ডাচ–বাংলা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে গিয়ে একদিনের ব্যস্ত অভিজ্ঞতা।।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভালো এবং সুস্থ আছেন
মানুষের জীবনে কিছু অভিজ্ঞতা থাকে, যা খুব সাধারণ হলেও দিনশেষে ভাবলে মনে হয় আহা! আজকে কত কিছুই না করতে হলো। আজকের দিনটি আমার জন্য ঠিক এমনই একটি দিন ছিল। বিষয়টি খুব সাধারণ কোন ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট ক্লোজ করা। কিন্তু সেই একটি কাজ করতে গিয়ে যেন পুরো দিনের অধিকাংশ সময় হারিয়ে গেল।
বেশ কয়েক বছর আগে আমার ম্যানেজার স্যার দশ লাখ টাকা পোস্ট অফিসের একটি ডিপিএসে জমা দিয়েছিলেন। আমি নিজেই তাঁকে সহযোগিতা করে টাকা জমা দিতে গিয়েছিলাম। চার বছরের জন্য করা সেই ডিপিএসটি থেকে তিনি প্রতি মাসে ভালো অঙ্কের লাভ পেতেন। সময়মতো ডিপিএসের মেয়াদ শেষ হলে গত বছর ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজে প্রয়োজন হওয়ায় স্যার পুরো টাকা উঠিয়ে নেন। তখনও আমি নিজে গিয়ে ডিপিএসটি ভেঙে তাকে টাকা এনে দিয়েছিলাম। তিন দিন পরেই সেই টাকা ডাচ–বাংলা ব্যাংকে পাঠানো হয়।
এরপর স্যার নতুন একটি অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে টাকা রাখেন। সেখান থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে ৯ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা তিনি উত্তোলন করতে পেরেছিলেন। কিন্তু বাকি ৫ হাজার টাকা ব্যাংকের কিছু প্রক্রিয়ার কারণে সাথে সাথে তোলা যাচ্ছিল না। এরপর আর লেনদেন না হওয়ায় দীর্ঘদিন অ্যাকাউন্টটি বন্ধই পড়ে ছিল। প্রতি বছর কার্ড চার্জ হিসেবে ৫০০ টাকা করে কেটে নেওয়ায় স্যার সিদ্ধান্ত নিলেন একাউন্ট রেখে লাভ নেই, ক্লোজ করে দাও।
আজ দুপুরে স্যার আমাকে সেই অ্যাকাউন্টটি ক্লোজ করার দায়িত্ব দিলেন। ঘড়িতে তখন বারোটা বাজতে চলেছে। অফিস থেকে দ্রুত বের হয়ে সোজা নারায়ণগঞ্জ শহরের ডাচ–বাংলা ব্যাংকের হেড অফিসের দিকে রওনা দিলাম। ব্যাংকে ঢুকতেই দেখি মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সিরিয়ালে দাঁড়াতে হলো বেশ কিছুক্ষণ। অপেক্ষার পর যখন আমাদের সিরিয়াল এলো, তখন মনে হলো অর্ধেক কাজ যেন শেষ হয়েছে।
এরপর কাউন্টারের সামনে গিয়ে আরও কিছু সময় অপেক্ষা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই–বাছাই শেষে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অবশেষে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিলেন। অ্যাকাউন্টে ৫ হাজার টাকা থাকলেও নানা চার্জ ও কর্তনের পরে সর্বশেষ আমাকে ২২৬৫ টাকা ফেরত দেওয়া হলো। টাকা হাতে নিয়ে ব্যাংক থেকে বের হতে হতে ঘড়িতে দেখলাম দুপুর দুইটা বেজে গেছে।
টাকা নিয়ে বাসায় ফেরার পথে ক্লান্তি টের পেলেও মনটা হালকা লাগছিল অবশেষে দায়িত্বটি সম্পন্ন হয়েছে। বাসায় এসে তাড়াতাড়ি লাঞ্চ করলাম। তারপর আবার ছুটলাম অফিসের দিকে। যেতে যেতে তিনটা বেজে গেল।
অফিসে গিয়ে দেখি আমার ডেস্কে আগের দিনগুলোর জমে থাকা কাজের পাহাড়। সত্যি বলতে কী, মনটা একটু অস্থির হয়ে গেল। তারপরও ধৈর্য ধরে একে একে সব কাজ শেষ করার চেষ্টা করেছি। কাজ করতে করতে সন্ধ্যা কোন সময়ে পেরিয়ে রাত হয়ে গেল টেরই পাইনি। সব কাজ শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে ঘড়িতে রাত দশটা বাজে।
সারাদিনের ক্লান্তি তখন শরীরের প্রতিটি অংশে যেন অনুভব হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, আজকে শুধুই দৌড়াদৌড়ি, অপেক্ষা, কাজ আর দায়িত্বে ভরা একটা দিন কাটলো। কিন্তু দিনের শেষে স্বস্তি এই যে ম্যানেজার স্যারের দেওয়া দায়িত্ব সম্পূর্ণ করেছি সঠিকভাবে।
আজকের দিনের অভিজ্ঞতা আমাকে আবার মনে করিয়ে দিল ছোট একটি কাজ কখনও কখনও পুরো দিনের সময়, শক্তি আর ধৈর্য খরচ করে দিতে পারে। তারপরও দায়িত্ব পালনের আনন্দ সব কষ্টকে হালকা করে দেয়।
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server



















