একা থাকার অভ্যাস।

in আমার বাংলা ব্লগ2 days ago


কেমন আছেন "আমার বাংলা ব্লগ"এর সকল সদস্যরা? আশা করি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে সবাই খুব ভালো আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি একটি পোস্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি। আশাকরি আমার পোস্টটি পড়ে আপনাদের খুব ভালো লাগবে।


17807175309277739751697466107554.png


সোর্স



আমরা মানুষেরা সে পুরনো সময় থেকেই সমাজবদ্ধ জীব অর্থাৎ আমরা সবাই মিলেমিশে একসাথে বসবাস করতে পছন্দ করি। সেই পুরনো সময় থেকেই আমরা গোষ্ঠীবদ্ধ জীব হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান সময় এসে দেখা যাচ্ছে মানুষের মধ্যে হিংস্রতা এত বেশি বেড়ে গেছে যে মানুষ আর মিলেমিশে একসাথে বসবাস করতে পারছে না। এছাড়াও মানুষের চাহিদা বেড়েছে হিংসা বেড়েছে আর তার সাথে বেড়েছে অহংকার যার ফলে মানুষ মানুষের মিলেমিশে থাকার যে মানসিকতা সেটাও বর্তমানে আর দেখা যায় না। আর শুধু এই সমস্যাই নয় মানুষ এখন এতই ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে যে কখন কার ক্ষতি করে বসে সে ব্যাপারেও বিশ্বাস করা খুব কঠিন কাজ তাই কোন মানুষ অন্য কোন মানুষকে বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না যার ফলে মানুষ বর্তমানে মিলেমিশে থাকার চেয়ে একা নিজের মত নিজে ছোট পরিবারে থাকতে পছন্দ করে। যেখানে থাকে স্বাধীনতা, যা ইচ্ছে করার স্বাধীনতা এবং নিজের মতামতে চলার অধিকার।


আসলে আমাদের বর্তমান সমাজের যে পরিস্থিতি তাতে আমরা কেউ কারোর উপর যেমন বিশ্বাস করতে পারি না যে কে আমাদের ক্ষতি করবে আর কে আমাদের ভালো চাইবে সেই কারণে একা একা নিজের মতো থাকাই আমাদের জীবনের জন্য অনেক বেশি ভালো প্রমাণিত হয়। দেখা যায় বেশিরভাগ মানুষ যারা অন্যের ওপর নির্ভর করে থাকতে চায় না নিজের স্বাধীনতা নষ্ট করতে চায় না এবং মানুষকে কোনভাবেই বিশ্বাস করে না সেসব মানুষই বেশিরভাগ সময় একা হয়ে যায় বা একা থাকে। যারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে অর্থাৎ অন্যের কাছ থেকে সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণ ভরসা পায় না সেইসব মানুষই একা থাকার চেষ্টা করে। আবার অনেক সময় দেখা যায় যেসব মানুষ মিলেমিশে সবার সাথে চলতে পারেনা খুব হিংসুটে স্বভাবের হয়ে থাকে এবং জীবনে ত্যাগ করা অর্থাৎ নিজের কিছু শখ বা ইচ্ছা ত্যাগ করে সবার সাথে মিলেমিশে বসবাস করবে সে মানসিকতাই থাকে না তারা নিজের মতো একা থাকতে শুরু করে।


একা থাকার মধ্যে কিছু ভালো দিক রয়েছে আবার কিছু খারাপ দিক আমরা লক্ষ্য করতে পারি। বর্তমানে আমাদের চারপাশে এতটাই বিশ্বাসঘাতকের সংখ্যা বেড়ে গেছে যে আমরা বিশ্বাস করলে প্রতিনিয়ত ঢুকতে থাকবো। তারপরও অনেক সময় আমাদের বিশ্বাস করতেই হয় কিন্তু কিছু কিছু মানুষ এমনও আছে যারা একবার ঢুকে গেলে আর পরবর্তীতে কোনভাবেই কাউকে বিশ্বাস করতে চায় না এবং সবাইকেই এক দাঁড়িপাল্লায় মেপে নেয়। অর্থাৎ একজন যদি বিশ্বাসঘাতকতা করে ঠকায় বা কোন রকম ক্ষতি করে তবে সে আর দ্বিতীয়বার কাউকে বিশ্বাস করে না এবং সম্পূর্ণ একা হয়ে যায় এবং নিজস্ব একাকিত্বের জীবন যাপন করতে শুরু করে। এই সিদ্ধান্ত একটা উপকার রয়েছে যে দ্বিতীয়বার ঠকে যাওয়ার বা কারোর দ্বারা মানসিক শারীরিক বা আর্থিক কোন রকম ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তবে অন্যদিকে এই একা থাকা মানুষগুলোর মধ্যে দেখা যায় ভীষণ রকমের মানসিক ভারসাম্যহীনতা।


অর্থাৎ এই মানুষগুলি একা থাকতে থাকতে এতটাই একঘেয়ে হয়ে যায় যে তারা কোনরকম কারো সাথে মানিয়ে চলতে পারে না এবং নিজের একটা আলাদা জগত তৈরি করে নেয়। আর সেই জগতে তারা নিজেদের জীবন নিজেদের মতন চালনা করতে থাকে। তবে দীর্ঘ জীবন একা থাকতে থাকতে মানুষের মধ্যে বিষন্নতা অস্থিরতা ও মনোরোগ ভীষণভাবে হতে দেখা যায়। কিছু কিছু মানুষ যেমন কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না এবং খুবই খিটখিটে মুখরা হয়ে যায় আবার অন্যদিকে কিছু মানুষকে দেখা যায় অচেনা কোন মানুষ পেলেও তার কাছে মনের সব কথা বলতে শুরু করে এবং একাকী থাকার যে বেদনা সেটা সম্পূর্ণ তাকে জানাতে শুরু করে, তাই এর ফলে পরবর্তীতে এসব মানুষের ও সুযোগের সদ্ব্যবহার কিছু মানুষ করতে শুরু করে। শেষ বয়সে আবার দেখা যায় এই একা থাকা মানুষগুলো অনেক বেশি অসহায় এবং নিরুপায় হয়ে পরে। আর এই কারণেই বৃদ্ধ বয়সে একাকী কাটানো মানুষগুলি বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা সম্মুখীন হতে থাকে।


আশা করি আজকের পোস্টটি আপনার খুব ভালো লেগেছে। আর ভালো লাগলে কমেন্ট করে অবশ্যই আমাকে জানাতে ভুলবেন না।