ঈদের আনন্দ হাসপাতালের চার দেওয়ালের মাঝে

in আমার বাংলা ব্লগ9 months ago

হ্যালো.......!!
আসসালামু আলাইকুম/আদাব আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গন আমি @kibreay001 বাংলাদেশ থেকে বলছি আজ (৩১-০৩-২০২৫)

1000094258.png

Source

আসসালামু আলাইকুম আমার স্টিম বন্ধু গন আশা করি আপনারা অনেক ভালো আছেন । আপনাদের দোয়ায় আমিও অনেক ভালো আছি। আমি @kibreay001 আমি আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি ঈদের আনন্দ হাসপাতালের চার দেওয়ালের মাঝে। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সকল বন্ধুগণকে জানাই ঈদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ঈদ মোবারক। আপনারা কম বেশি সকল ইউজার জানেন আমি কয়েকদিন বেশ ব্যস্ততার মধ্যেই দিন পার করতেছি। আপনারা সকলে জানেন আমি রোজার মধ্যভাগ প্রজন্ত প্রায়ই বাইরের দেশে অবস্থান করেছিলাম। আসলে দেশে এসেছিলাম অনেক আশা এবং ভরসা নিয়ে এবার হয়তো মা-বাবা এবং পরিবারের সকল আত্মীয়-স্বজনের সাথে ঈদ উদযাপন করব। কিন্তু দেশে আসার পরে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত করে দিল। আমি আজকে আপনাদের মাঝে এই বিষয়ে আলোচনা করব। আজকে সকাল বেলায় ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই বেশ ব্যস্ত সময় পার করছি। আসলে আজকে প্রায় চার দিন ঘুম নেই বললেই চলে। এর মাঝেও চেষ্টা করছি অল্প একটু ঘুমানোর জন্য নিজের শারীরিক কন্ডিশন ভালো রাখার জন্য। আসলে নিজে অসুস্থ হয়ে গেলে হাসপাতালে অন্যদের দেখাশোনা অনেক সমস্যা হয়ে পড়বে তারপরেও চেষ্টা করছি সব মিলিয়ে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য। তবে চলুন আজকের পোস্টের বিস্তারিত আপনাদের মাঝে আলোচনা করা যাক.......


আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সকল ইউজারকে আমার পক্ষ থেকে জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ঈদ মোবারক। আপনারা সকলে জানেন আমার বড় একটা বোন রয়েছে। আসলে আমার বড় বোনের পেটে বাচ্চা ছিল। হঠাৎ কয়েকদিন আগে খুবই ব্যথা এবং যন্ত্রনা ওঠে। আমরা আমাদের এলাকার নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমাদেরকে কুষ্টিয়া সরকারি হাসপাতালে রেফার্ড করে দেওয়া হয়েছিল। কুষ্টিয়াতে আমরা ডাক্তার দেখানোর পরে কুষ্টিয়া থেকে আমাদেরকে আবারো রাজশাহী সরকারি হাসপাতালে রেফার্ড করে দেওয়া হয়েছিল। আসলে আমার আপুর পেটে তিনটা বাচ্চা ছিল তাই কোন জায়গাতে রিক্স নিতে চেয়েছিল না। তাই আমরা কুষ্টিয়া থেকে অ্যাম্বুলেন্স দেখে সেই দিন সাথে সাথে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চলে এসেছিলাম। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার পরে আসলে তারা তখন বেশ কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পরে সাথে সাথে অপারেশন করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু বাচ্চা ঠিকমতো পুষ্ট হয়েছিল না তাই সবাই অপারেশন করতে ভয় পেয়েছিল। এভাবেই বেশ কিছু সময় অনেক ডাক্তার মিলে ডিসিশন নেওয়ার পরে সন্ধ্যায় অপারেশন রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। অপারেশন রুমে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ডাক্তাররা আমাদেরকে বলে তিন ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। আমি তখন রোজায় থাকা অবস্থায় আমার নিজের এক ব্যাগ রক্ত আমার আপুকে দিয়েছিলাম।


আসলে রোজায় থেকে রক্ত দেওয়ার পরেও আমার কিছুই মনে হয়েছিল না যেহেতু এর আগে আমি নিজে অনেকবার রক্তদান করেছি। এ বিষয়ে আপনাদের মাঝে পরবর্তীতে আলোচনা করব। একবার রক্ত দেওয়ার কয়েক মিনিট পরে আবারো এক ব্যাগ রক্ত আমরা ব্লাড ব্যাংক থেকে টাকা দিয়ে কিনে দিয়েছিলাম যেহেতু রাজশাহীতে আমাদের কোন পরিচিত মানুষ ছিল না বললেই চলে তাই রক্ত জোগাড় করা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে গিয়েছিল। তারপরে আবারও এক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয় তখন আমার এক বন্ধু রক্ত দিয়েছিল। আসলে সেদিন আমরা কি যে বিপদের মধ্যে ছিলাম বলে বোঝাতে পারবো না। আমার আপুকে অপারেশন রুমে নেওয়ার পরে ডাক্তাররা বলেছিল পেশেন্টকে বাঁচানো সম্ভব হবে কিনা জানিনা এই কথা যখন বলে আমার সকলেই ভেঙে পড়েছিলাম। তখনই ডাক্তাররা তিন জায়গায় বন্ড স্বাক্ষর করে নিয়েছে। আসলে তখন আমারা সকলেই একবারে ভেঙে পড়েছিলাম। দুই ঘন্টা অপারেশন শেষে আমার আপুকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল প্রায় ১৭ ঘণ্টা পরে আমার আপুর জ্ঞান ফিরেছিল। এদিকে তিনটা বাচ্চার মধ্যে কয়েক মিনিটের মধ্যেই যত্নের অভাবে একটি বাচ্চা মারা যায়। তারপরে আমরা দুইটা বাচ্চা নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ শিশু ওয়ার্ড এনআইসিতে ভর্তি করেছিলাম। আমার আপুর মোট পাঁচ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু একটা বাচ্চা মারা গেছে তাই বাড়িতে আমি খবর দেওয়ার পরে বাড়ি থেকে মাইক্রো গাড়ি নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিল বাড়ির অনেকেই। তারপরে আমার দুলাভাই ঢাকা থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিল রাত দুইটার দিকে। তারপরে আমার দুলাভাইকে বাচ্চা দেখানোর পরে বাচ্চা নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে অনেকেই রওনা দিয়েছিল।


আমার দুলাভাই এসে বাচ্চা দেখার পরে নিজে অনেক ভেঙ্গে পড়েছিল। আসলে নিজের সন্তান যখন নিজের চোখের সামনে যত্নের অভাবে মারা যায় এই কথাটা যখন শুনতে পারে তখন কোন বাবা-মাই শান্ত থাকতে পারে না। শেষ পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ আমার আপু সুস্থ হয়ে উঠেছে মহান আল্লাহতালার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এখন পর্যন্ত আমার আপুর এক ছেলে এবং এক মেয়ে অসুস্থ তাই হাসপাতালে চার দেয়ালের মাঝে রয়েছে। আসলে এবারের ঈদের উৎসব আমরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উদযাপন করছি। আসলে সময় পরিস্থিতি এবং ভাগ্য সবকিছুকেই মানিয়ে নিতে হচ্ছে। এখনো ছোট বাচ্চা দুইটাকে নিয়ে কতদিন হাসপাতালে থাকতে হবে জানিনা। আপনারা সকলেই আমার ভাগ্নেদের এবং আমার আপুর জন্য দোয়া করবেন যেন সকলে সুস্থ হয়ে খুব তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরতে পারি। আশা করি আজকের লেখা পোস্ট আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে। সকলের মতামত নিচে কমেন্ট বক্সে মাধ্যমে জানাবেন। সকলের জন্য শুভকামনা রইল।

✨💞আমার নিজের পরিচয়💞✨

IMG_20240213_153009.jpg

আমি মোঃ কিবরিয়া হোসেন। আমি বাংলাদেশ খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানা কামারখালী গ্রামে বসবাস করি। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলতে এবং লিখতে অনেক ভালোবাসি। সব থেকে আমি বেশি পছন্দ করি ফটোগ্রাফি ক্যামেরাবন্দি করতে। আমি বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন জায়গা ঘোরাঘুরি করে থাকি। কয়েকটি শখের মধ্যে আমার প্রধান শখ হচ্ছে বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করা এবং ফটোগ্রাফি ধারণ করা। আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে যাত্রা শুরু করেছি ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের ০১ তারিখে । স্টিমিট প্ল্যাটফর্মকে আঁকড়ে ধরে ভবিষ্যতে আরো অনেক দূরে এগিয়ে যেতে চাই এটাই আমার লক্ষ্য। সংক্ষিপ্ত আকারে আমি আমার নিজের পরিচয় শেয়ার করলাম আপনাদের মাঝে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।

(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )

banner-abb3.png

Logo.png

7258xSVeJbKkzXhyseBP4PYz11eBDT8sW2oR1a4vfVFS6JTrGU8e1FPUaNdHG5vjXyg2xthV78bDEmEVvKCQpyzX1kq8gAVzGsPp9GqJVRWxb6T9y35PZmQehnLjELdKKmnhdxQjDuny4.png

Banner.png

1000061548.png


VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

✨💞আমার লেখা পোস্টটি সকলকে ভিজিট করার জন্য ধন্যবাদ💞✨

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 9 months ago 

আপনার এক ভাগ্নে মারা যাওয়ায় খুবই খারাপ লাগছে। আপনার আপু এবং ভাগ্নেদয়ের জন্য দোয়া করি। তারা সবাইকে যেন আল্লাহতালা সুস্থতা দান করেন। ধন্যবাদ।

 9 months ago 

আপনাদের দোয়া যেনো মহান আল্লাহতালা কবুল করেন।