অলসতা।
কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
অলসতা আমাদের জীবনের এমন একটি জিনিস যা আমাদের জীবনকে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমনকি আমাদের উন্নতির পথে বাধা দিয়ে আমাদের জীবনকে অর্থহীন করে দিতে পারে। যে মানুষের মধ্যে এই অলসতা অধিক পরিমাণে দেখা যায় অর্থাৎ নির্দিষ্ট সীমার ঊর্ধ্বে যে মানুষটি অলস সেই মানুষটির জীবনে দেখা যায় কোন উন্নতি নেই বা কোন ক্রিয়েটিভিটি নেই। যেসব মানুষ নিজের উন্নতির পেছনে কাজ করে না শুধুমাত্র অযথা সময় ব্যয় করে তাদের কখনো উন্নতি হয় না। কিছু কিছু মানুষ দেখা যায় সারাদিন শুয়ে এবং ফোন ঘাটাঘাটি করেই সময় কাটিয়ে দেয়। এই সব মানুষের নিজের জীবনের কোন লক্ষ এবং উন্নতির চিন্তা নেই। এসব মানুষ শুধু জীবনের মূল্যবান সময় অলসতায় ব্যয় করে ফেলে। কিছু কিছু মানুষ দেখা যায় কোন কাজ করে না অথচ ভোরবেলা ঘুম থেকে না উঠে অনেক বেলা করে বা দুপুরে ঘুম থেকে উঠে আর রাতে না ঘুমিয়ে ফোন ঘাটতে থাকে আর অযথা সময় নষ্ট করে। এতে করে এইসব মানুষের যেমন উন্নতির কোন কাজ হয় না এবং জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট হয় তেমনি শারীরিকভাবেও অবনতি দেখা যায়।
অলসতায় সময় ব্যয় করলে শরীর ও একসময় অলস হয়ে পড়ে এবং কর্মক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। আর কর্ম না করে অলস ভাবে দিন কাটালে সেইসব মানুষকে অন্য কোন মানুষই পছন্দ করেনা আর এইসব মানুষের হাতে কেউ সময় কাটাতেও চায় না। কারন এইসব অলস মানুষ দেখা যায় নিজের সাথে সাথে অন্যদেরকেও অলসতার মধ্যে ঘিরে রাখতে চায় বিভিন্ন ক্রিয়েটিভিটি এবং উন্নয়নমূলক কাজ করতে বাধা দেয়। অলস ব্যক্তি যেমন নিজের উন্নতির জন্য কোন কাজ করে না এবং সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য অর্থ উপার্জনে বা ভালো কোন লক্ষ্য অনুযায়ী পরিশ্রম করে না তেমনি অন্যদেরকেও জীবনে উন্নতির ব্যাপারে কোনভাবে উৎসাহ দেয় না উল্টো আরো নিরুৎসাহিত করতে থাকে এবং অলসতা অনেক ভালো জিনিস এটাই বোঝাতে থাকে। অলস ব্যক্তি সবসময় পরিশ্রমকে অনেক বেশি ভয় পেয়ে থাকে তাই দেখা যায় দিনরাত বিভিন্নভাবে বিভিন্ন কাজকর্মকে তারা উপেক্ষা করে চলতে থাকে। কাজ না করে দিনরাত ভবঘুরের মত ঘুরে বেড়ায় সারাদিন ঘরে শুয়ে বসে সময় নষ্ট করে কিন্তু কোনরকম কোন কর্ম করার প্রয়োজন মনে করে না।
আসলে আমাদের জীবনে কর্ম করার খুবই প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের জীবনে সুন্দরভাবে বাঁচতে হলে এবং জীবনের প্রত্যেকটা প্রয়োজন মেটাতে হলে আমাদের কর্ম করতে হবে এবং অর্থ উপার্জন করতে হবে। নিজে অর্থ উপার্জন করে নিজের প্রয়োজন মেটানোর থেকে ভালো কাজ আর এই পৃথিবীতে হয়তো নেই। অন্যের ওপর কোনোভাবেই আমাদের নির্ভরশীল হয়ে থাকা উচিত নয়। যেসব ব্যক্তি অনেক বেশি অলস হয়ে থাকে তারা দেখা যায় সব সময় অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে এবং অন্যদেরকেই তাদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রেসার ক্রিয়েট করতে থাকে যা একদমই ভুল কাজ। আমাদের প্রত্যেকের উচিত জীবনের অলসতা কে ত্যাগ করে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে নিজের বিভিন্ন প্রয়োজন নিজে মেটানো এবং নিজের প্রয়োজনীয় অর্থ নিজে উপার্জন করে সেটা কাজে লাগানো। এছাড়াও অলসতা যেহেতু শরীরের বিভিন্নভাবে ক্ষতি করে তাই অলসতা ত্যাগ করে আমাদের দৈহিকভাবে পরিশ্রম করা অনেক বেশি প্রয়োজন, এতে যেমন আমাদের জীবনে উন্নতি হতে সাহায্য করে তেমনি শরীর সুস্থ রাখতে ও ভীষণভাবে সাহায্য করে থাকে।
অলসতা আমাদের জীবনের সবথেকে বড় শত্রু তাই একে বন্ধু মনে করে জীবন আশ্রয় দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। অলসতা নামক এই শত্রুকে আমাদের জীবন থেকে বিতাড়িত করে নির্দিষ্ট একটা সুন্দর জীবন যাপন করা উচিত। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজ করা উচিত এবং অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করে নিজের এবং নিজের পরিবারের সাহায্য করা উচিত। আর তেমনি রাতে অলস ভাবে মোবাইল ঘেঁটে বা অযথা অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে সময় নষ্ট না করে সময়মতো ঘুমিয়ে শরীরের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। আমরা যদি অলসতা না করে পরিশ্রম করি এবং তার সাথে জীবনকে সুন্দর একটা পরিকল্পনার মাধ্যমে চালনা করতে পারি তবে আমরা আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারব। তাই সব সময় যখনই আমরা বুঝতে পারব যে আমরা একটু অলস প্রকৃতির হয়ে যাচ্ছি বা অলসতা আমাদের জীবনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে তখনই সে অলসতাকে আমাদের জীবন থেকে আশ্রয়হীন করে দিতে হবে এবং অধিক পরিশ্রমই করে তুলতে হবে নিজেকে। কারন আমরাই পারি আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে এবং আমাদের জীবনকে নিজে পরিচালনা করতে।
আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।

