জীবনের ব্যর্থতা।
কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
আমাদের জীবনে যে সফলতা পাওয়া খুব একটা সহজ বিষয় নয় সেটা আমরা জীবন শেষেই বুঝতে পারি। সারা জীবনে বিভিন্ন কর্মের মধ্য দিয়ে আমরা জীবন অতিবাহিত করতে থাকি। তার মধ্যে বেশিরভাগ কর্মই থাকে আমাদের অন্যদের জীবনে আনন্দ দেওয়া, অন্যদের খুশি করা, অন্যদের চাহিদা মেটানো। আমরা আমাদের জীবনে সারা জীবনই অন্যের কথা ভাবতে ভাবতে জীবনটা পার করে দিই। খুব কমই মানুষ আছে এমন যারা জীবনে স্বার্থপর হয়ে নিজের কথা ভাবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে এবং দেখা যায় এরা অন্যের কথা একদমই ভাবে না। জীবনে অন্যের কথা ভাবতে ভাবতে এবং অন্যের জন্য সবকিছু করতে করতে অন্যের কথা এবং অন্যের সুখের কথা চিন্তা করতে করতে জীবন শেষে এক সময়ে এসব ব্যক্তি দেখে যে তারা জীবনে যেসব কাজ করেছে প্রত্যেকটা কাজে এবং প্রত্যেকটা চেষ্টায় ব্যর্থই হয়েছে। স্বার্থপর মানুষরাই একমাত্র জীবনের সফল হয় এবং এরাই নিজের জীবনের সব উদ্দেশ্য সফল করতে পারে। যেসব মানুষ শুধু অন্যের কথা ভাবে এবং অন্যের চিন্তা করে অন্যকে খুশি রাখার চেষ্টা করে চলে তারা একথা মোটেও ভাবে না যে অন্যদের সুখী করা মোটেও সহজ বিষয় নয়।
নিজে মরিয়া হয়ে অন্যের সুখের কথা ভেবে সারাজীবন কর্ম করে গেলে এবং নিজের সুখ শান্তি, শরীরের বিশ্রাম, ভালো খাওয়া দাওয়া, মনের ইচ্ছা পূরণের কথা না ভেবে শুধুমাত্র অন্যের জন্যই জীবনের সবকিছু বিসর্জন দিলে সেই ব্যক্তি থেকে একদিন শুনতে হবে যে,"তুমি আমার জন্য কি করেছ"? আর এই কথাটা শোনা যে কতটা বেদনাদায়ক সেটা যে শোনে সেই ভালো করে অনুভব করতে পারে। সারা জীবন মানুষের অনেক সিদ্ধান্ত এবং অনেক পদক্ষেপ নিতে হয় কিছু সংসারের মঙ্গল কামনার জন্য আবার কিছু উন্নতির জন্য, তবে আমাদের সব সিদ্ধান্ত যে সঠিক হবে বা সব সিদ্ধান্ত যে সবার পছন্দ হবে তার কোন গ্যারান্টি নেই। তবে পরিবারের সকলের সাথে আলোচনা করে জীবনের সব সিদ্ধান্ত এবং সংসারের মঙ্গল কামনা ও উন্নতির প্রত্যেকটা পদক্ষেপের সম্পর্কে আলোচনা করে নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। নয়তো আমাদের জীবনের পদক্ষেপ গুলি ভুল হয়ে গেলে আমাদের জীবন ব্যর্থতায় ভরে যাবে। যেমন ব্যর্থ হয় অসৎ পথে যাওয়া সন্তানের বাবা-মা। কিছু বাবা মা যতই চেষ্টা করুক না কেন পরিবারের মঙ্গল করার এবং পরিবারের সবার চাহিদা পূরণ করার তবুও তারা ব্যর্থ হয়। সন্তানকে সুন্দরভাবে মানুষ করার স্বপ্ন সব বাবা-মাই দেখে থাকে।
সন্তান জন্মের পর যখন একটু বুঝতে শুরু করে তখন থেকেই বাবা-মার সাধ্যমত তাকে সুন্দর শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রত্যেকটা সন্তান ভালো মানুষের মত মানুষ হয়ে উঠতে পারে না, তার মানে এই না যে বাবা মা খারাপ শিক্ষা দিচ্ছে। অনেক সময় বাবা-মা নিজেরাই বুঝতে পারে না সে কিভাবে তাকে কোন শিক্ষাটা দিতে হবে। বাবা-মায়ের অতিরিক্ত ভালোবাসা ও কখনো কখনো সন্তানের জন্য অমঙ্গল ডেকে আনে আর তার সাথে সন্তানের জীবনের ব্যর্থতা এবং বিভিন্ন অবনতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক বাবা-মা সন্তানকে ভালোভাবে মানুষ করতে পারেনা বা সৎ পথে চালনা করতে পারে না যার ফলে সন্তান কু সন্তানের পরিণত হয় এবং বাবা-মার একটা নির্দিষ্ট বয়সের পরে যখন দেখে যথেষ্ট চেষ্টার সত্ত্বেও সন্তান ভালো হচ্ছে না তখন তাদের জীবনের আসল ব্যর্থতা স্পষ্ট চোখের সামনে ফুটে ওঠে। সন্তানকে ভালো করে মানুষ না করতে পারা, সন্তানের চাহিদা পূরণ না করতে পারা, এমনকি সন্তানের জন্য সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ গড়ে না তুলতে পারা বাবা মায়ের জন্য অনেক বড় ব্যর্থতা।
একটা মানুষের জীবনে বিভিন্নভাবে ব্যর্থতা লক্ষ্য করা যায়, কিছু কিছু মানুষ তার জীবনে যেটা করতে চায় জীবনের যে সাফল্য অর্জন করতে চায় সেই সাফল্য অর্জন না করতে পারা তার জীবনের ব্যর্থতা। কিছু মানুষের তার জীবনের পছন্দের প্রিয় মানুষটির সাথে বিয়ে না করতে পারা জীবনের ব্যর্থতা, কিছু মানুষ তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে না যার ফলে তার জীবনে অনেক বড় একটা ব্যর্থতা থাকে। প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে কিছু না কিছু ব্যর্থতা থেকেই যায়। আমাদের প্রত্যেকটা ব্যর্থতা থেকে কিছু না কিছু শিক্ষা গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে চলা উচিত যাতে আমাদের জীবনে দ্বিতীয় বার ব্যর্থতা না আসতে পারে। আমরা আশেপাশে অনেক মানুষ এমন দেখতে পারি যারা বৃদ্ধ বয়সে এসে সারা জীবনের ব্যর্থতার কাহিনী আমাদের শুনিয়ে থাকে কিন্তু কখনো সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে জীবনে ভালো কিছু করার গল্প খুবই কম মানুষের মুখ থেকে শোনা যায়। আমাদের জীবন কখনোই আমরা কন্ট্রোল করতে পারব না তাই জীবনে ব্যর্থতা আসতেই পারে। কিন্তু সেখান থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করে সুন্দরভাবে জীবনটাকে পরিচালনা করা উচিত।
আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।

