আধুনিকতা প্রতিনিয়ত আমাদের আয়ু ক্ষয় করছে।
কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
আমরা সেই বাবা দাদুর সময় থেকে বা তারও অনেক আগে থেকে যদি দেখি বা অনেক পুরনো সময়ের বিভিন্ন ধরনের বয়স্ক মানুষের কাছে গল্প শুনলেই বুঝতে পারবো আগেকার সময়ে এত সুবিধা এবং এত আধুনিক সমাজ কোনভাবেই ছিল না। সময় ছিল অনেক পিছিয়ে এবং আধুনিকতা ছিল অনেক দূরে। প্রত্যেকটা জিনিসের জন্য এবং প্রত্যেকটা কাজ করার জন্য অনেক বেশি পরিশ্রম করার প্রয়োজন হতো। বিদ্যালয় পড়াশোনা করতে যেতেও হয় পা হেঁটে বহুদূর আর না হয় সাইকেলের মাধ্যমে কষ্ট করে যেতে হতো। আর বিদ্যালয় গুলিও কাছাকাছি ছিল না ছিল বহু দূরে যেখানে যেতেই এক দুই ঘন্টা লেগে যেত। বাজার ঘাট ছিল অনেক দূর যেখান থেকে প্রতিদিন বাজার করে আনতে হতো কারণ তখন ছিল না কোন ফ্রিজের ব্যবস্থা, দীর্ঘদিন পর্যন্ত বাজার টাটকা রাখার কোন পদ্ধতিও ছিল না। তাই রোজকার বাজার রোজ করে আনতে হতো। অনেকের আবার দেখা যেত বাড়ির আঙিনায় উঠোনে বা পরিত্যক্ত জায়গায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি মাছ চাষ করা হতো। রান্না করত উনুনের জালে। আর সে উনুন ধরাতে গিয়েও প্রয়োজন হতো অনেক বেশি কাঠের।
সেই কাঠ আবার বিভিন্ন জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করে সেগুলোকে চেরাই করে প্রস্তুত করতে হতো জ্বালানোর জন্য। প্রতিটা কর্মে প্রতিটা ক্ষেত্রেই মানুষের ছিল প্রচুর পরিশ্রমের প্রয়োজন। তবে গ্রামের বিশুদ্ধ পরিবেশে মানুষ কিন্তু একটা আলাদাই প্রাণ পেতো আর মন খুলে শান্তিতে বাঁচতে পারতো। গ্রামের প্রাকৃতিক শাকসবজি, নদী-নালায় হয়ে থাকা মাছ এবং প্রত্যেক বাড়িতে লালন-পালন করা হাঁস-মুরগি এইসব খেয়েই মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচতে পারতো দীর্ঘ বছর পর্যন্ত সুস্থ ভাবে। আগেকার সময়ে সব কিছুর ছিল প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন করা প্রকৃতির সম্পদ যা আমরা ব্যবহার করে জীবন যাপন করতাম। কিন্তু বর্তমান সমাজ এতটাই আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়েছে যে আগেকার মত এখন আর অত কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না আর কোন কিছু করার জন্য। সমাজ প্রতিনিয়ত ভীষণভাবে আধুনিক হয়েছে এবং প্রত্যেকটি কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হয়েছে যা আমাদের জীবন যাপন ভীষণভাবে সহজ করে তোলে। বিভিন্ন ধরনের যানবাহন তৈরি হয়েছে যা আমাদের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে সাহায্য করে এবং কম সময়ে অনেক দূর পথ ঘুরেও আমরা চলে আসতে পারি।
দীর্ঘ পথ হাটাহাটি করার প্রয়োজন হচ্ছে না বর্তমান মানুষদের এমনকি রান্নাবান্না হয়ে গেছে ঘরের মধ্যে ভীষণ আধুনিক পদ্ধতির সাহায্যে। সংসারের বিভিন্ন ধরনের কাজ হয়ে গেছে এতটাই সহজ এবং সোজা যা এই আধুনিক সমাজে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রের দ্বারাই আমরা করে নিতে পারি। প্রতিদিনের বাজার ঘাট এখন সপ্তাহ মসে একদিন করে ঠান্ডা ফ্রিজে সংরক্ষণ করে খেতে পারি। যার কারনে জীবন যখন হয়ে গেছে ভীষণ সহজ এবং অলসতার পরিপূর্ণ। আসলে আমরা আমাদের এই আধুনিক সমাজকে যতই ভালো বলে মনে করি আসলে আমাদের এই আধুনিক সমাজ আমাদের জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো এবং দীর্ঘ সময় ভীষণভাবে কেড়ে নিচ্ছে। আগেকার সময় ছিল প্রকৃতিকে ঘেরা একটা সুন্দর জীবন যাপন যার মধ্যে ছিল না কোন যন্ত্র কোন কেমিক্যাল। আমরা একদম প্রাকৃতিক নির্ভেজাল খাবার খেয়ে বড় হতে পারতাম এবং দীর্ঘ আয়ুর সাথে সুন্দর জীবন যাপন করতে পারতাম। কিন্তু বর্তমানের অলসতাময় জীবন এবং এই আধুনিকতার ছোঁয়া আমাদের প্রতিনিয়ত নষ্ট খাবার অপুষ্টিকর এবং অস্বাস্থ্য পরিবেশ ও খাবারের মধ্য দিয়ে জীবনের সুন্দর সময়গুলি কেড়ে নিচ্ছে।
আগেকার সময়ের প্রকৃতির ঘেরা এবং প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল জীবনযাপনী ছিল আমাদের সঠিক জীবন যাপন কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা যে জীবন যাপন করি সেটা কোনোভাবেই স্বাস্থ্যকর এবং ভালো নয় যার ফলে প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে আমাদের আয়ু ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে আর আমরা অল্প বয়সে বিভিন্ন ধরনের রোগগ্রস্ত হচ্ছি। আসলে এই আধুনিকতা একদিকে যেমন আমাদের উপকার করছে অন্যদিকে তেমনি আমাদের জীবনে চরম ক্ষতি এনে দিচ্ছে। আগেকার মানুষের শরীর স্বাস্থ্য দেখা যেত বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত খুবই ভালো ছিল এমনকি তেমন কোন কঠিন রোগ ধরা পড়তেও দেখা যেত না কিন্তু বর্তমান সময়ে কম বয়স্ক মানুষদেরই বা ছোট বাচ্চাদের দেখা যাচ্ছে খুবই কঠিন রোগ। এর ফলস্বরূপ দেখা যায় আমাদের এই অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং অলসতামায় জীবন এছাড়াও অতিরিক্ত আধুনিক জীবনযাপন আমাদের জীবনের সুন্দর সময়গুলি একটু একটু করে কেড়ে নিচ্ছে। একদিকে যেমন আধুনিকতা আমাদের উপকার করছে অন্যদিকে তেমন এই আধুনিকতা আমাদের আয়ু ক্ষয় করছে।
ক্যামেরা পরিচিতি : Realme
ক্যামেরা মডেল : realme narzo 60 pro
ক্যামেরা লেংথ : 26 mm
আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।
