পুরনো দিনের ডায়েরি ( পর্ব ২০ )
Image Created by OpenAI
আপনাদের সাথে "পুরনো দিনের ডায়েরি" গল্পের ২০ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। রাহুলের সবকিছু শোনার পরে এটা মানতে খুবই কষ্ট হচ্ছিলো যে, তার বাবা কাউকে কিছু না বলেই চলে গিয়েছিলেন। ট্রেনে বসে যেতে যেতে আবারো ডায়েরির আরেকটি পাতার কথা মনে পড়লো- যদি কোনোদিন আমার সন্তান এই ডায়েরি পড়ে, সে কি আমাকে ক্ষমা করবে? রাহুল ট্রেনের জানলার কাঁচে মাথা ঠেকিয়ে বিষন্ন দৃষ্টিতে বাইরে তাকিয়ে দেখে যাচ্ছে আর ভাবতে লাগে যে, ক্ষমা করা কি এতটাই সহজ? রাহুল সন্ধ্যার একটু আগেই বাড়িতে পৌঁছে গেলো এবং সে আবারো তার বাবার ঘরে ঢুকে আলমারিটা আবারো খুলল। কারণ তার মনে যে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, সেটা অবশ্যই এই আলমারির মধ্যেই পাওয়া যাবে।
সেখানে পুরোনো যতো জিনিষ ছিল, সব উল্টাপাল্টা করে এদিক-ওদিক করে ফেললো, কিন্তু বৃদ্ধ লোকটির কথা অনুযায়ী মালতির ডায়েরির কোনো হদিশ নেই। এরপর একটু মাথা ঠান্ডা করে কিছুক্ষণ বসে নিয়ে ভাবলো, এইবার মাকে সবকিছু জানিয়ে দেওয়া উচিত, নাহলে পরে আর বলা হবে না। সন্ধ্যার পরে তার মাকে চা দিতে গিয়ে বলবে বলে ভাবছিল। এরপর বললো মা-তুমি কি বাবার জীবনের সবকিছুই জানতে? রাহুলের মা হঠাৎ এই প্রশ্ন শুনে থমকে গেলো, কারণ এইরকম প্রশ্ন কেউ তাকে করেনি। একটু অদ্ভূত শোনাল, যাইহোক- তারপর বললো, এইরকম প্রশ্ন কেনো? রাহুল তখনও বিষয়টা বলতে ইতস্তত বোধ করতে লাগলো, কারণ সে আসলে কিভাবে বলবে সবকিছু অর্থাৎ ডায়েরির কথা আর সবথেকে বড়ো বিষয়, মালতির কথা কিভাবে তুলব? এরপর রাহুলের মা নিজেই চা খেতে খেতে বললো- তোর বাবা খুবই চুপচাপ মানুষ ছিল এবং সবকিছু কাউকে খুলে বলত না।....
