কীভাবে মুখের জড়তা দূর করবো?
আমরা প্রায়ই অনেক অনুষ্ঠানে পার্টিসিপেট করে থাকি। বা আমরা আমাদের বন্ধুদের সাথে অনেক সময় গল্প গুজব ও আড্ডা দিয়ে থাকি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় অনেকের মুখে জড়তা থাকে যার কারণে তারা সঠিকভাবে তাদেরকে প্রকাশ করতে পারে না।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের যোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু তা প্রকাশ করতে আমরা অস্বস্তি বোধ করি। সুতরাং আমাদের মুখের জড়তা কাটিয়ে ওঠা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এটার জন্য আমাদের মেধার বিকাশ বাধার সম্মুখীন হয়। আমরা সুস্থভাবে আমাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হই না।
সুতরাং যাদের এই সমস্যা রয়েছে তাদের উচিত এই সমস্যার সমাধানের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া। যেন তাদের মেধার বিকাশ বাধা গ্রস্ত না হয়।
কিন্তু, আমরা এই সমস্যার সমাধানের জন্য কি করতে পারি। সেটাই এখন চিন্তার বিষয়।
প্রথমত, সমস্যাটি যদি জন্মগতভাবে হয়ে থাকে তাহলে এর সমাধান অনেকটাই অনিশ্চিত। আর সমস্যাটি যদি পরবর্তীতে অন্য কোন কারণে সৃষ্ট হয়ে থাকে তাহলে এর সমাধান অনেকটা সহজ হতে পারে।
এক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় আমাদের ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। তাদের রুলস মেনে চলা উচিত।
এছাড়া আমরা নিজে থেকে কিছু কাজ করতে পারি। আমরা কিছু মুখের ব্যায়াম করতে পারি। যেগুলো আমাদের জড়তা কাটিও ছাড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক উপাদান হতে পারে।
নিম্নে কয়েকটি মুখের ব্যায়াম আলোচনা করা হলো যেগুলো জড়তা কাটি উঠার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
মুখের জড়তা কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত কিছু ব্যায়াম খুবই কার্যকরী। নিচে কয়েকটি সহজ ব্যায়াম দেওয়া হলো:
১. জিহ্বা ও ঠোঁটের ব্যায়াম
· জিহ্বা বাইরে বের করা: জিহ্বা যতটা সম্ভব বাইরে বের করে ৫ সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর ভিতরে নিন। ১০ বার করুন।
· জিহ্বা দিয়ে গাল স্পর্শ: জিহ্বা দিয়ে ডান গালের ভিতরে চাপ দিন, ৫ সেকেন্ড রাখুন, তারপর বাম গালে। প্রতিটি ১০ বার।
· ঠোঁট গোল করা ও টান করা: ঠোঁট গোল করে "ও" বলার মতো করুন, তারপর চওড়া করে হাসুন ("ই" বলার মতো)। ১০ বার।
২. চোয়ালের ব্যায়াম
· মুখ খোলা-বন্ধ: মুখ যতটা সম্ভব খুলুন, ৫ সেকেন্ড রাখুন, তারপর বন্ধ করুন। ১০ বার।
· চোয়াল ডানে-বামে: মুখ বন্ধ রেখে চোয়াল ডানে ও বামে ঘোরান। প্রতিটি দিকে ১০ বার।
৩. গাল ও মুখের পেশির ব্যায়াম
· গাল ফোলানো: মুখ বন্ধ করে দুই গালে বাতাস ভরে ফুলিয়ে দিন, ৫ সেকেন্ড রাখুন। ১০ বার।
· বাতাস এক গাল থেকে অন্য গালে: বাতাস ডান গাল থেকে বাম গালে নিন, ১০ বার।
· হাসি ও ভেংচি: জোরে হাসুন, তারপর মুখ বিকৃত করে ভেংচি কাটুন। ১০ বার।
৪. উচ্চারণভিত্তিক ব্যায়াম
· স্বরবর্ণ বলা: আ, ই, উ, এ, ও স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করুন, প্রতিটি ৫ বার।
· জিভ টুইস্টার: "র" ও "ল" দিয়ে কিছু শব্দ দ্রুত বলুন (যেমন: "লাল রঙের লালু")।
৫. শ্বাস ও রিলাক্সেশন
· গভীর শ্বাস: নাক দিয়ে গভীর শ্বাস নিন, মুখ দিয়ে ধীরে ছাড়ুন। ১০ বার।
· মুখ মালিশ: আঙুল দিয়ে গাল, চোয়াল ও কপালে হালকা মালিশ করুন।
কিছু টিপস
· প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে ৫-১০ মিনিট ব্যায়াম করুন।
· আয়নার সামনে করে করলে সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা বুঝতে পারবেন।
· শুরুতে ধীরে করুন, পরে গতি বাড়ান।
· যদি স্পিচ থেরাপি বা স্নায়বিক সমস্যা থাকে, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
মনে রাখবেন: নিয়মিত করলেই ফল পাবেন। ধৈর্য রাখুন এবং নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন।
