায় ঢাকার নাম সবসময়ই উপরের দিকে থাকে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের স্রোত, যানবাহনের ভিড় আর অন্তহীন যানজট ঢাকাবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী।
ঢাকা শহরের রাস্তাগুলো এমনিতেই খুব সংকীর্ণ। তার ওপর আবার রাস্তার দুই পাশে ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসানো হয়। পথচারীদের হাঁটার জায়গা থাকে না, সবাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে আসে। এতে করে যান চলাচল আরও ধীর হয়ে পড়ে। এই সমস্যার সমাধানে সরকার গত কয়েক বছরে একের পর এক ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ফ্লাইওভার করেও পুরোপুরি যানজট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে সরকার বিকল্প সমাধান হিসেবে ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশের মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই প্রথম মেট্রোরেল চালু হয়। এখনো দেশের অন্য কোনো শহরে মেট্রোরেল নেই। সে কারণেই বাংলাদেশের অনেক মানুষ আজও মেট্রোরেলে চড়া হয়নি। আমার ওয়াইফও এখনো মেট্রোরেলে ওঠার সুযোগ পায়নি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেকবার মেট্রোরেলে যাতায়াত করেছি। আমার ওয়াইফ সেদিন আমার সাথে মেট্রোরেল চড়েছে।
গত ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসে আমরা জিয়া উদ্যান ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফেরার সময় বিজয় সরণী স্টেশন থেকে মেট্রোরেলে করে মতিঝিল পর্যন্ত আসি। সেদিনের অভিজ্ঞতা সত্যিই আলাদা ছিল। ভিড়ের পরিমাণ ছিল অবর্ণনীয়। মনে হচ্ছিল পুরো ঢাকা শহর যেন একসাথে মেট্রোরেলে উঠতে চাচ্ছে। শহরের যানজট থেকে বাঁচতে সবাই হুমড়ি খেয়ে মেট্রোরেলের দিকে ছুটছে।
এত মানুষের ভিড় দেখে এক সময় মনে হলো এত লোক নিয়ে মেট্রোরেল অকেজো হয়ে যায় না তো? স্টেশনে দাঁড়ানো, ট্রেনে ওঠা, নামা সবখানেই মানুষের চাপ। তবুও অবাক করার বিষয় হলো, এত ভিড়ের মাঝেও ট্রেন তার নিয়ম মেনে চলছে। কোনো বিশৃঙ্খলা নেই, বড় কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি।
সবচেয়ে বড় আশার কথা হলো ভিড় যতই থাকুক, গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগে খুব কম। যেখানে সাধারণ দিনে রাস্তায় জ্যামে বসে থাকতে এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগে, সেখানে মেট্রোরেলে মাত্র পাঁচ থেকে দশ মিনিটেই গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। সেদিন ভিড় থাকলেও আমরা অল্প সময়েই মতিঝিলে পৌঁছে গিয়েছিলাম। এই সময় বাঁচানোর বিষয়টাই মেট্রোরেলের সবচেয়ে বড় শক্তি।
মেট্রোরেল শুধু একটি যানবাহন নয়, এটি ঢাকার মানুষের জন্য সময় বাঁচানোর একটি কার্যকর মাধ্যম। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, সাধারণ যাত্রী সবাই এর সুফল পাচ্ছে। হ্যাঁ, ভিড় আছে, চাপ আছে, কিন্তু তারপরও এটি ঢাকার যানজটের ভিড়ে একটুখানি স্বস্তির নিঃশ্বাস।
ভবিষ্যতে যদি আরও রুট চালু হয়, আরও কোচ যুক্ত করা যায় এবং যাত্রী ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা হয়, তাহলে মেট্রোরেল সত্যিকার অর্থেই ঢাকার জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারবে। আমার সেই দিনের অভিজ্ঞতা থেকে এটুকুই বলতে পারি।ভিড়ের মাঝেও মেট্রোরেল আমাকে সময়ের দিক থেকে বড় স্বস্তি দিয়েছে। আর ঢাকার মতো শহরে সময় বাঁচানো মানেই জীবনকে একটু সহজ করা।
Photographer- @joniprins
Device- Realme C53
Location-Dhaka
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server





















