সচেতন হলে বা ইচ্ছে করলে অনেক কিছুই করা সম্ভব।।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই, আশা করি সবাই অনেক ভাল আছেন।
সচেতন হলে বা ইচ্ছে করলে অনেক কিছুই করা সম্ভব
আর হাল ছেড়ে দিলে কিছুই সম্ভব নয়। এই কথাটার বাস্তব উদাহরণ খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে গত পরশুদিন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে এমন একটি দৃশ্য চোখে পড়েছে, যা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে এবং নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে মানুষ চাইলে কতটা দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে পারে।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নেমেছিল। চারদিক মানুষের ভিড়ে ঠাসা, মাঠের মধ্যে তিল পরিমাণ জায়গাও যেন ফাঁকা ছিল না। মানুষ মানুষে একাকার হয়ে গিয়েছিল। এত বিশাল জনসমাগমে সাধারণত আমরা যেটা কল্পনা করি, তা হলো চারপাশে বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর, গাছপালা নষ্ট হয়ে যাওয়া, পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি। কিন্তু বাস্তবে যা দেখলাম, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যারা গিয়েছেন, তারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন সেখানে ছোট-বড় অসংখ্য গাছ রয়েছে। বিশেষ করে মাঠের ভেতরে ও চারপাশে সাজানো ছোট ছোট ফুলের গাছ এবং সুন্দর ফুলের বাগান চোখে পড়ে। এত মানুষের ভিড়ের মাঝেও সেই ফুলের গাছগুলো প্রায় অক্ষত অবস্থায় ছিল। কিছু কিছু জায়গায় হয়তো সামান্য ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু বড় বাগানগুলো বা সারিবদ্ধভাবে লাগানো ফুলের গাছগুলোতে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি দেখা যায়নি।
এই দৃশ্য সত্যিই অবাক করার মতো। কারণ লক্ষ লক্ষ মানুষের পায়ের চাপ, চলাচল, আবেগ, ভিড় সবকিছুর মাঝেও মানুষ সচেতনভাবে চেষ্টা করেছে যেন গাছগুলো নষ্ট না হয়। কেউ হয়তো ফুলের বাগানের ওপর দিয়ে না হেঁটে পাশ দিয়ে চলে গেছে, কেউ অন্যকে সাবধান করেছে, কেউ পথ পরিবর্তন করেছে। এই ছোট ছোট সচেতন আচরণই মিলিত হয়ে বড় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
আমরা অনেক সময় বলি, আমাদের দেশের মানুষ সচেতন নয়, আমরা পরিবেশের কথা ভাবি না, আমরা দায়িত্বজ্ঞানহীন। কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে মানুষ চাইলেই সচেতন হতে পারে। সঠিক জায়গায়, সঠিক উপলক্ষে মানুষ নিজের ভেতরের মানবিকতা ও দায়িত্ববোধকে জাগিয়ে তুলতে পারে। জানাজার মতো একটি আবেগঘন ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে মানুষ শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে, পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে, গাছ ও ফুলের মতো নীরব জীবগুলোকেও রক্ষা করেছে।
গাছ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয় গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, পরিবেশ রক্ষা করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখে। সেই গাছের প্রতি এই সম্মান আসলে নিজেদের ভবিষ্যতের প্রতিও সম্মান। জানাজার মাঠে অক্ষত থাকা ফুলের বাগানগুলো যেন নীরবে আমাদের এই কথাটাই মনে করিয়ে দিয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা আমাকে নতুন করে আশাবাদী করেছে। যদি লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগমেও ফুলের গাছ রক্ষা করা যায়, তাহলে প্রতিদিনের জীবনে কেন আমরা সেটা পারব না? কেন রাস্তার পাশে লাগানো গাছ ভাঙা হবে, কেন ফুটপাথে থাকা ছোট গাছগুলো নষ্ট হবে, কেন একটু অসচেতনতায় পরিবেশের ক্ষতি হবে?
সবশেষে বলতে চাই, সচেতনতা কোনো অসম্ভব বিষয় নয়। এটি কোনো বড় আইন বা কঠোর শাস্তির ওপর নির্ভর করে না বরং মানুষের ইচ্ছা, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের ওপর নির্ভর করে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লক্ষ মানুষের মাঝেও অক্ষত থাকা ফুলের বাগানগুলো তারই জীবন্ত প্রমাণ। মানুষ চাইলে পারে এই বিশ্বাসটাই নতুন করে শক্ত হলো।
Location- সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা।
Device- মোবাইল
Model- Realme C53
Photographer- @joniprins
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server





















