দাদু-দিদার মুখে শোনা গল্প

ChatGPT Image Apr 26, 2026, 03_19_13 AM.png

Image Created by OpenAI

ছোটবেলার সেই সন্ধ্যাগুলো কি আজও মনে পড়ে? যখন পড়ার টেবিল থেকে উঠে আমরা ছুটে যেতাম দাদু-দিদার পাশে, শুধুমাত্র একটা গল্প শোনার আশায়। সেই গল্পগুলো ছিলো না কোনো বইয়ের পাতায় বাঁধা, সেগুলো ছিলো জীবনের অভিজ্ঞতা, কল্পনা আর ভালোবাসার মিশ্রণে তৈরি এক অমূল্য সম্পদ। দাদু-দিদার গল্প শুধু বিনোদনের জন্য ছিল না, বরং প্রতিটি গল্পের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতো গভীর জীবনবোধ। কখনো সততার শিক্ষা, কখনো সাহসের গল্প, আবার কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর বার্তা, এই সবকিছুই খুব সহজভাবে পৌঁছে যেত আমাদের ছোট্ট মনে। এইগুলো শৈশবে আমাদের মনে গভীর প্রভাব ফেলত। রাক্ষস, খোক্কস, ভূত-প্রেত কিংবা রাজা-রানির গল্প, এসব ছিল আমাদের কল্পনার ডানা মেলার সেরা মাধ্যম।

দিদার কণ্ঠে যখন ভৌতিক গল্প শুনতাম, তখন ভয়ে গা শিউরে উঠলেও, পরের দিন আবার সেই গল্প শোনার জন্যই অপেক্ষা করতাম। এই গল্পগুলো শুধু গল্প ছিল না, বরং দাদু-দিদার সাথে আমাদের সম্পর্কের এক শক্ত বন্ধন তৈরি করতো। তাদের কোল ঘেঁষে বসে গল্প শোনা মানেই ছিলো নিরাপত্তা, ভালোবাসা আর এক অদ্ভুত প্রশান্তি। আজকের দিনে মোবাইল, টিভি আর ইন্টারনেটের ভিড়ে সেই গল্প শোনার সময় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। শিশুরা এখন ইউটিউব কিংবা গেমস নিয়ে ব্যস্ত, ফলে দাদু-দিদার মুখে গল্প শোনার ঐতিহ্য ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দাদু-দিদার মুখে শোনা গল্প শুধু আমাদের শৈশবকে রঙিন করে তোলেনি, বরং আমাদের মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলেছে।