খাঁটি আর ভেজালের লড়াই।।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভালো এবং সুস্থ আছেন।
এখন শীতকাল। বাংলাদেশে শীতের সঙ্গে খেজুর রস আর সুন্দরবনের নামের সঙ্গে খাঁটি মধুর এক অদৃশ্য বন্ধন রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বলতে হয় এই দুই প্রাকৃতিক সম্পদই আজ ভেজালের দুষ্টচক্রে পড়ে মানুষের বিশ্বাস হারাচ্ছে। আমার নিজের একটি ভ্রমণই যেন এই বিষয়টির বাস্তব চিত্র চোখের সামনে তুলে ধরেছিল।
আমি বাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ। আমাদের এলাকায় খেজুর গাছ নেই বললেই চলে। তাই একবার শীতের সময় ঝিনাইদহে বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে গিয়ে মনে বড় আশা ছিল, আজ হয়তো টাটকা খেজুর রস পাবো। শুনেছি সেদিকে প্রচুর খেজুর রস পাওয়া যায়। ভোরে ঘুম থেকে উঠে দুই তিন কিলোমিটার রাস্তা হাঁটতে বের হলাম। কিন্তু আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, রস তো খুবই কম, দামও আকাশছোঁয়া। যতটুকু পেলাম, তাও মন ভরানোর মত নয়। তবুও যেহেতু এসেছি, অতিরিক্ত দাম দিয়েই খেয়ে নিলাম। সেই অভিজ্ঞতাই মনে প্রশ্ন জাগালো যেখানে গাছ আছে, সেখানে যদি রস না পাওয়া যায়, তাহলে ঢাকায় ২০ টাকার গ্লাসে যে খেজুর রস বিক্রি হয়, সেটাই বা আসে কোথা থেকে? সবই ধোঁকাবাজি।
ঝিনাইদহ ঘুরে যশোর, খুলনা, বাগেরহাট হয়ে সুন্দরবনেও ঘুরলাম। সুন্দরবন থেকে ফেরার পথে খাঁটি মধু কিনে আনন্দে বাড়ি ফিরছিলাম। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। খুলনা থেকে ঝিনাইদহে ফেরার সময় ট্রেনে কয়েকজন অভিজ্ঞ লোক আমাদের মধু দেখে বললেন এটা খাঁটি মধু না, ভেজাল আছে, শুনে মাথায় হাত। ভাবলাম, সুন্দরবনের ভেতরেও যদি ভেজাল মধু বিক্রি হয়, তাহলে মানুষ আর বিশ্বাস করবে কোথায়?
আরেকটি ঘটনা ঘটে ঢাকায়। একদিন দুই কলিগ লাঞ্চের সময় বাসার দিকে ফিরছি। দেখি এক ব্যক্তি খড়ের ধোয়া দিয়ে মৌচাক ভেঙে মধু সংগ্রহ করে চলে যাচ্ছে। এমন সময় কলিগ মধুওয়ালার কাছ থেকে জানতে চাইলেন মধু বিক্রি করবেন কি না? লোকটি বললো, এগুলো খাঁটি মধু, মাত্র সংগ্রহ করেছি। দাম ১২০০ টাকা কেজি। এত দামে নেবেন না। এগুলো প্রসেসিং করে ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি করবো। তখন মধুর পরিমাণ বেড়ে যাবে, বুঝতেই পারছেন কিভাবে বাড়বে। তার যুক্তি শুনে কলিগ হাফ কেজি কিনে ফেললেন।
কিছুক্ষণ পর পাশের এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করল ভাই কোন জায়গা থেকে মধু ভেঙে আনছেন? মধু বিক্রেতা কাছের নাম না জানা কোন এক এলাকার কথা বলে দিলো। তখনই সে লোকটি বলল আমি আশেপাশের দশ বিশটা এলাকায় ঘুরি, কোথাও মৌচাক দেখি নাই। মিথ্যে কথা বলে মানুষ ঠকাচ্ছেন। এই কথা শোনার পর মধু বিক্রেতা কোনো কথা বলতে না পেরে দ্রুত চলে গেলেন।
এ ঘটনাগুলো একটি বড় সত্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় বাংলাদেশে খাঁটি পণ্য পাওয়াই যেন আজ ভাগ্যের ব্যাপার। ঢাকার সোনির আখড়ায় গ্লাসে গ্লাসে খেজুর রস বিক্রি হয় মাত্র ২০ টাকায়। কিন্তু ঢাকার আশেপাশের কোনো জেলাতেই খেজুর গাছ নেই! তবুও মাটির কলসিতে সাজানো সেই খেজুর রস বাজারে সয়লাব। আসলে এগুলো কেমিক্যাল মিক্সড পানি ছাড়া আর কিছুই নয়।
আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো যেখানে আমি নিজে ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা ঘুরেও খেজুর রস খেতে পারলাম না, সেখানে বাজারে মৌসুম আসার আগেই খেজুরের গুড়ের পাহাড় লেগে যায়। প্রশ্ন জাগে এত গুড় আসে কোথা থেকে? উত্তর একটাই ভেজাল, ক্যামিকেল কাপড়ের রং দিয়ে তৈরী।
খেঁজুর রস আর মধু শুধু খাবার নয়, এটি আমাদের গ্রামবাংলার সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের অংশ। এই সৌন্দর্যকে ভেজালের কালো হাত থেকে বাঁচাতে হলে আমাদের সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন। না হলে একদিন হয়তো খাঁটি খেজুর রস বা খাঁটি মধু শুধু গল্পের বইয়ে পড়তে হবে। বাস্তবে আর দেখতে হবে না।
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server

















