ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখতে হবে।

in আমার বাংলা ব্লগ7 hours ago


কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।


17695743139835634692551576211447.png


সোর্স


আমাদের জীবন আমাদের সৃষ্টিকর্তার দান। আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদের জীবনটাকে অনেক সুন্দর ভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যেহেতু আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তারই সন্তান। কোন পিতা-মাতা চাই না যে তার সন্তান জীবনে দুঃখে থাকুক এবং দুঃখী জীবন যাপন করুক। প্রত্যেক পিতা-মাতা যেমন চেষ্টা করে যে তার সন্তানের জীবনটা সুখে শান্তিতে ভরিয়ে দিতে তেমন আমাদের পিতা-মাতার ঊর্ধে যে আমাদের সৃষ্টিকর্তা রয়েছে তিনিও সবসময় চেষ্টা করেন আমাদেরকে সুখে রাখার তাই আমাদের জীবনের প্রত্যেকটা পরিকল্পনা তিনি অনেক সুন্দরভাবে করে থাকেন। আমরা যেভাবে সুখে থাকবো আমাদের জীবনে সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য যে জিনিসটা প্রয়োজন আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদের ঈশ্বর সেটাই আমাদের দিয়ে থাকেন এবং সেই ব্যবস্থাই আমাদের জন্য করে থাকেন। আমাদের জীবনে যে সময়টা যে জিনিসটা প্রয়োজন ঈশ্বর সব সময় সেই জিনিসটা সেই সময় দিয়ে থাকেন আমরা যতই আগে থেকে সেই জিনিসটা পাওয়ার আশা করি বা প্রচেষ্টা করি না কেন ঈশ্বর তার সঠিক সময়ে আমাদের জীবনে সেই জিনিসটা দিয়ে থাকেন যাতে আমাদের ভালো হয়। আসলে প্রত্যেকটা জিনিসের একটা সঠিক সময় আছে যেটা আমরা না বুঝলেও ঈশ্বর সবকিছুই বোঝে।


এই পৃথিবীতে আর আমাদের জীবনে পিতা-মাতা ছাড়া কেউ এমন নেই যারা আমাদের ভালো চায় তাই পিতা-মাতা কে আমরা যতটুকু বিশ্বাস করি তার থেকে অধিক বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন ঈশ্বরের প্রতি। কারণ মানুষ মাত্র ভুল হলেও ঈশ্বর যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের জীবনটা সুন্দরভাবে পরিকল্পনা করেছেন তার দ্বারা কখনোই কোন ভুল হতে পারে না। তাই আমাদের কখনোই ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস না করে তাকে সন্দেহ করা কোনভাবেই উচিত নয়। আমাদের জীবনে যদি কোন চাহিদা পূরণ না হয় তবে অবশ্যই আমাদের এই বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন যে ঈশ্বর আমাদের চাহিদা পূরণ করছে না কারণ সে চাহিদার পেছনে হয়তো আমাদের কোন ক্ষতি লুকিয়ে আছে অথবা আমাদের চাহিদা পূরণের সঠিক সময় এখনো এসে পারেনি। এ সব সময় বলেন জীবন উন্নতি লাভ করতে গেলে সব সময় কঠোর পরিশ্রম করে চলতে হবে এবং লক্ষ্য অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হবে তবে সফলতা অবশ্যই পাবে। কিন্তু অনেক মানুষই দেখা যায় যারা পরিশ্রম অতটা করতে চায় না কিন্তু সফলতার আশা করে আর সফলতা না পেলে ঈশ্বরের ওপর রাগ দেখিয়ে তাকে দোষারোপ করতে থাকে।


কিন্তু আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে ঈশ্বর আমাদের একার নয় ঈশ্বর সবার জন্যই সমান তাই তার বিচার সবার ক্ষেত্রে সমান ভাবে হয়ে থাকে। তাই যে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে ঈশ্বর অবশ্যই তাকে ভালো ফল দেবে এবং যে পরিশ্রম করে না অলসতাই জীবন কাটায় তাকে তেমনি জীবন দেবে। আসলে আমাদের ঈশ্বরের ওপর কোনো রকমই সন্দেহ রাখা উচিত নয়। কারণ ঈশ্বর সবসময় আমাদের জীবনের সুখ শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করে, কিন্তু আমরাই অনেক সময় এমন এমন কাজ করে বসি যাতে আমাদের জীবনের সুখ শান্তি নষ্ট হয়ে যায় এবং আমাদের জীবনটা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। আমরা যদি আমাদের জীবনকে খারাপ ভাবে নিয়ন্ত্রণ না করে ভগবানের ইশারা বুঝি এবং সর্বদা সৎ ভাবে জীবন যাপন করি আর ভালো কর্ম করতে থাকি তবে অবশ্যই আমরা আমাদের সেই ভালো কর্মের ফল পাব আর তার সাথে আমাদের জীবনটা ঈশ্বরের আশীর্বাদের সুন্দরভাবে গড়ে উঠতে পারবে। আমাদের উচিত সবসময় আমাদের ভালো কর্ম করে যাওয়া আর অপরের উপকার না করতে পারি ক্ষতি কখনোই করা উচিত নয়।


আমরা যদি নিজের ভালোর কথা চিন্তা করে বা অতিরিক্ত লোভের আশায় কারোর ক্ষতি করে ফেলি তবে ঈশ্বর আমাদের ওপর রেগে যায় এবং আমাদের ওপর থেকে ক্রিপার দৃষ্টি আর সাহায্যের হাত সরিয়ে নেয়। তাই আমাদের যদি জীবনে সুখে শান্তিতে থাকতে হয় তবে অবশ্যই খারাপ কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে যাতে ঈশ্বরের প্রিয় সন্তান হয়ে আমরা থাকতে পারি। নিজের জীবনের সব সময় ভালো কর্ম করে চলতে হবে এবং অতিরিক্ত লোভের আশায় কখনো খারাপ কর্ম বা অন্যের ক্ষতি করা যাবে না। ঈশ্বরের ওপর সবসময় বিশ্বাস রাখতে হবে এবং কিছু কিছু সিদ্ধান্ত যেগুলো আমাদের ক্ষমতাই নেই বা যে কর্ম করার আমাদের কোন ক্ষমতা নেই সেগুলো অবশ্যই ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস করে তারপরেই ছেড়ে দিতে হবে। তাহলে ঈশ্বর আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে এবং সে কর্মগুলো সুন্দরভাবে করে দিতে পারবে। ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে আর এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে আমাদের থেকেও আমাদের জীবন সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে একমাত্র ঈশ্বর। তাই আমাদের শুধু ভালো কর্ম করে যেতে হবে আর ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখতে হবে।


আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।