সন্দেহ খুব বড় রোগ।

in আমার বাংলা ব্লগ17 days ago


কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।


17777900048831240929776830840488.png


সোর্স



সন্দেহ শব্দটি অনেক ছোট হলেও এর বিষাক্ত তা অনেক বেশি এবং বড়। সন্দেহ আমাদের মধ্যে যখনই জন্ম নেয় তখন ছোট থেকে বড় হতে শুরু করে আর আমাদের মনের শান্তি সুখ কেড়ে নেয়। আমরা যখন কাউকে সন্দেহ করতে শুরু করি তখন আমাদের অজান্তেই আমাদের মধ্যে একটা মানসিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং মানসিক অশান্তি তৈরি হতে থাকে। যা একটু একটু করে অনেক বড় হতে থাকে এবং এই মানসিক অশান্তির প্রভাবে আমরা অর্থাৎ যারা সন্দেহ করে তারা পাগল পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে মানসিক ভারসাম্য পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে। সন্দেহ খুবই বড় রোগ এই রোগটা অন্যান্য রোগের মত লুকিয়ে লুকিয়ে আমাদের শরীরে এবং মনে জন্ম নিতে থাকে। তবে আমাদের এই সন্দেহ রোগটি কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষার দ্বারা বোঝা যায় না বা ডাক্তারের কাছে গেলে কোন পর্যবেক্ষণের দ্বারা ধরা পড়ে না। সন্দেহ এমন একটা রোগ যে রোগটা শুধুমাত্র যে ব্যক্তি সন্দেহ করে ওই ব্যক্তির চারপাশে যে মানুষগুলো থাকে তারাই একমাত্র জানতে পারে। সন্দেহ রোগটি খুবই কঠিন এই রোগের তেমন কোনো ওষুধ থাকে না কিন্তু এই রোগ অনেক বেশি ভয়াবহ এবং ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে।


এই সন্দেহ অনেক সময় ক্ষণস্থায়ী হয় আবার অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী হয় আবার অনেক সময় সন্দেহ বাড়তে বাড়তে সারা জীবনের জন্য স্থায়ী হয়ে যায়। এই সন্দেহ কারণবশত আসে আমাদের জীবনে আবার কিছু কিছু সময় অকারণেও আমাদের জীবনে এই সন্দেহ রোগটি বাসা বাঁধে। বর্তমানে এই সন্দেহ রোগের অর্থাৎ মানসিক রোগের ডাক্তার পাওয়া গেলেও এবং চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া গেলেও এই রোগ থেকে সুস্থ হওয়ার খুবই কঠিন একটি কাজ। জীবনের সব রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া গেলেও এই সন্দেহ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া একদমই অসম্ভব জনক একটি ব্যাপার। কিছু কিছু মানুষ এমন আছে যারা সবকিছুতেই সন্দেহ করে অর্থাৎ কেউ যদি কোন ভালো কথা এসে বলে তাও তার সন্দেহ হয় যে সেই ভালো কথার পেছনে খারাপ কথা লুকিয়ে আছে বা তার কোন স্বার্থ লুকিয়ে আছে অথবা সে কোন মতলবে ওই ভালো কথাটি বলছে। সবকিছুর মধ্যে নেগেটিভিটি খোঁজা এবং সবকিছুর মধ্যে নেতিবাচক জিনিস দেখা এগুলো একটা মানসিক রোগ অর্থাৎ সন্দেহের লক্ষণ। আর এই নেগেটিভ চিন্তাভাবনা এবং সন্দেহ আমাদের জীবনকে কোনভাবেই পজিটিভ এবং সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে দেয় না।


কোন মানুষ যদি ভাল মনেও কোন কথা বলে, যা আমাদের জন্য ভালো তার মধ্যেও যদি আমরা সন্দেহ খুঁজি তবে এটা আমাদের মানসিক রোগের লক্ষণ। অনেকে আবার আছে সম্পর্কে সবসময় সন্দেহ করে অর্থাৎ নিজের প্রিয়জন প্রিয় মানুষ পরিবারের মানুষ এমনকি স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কেও প্রচুর পরিমাণে সন্দেহ করতে থাকে। স্বামী স্ত্রী বা যেকোনো সম্পর্কে যদি আমরা শুধুমাত্র সন্দেহ করতে থাকি তবে সেই সম্পর্ক কোনভাবেই সুন্দরভাবে গড়ে উঠতে পারবে না এবং সুন্দরভাবে চলতে পারবে না। অতিরিক্ত সন্দেহ সব সময় সম্পর্ককে নষ্ট করে দেয় আর তার সাথে সম্পর্কের ভিত্তি কোনভাবেই গড়ে তুলতে দেয় না। অতিরিক্ত সন্দেহ করলে সম্পর্কে মানুষ শান্তিতে এবং সুন্দরভাবে থাকতে পারে না যার ফলে সম্পর্কটা তিক্ততায় পরিণত হয় এবং যেকোনো একজন ব্যক্তি অবশ্যই সে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে। বিশ্বাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস যে কোন সম্পর্কের মধ্যে, আমরা যদি সম্পর্কে বিশ্বাস না রাখি তবে আমরা সেই সম্পর্ক কোনভাবেই দীর্ঘদিন পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো না আর এছাড়াও আমরা সেই সম্পর্কে গভীরতা কোনভাবেই গড়ে তুলতে পারব না।


যেকোনো সম্পর্কে যদি ভীষণ পরিমাণে সন্দেহ থাকে তবে সে সম্পর্ক পাতলা কাছের মত বা একদম সরু সুতোর মত হয়ে যায় যা একটু আঘাতে বা একটু টোকা লাগলেই ভেঙে যেতে পারে। বিশ্বাসের সম্পর্ক সবসময় মজবুত হয় এটা ভাঙ্গা খুবই কষ্টকর হয়ে যায় তাই যেকোনো সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস থাকা দরকার কিন্তু কোনভাবেই সন্দেহ থাকলে চলবে না। সন্দেহ যেমন সম্পর্ক নষ্ট করে তেমন আমাদের মানুষের শান্তি ও নষ্ট করে এবং আমাদের মানসিক রোগগ্রস্ত করে তোলে। তাই আমাদের সবসময় সন্দেহ থেকে দূরে থাকতে হবে আর সব সময় মানুষকে বিশ্বাস করার চেষ্টা করতে হবে। কখনো যদি কারোর আচরণ দেখে সন্দেহ হয় তবে অবশ্যই আমাদের সন্দেহ করা প্রয়োজন কিন্তু সেই সন্দেহ সব সময় নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত রাখাই ভালো। কখনো কাউকে অন্ধবিশ্বাস করা উচিত নয় প্রয়োজন পড়লে সন্দেহ করা প্রয়োজন কিন্তু অকারনে সন্দেহ করলে আমাদের কখনোই কোনো লাভ হবে না শুধুমাত্র ক্ষতি ছাড়া। তাই আমাদের সন্দেহ থেকে সব সময় দূরে থাকতে হবে এবং আমরা যেন কারোর প্রতি অতিরিক্ত সন্দেহ না করি এবং সন্দেহ করতে করতে মানসিক রোগগ্রস্ত হয়ে না পড়ি সেদিকেও আমাদের অবশ্যই খেয়াল রেখে মানসিক শান্তি বজায় রাখতে হবে।


আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।